রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম: হাই কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শুরু ২৭ মার্চ

90

সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান নিয়ে দেওয়া রুলের ওপর ২৭ মার্চ হাই কোর্টের বৃহ্ত্তর বেঞ্চে শুনানি শুরু হচ্ছে।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম: হাই কোর্টের রুল শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চে বিচারপতি নাইমা হায়দার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের সোমবার শুনানির এ দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল।

একইসঙ্গে এ বিষয়ে মতামত দিতে জ্যেষ্ঠ ১৪ আইনজীবীকে অ্যামিচি কিউরি হিসেবে মনোনীত করে ২০১১ সালের দেওয়া আদেশ প্রত্যাহার করেছে হাই কোর্ট।

আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক। উপস্থিত ছিলেন কামাল হোসেনও, যাতে অ্যামিকাস কিউরিয়া হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।

জগলুল হায়দার বলেন, “আদালত ২৭ ও ২৮ মার্চ শুনানির জন্য দিন রেখেছে। আগে ১৪ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগের আদেশটি প্রত্যাহার করেছেন। ধার্য তারিখে নতুন করে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।”

সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনকালে কার্যত বিরোধী দলবিহীন চতুর্থ জাতীয় সংসদে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন হয়।

এর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২ (ক) যুক্ত হয়। ২ (ক)-তে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’।

ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখনই ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশে নানা ধর্মবিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক।”