পাকিস্তানকে নাড়িয়ে দিয়েছে যে তথ্যচিত্র

119

৮৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘আ গার্ল ইন দ্য রিভার: দ্য প্রাইস অফ ফরগিভনেস’ সিনেমাটি। পাকিস্তানি নির্মাতা শারমিন ওবায়েদ-চিনয় তুলে ধরেছেন পাকিস্তানে ‘অনার কিলিং’ বা জাত্যাভিমান রক্ষায় হত্যার রোমহর্ষক চিত্র যা প্রশ্ন তোলে দেশটির আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে নিজের আত্মীয়রাই মেরে ফেলার চেষ্টা করে ১৯ বছর বয়সী তরুণী সাবাকে। শেষ মুহূর্তে মাথা সরিয়ে ফেলায় পরিজনদের বন্দুক থেকে বেরিয়ে আসা ঘাতক বুলেট তার করোটিতে না ঢুকে চোয়াল ঘেষে বেরিয়ে যায়। আর এভাবেই নেহাত ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান সাবা।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এই তরুণী। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দিয়েই পার পেয়ে যায় তারা।

অস্কারের আগে এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মাতা বলেছিলেন, “যদি এই তথ্যচিত্র অস্কার জেতে তবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবটি যে শুধু পাকিস্তানি নারীদের ওপরই পড়ে না, পুরো বিশ্বে নারীদের জন্যই যে এটি একটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার – সেটি আরো প্রকটভাবে ধরা পড়বে।”

শুধু আন্তর্জাতিক মহলেই নয়, তার এই তথ্যচিত্রটি নাড়া দিয়েছে পাকিস্তানি প্রশাসনকেও। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ নিজে নির্মাতার সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস দিয়েছেন এ রকম ভয়ানক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার।

অস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত শারমিন ওবায়েদ-চিনয় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটাই ঘটে যখন মানসিক দৃঢ়তাসম্পন্ন নারীরা একতাবদ্ধ হন”। নারীদের সাহসিকতার পাশাপাশি তিনি প্রশংসা করেন সেই পুরুষদের যারা নারীর অধিকার আদায়ে তাদের পাশে দাড়ান।

“সে সব সাহসী পুরুষের জন্য আমি গর্ব বোধ করি, আমার বাবা এবং আমার স্বামীর মতো যারা নারীকে স্কুলে এবং কর্মক্ষেত্রে সচল হবার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।”

তিনি আরো বলেন, “এটাই সিনেমার মূল শক্তি।”

অস্কারের মঞ্চে শারমিন ওবায়েদ-চিনয় নতুন মুখ নন। ২০১২ সালে পাকিস্তানে এসিড সন্ত্রাসের শিকার নারীদের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘সেভিং ফেইস’ তাকে এনে দিয়েছিল প্রথম অস্কারের সাফল্য।