ব্রিকলেইন ও হোয়াইটচ্যাপেলে ‘জেন্ট্রিফিকেশন’

107

আবদুল হাই সনজু

যে নগর পরিকল্পনার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘর-বাড়ির মূল্য ও ভাড়া বেড়ে যায় এবং স্বল্প আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়, তাকে ইংরেজীতে বলা হয় ‘জেন্ট্রিফিকেশন’। এটি নগর পরিকল্পনার একটি বিতর্কিত দিক। সেন্ট্রাল লন্ডনের লাগোয়া এলাকা ব্রিকলেইন ও হোয়াইটচ্যাপেলে ‘জেন্ট্রিফিকেশন’ হচ্ছে দ্রুত গতিতে। এর ফলে ওই এলাকা ছেড়ে স্বল্প আয়ের ইমিগ্র্যান্ট বাঙালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বাঙালি মুসলমানদের বসতি ও ব্যবসা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকার মসজিদগুলোতেও ভবিষ্যতে মুসল্লি কমে আসবে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গার অপর্যাপ্ততা ও সময় স্বল্পতার কারণে মুসল্লিরা দূর থেকে এসে ব্রিকলেইন জামে মসজিদ কিংবা ইস্ট লন্ডন মসজিদে ধর্মীয় আচার পালন করতে নিয়মিতভাবে উৎসাহিত হবেন-এই কথা জোর দিয়ে বলা যায়না।

বাংলাটাউন এলাকার ব্রিকলেইনে অবস্থিত ‘বাংলা সিটি’ নামের সুপার মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। ব্রিকলেইন মসিজদের বিপরীতে অবস্থিত ওই জায়গায় নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘প্রিমেয়ার ইন’ নামের চেইন হোটেলের একটি শাখা। ২১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে নির্মিতব্য পাঁচ তলার ওই হোটেলে থাকবে ১৮৯ টি কক্ষ। একটি কক্ষের সর্বনিম্ন ভাড়া হবে দৈনিক ৪৯ পাউন্ড। হোটেলটির সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দিক হবে স্বল্প খরচে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা। হোটেলের বাসিন্দারা নিজের স্মার্টফোনের অ্যাপ কিংবা আপেলওয়াচের মাধ্যমে নিজ কক্ষের বাতি, কক্ষের তাপমাত্রা ও টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন; আবার নিজ কক্ষের স্মার্ট টেলিভিশনের স্ক্রিনটিকে মোবাইল কিংবা টেবলেটের স্ক্রিন হিশাবেও ব্যবহার করতে পারবেন।

কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ!