অস্কারের অবিস্মরণীয় দশ মুহূর্ত

119

অস্কারের প্রতি আসরেই জন্ম নেয় স্মরণীয় নানা গল্প, ঘটনা। অস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমেই ইতিহাসের অংশ হয়ে দাড়ান তারকারা। তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় যেগুলো নিজেই সৃষ্টি করে ইতিহাস।

ঐতিহাসিক সেলফি

২০১৪ সালের অস্কার আসরে উপস্থাপক এলেন ডিজেনারাসের আইফোনে তোলা এই সেলফি বিশ্বজুড়ে ঝড় তোলে। সবচেয়ে বিখ্যাত সেলফির খ্যাতি পেয়েছে এটি। সর্বকালের সর্বাধিক রি-টুইট করা ছবির রেকর্ড গড়ে অল্প সময়ে। এক ছবিতেই বন্দি হন কয়েক প্রজন্মের তারকা। মেরিল স্ট্রিপ থেকে শুরু করে শ্যানিং ট্যাটাম – সবাই একসঙ্গে। ছবিটি তোলেন ব্র্যাডলি কুপার। সঙ্গে মেরিল স্ট্রিপ, শ্যানিং ট্যাটাম, জেনিফার লরেন্স, জুলিয়া রবার্টস, ব্র্যাড পিট, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, জুলিয়া রবার্টস, জেনিফার লরেন্স, জ্যারেড লেটো, কেভিন স্পেসি এবং লুপিতা নিয়ঙ্গ।

কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রীর অস্কার জয়

কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হিসেবে হ্যালি বেরিই প্রথম সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জেতেন ২০০২ সালে। মঞ্চে পুরস্কার হাতে নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রায় মিনিট খানেক কোনো কথা বলতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে অশ্রুভেজা কণ্ঠেই বলতে শুরু করেন তার পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি। কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে পুরস্কার হাতে তিনি জানিয়ে দেন দরজা ‍খুলে গেছে, এবার সুযোগ এসেছে। তার সঙ্গে কাঁদতে দেখা যায় আরো অনেককেই।

গর্ভ থেকেই অস্কারে

‘ব্ল্যাক সোয়ান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১১ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম মনোনয়ন ও পুরস্কার পান নাটালি পোর্টম্যান। সে সময় গর্ভে ছিলেন তার ছেলে আলেপ পোর্টম্যান-মিলেপিড। পুরস্কার গ্রহণের চার মাস পর জন্ম হয় তার। আলেপের বাবা বেঞ্জামিন মিলেপিড পেশায় নৃত্য নির্দেশক, নাটালির সঙ্গে তার পরিচয় ও পরিণয় ‘ব্ল্যাক সোয়ান’-এর শুটিংয়ের সময়।

বন্ধুত্বের জয়গান

ম্যাট ডেমন ও বেন অ্যাফ্লেক অভিনেতা হিসেবেই সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত। তবে এই দুই বাল্যবন্ধু  অল্প বয়স থেকেই নাটক, সিনেমায় নানা ভূমিকায় কাজ করছেন। ম্যাট ডেমন থিয়েটার নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়াশোনা করেছেন। এই দুজনে মিলে অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখেন ‘গুড উইল হান্টিং’ সিনেমার। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর বক্স অফিসের পাশাপাশি পুরস্কার আসরগুলোতেও ঝড় তোলে। ১৯৯৮ সালের অস্কার আসরে ম্যাটে ডেমন সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন। তবে খালি হাতে ফেরেননি বেন। সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য লেখার জন্য যৌথ পুরস্কারের ভাগীদার হন তিনি।

অর্ধ শতকের জনপ্রিয়তা

বহুমুখী শিল্পী জুলি অ্যান্ড্রুস অভিনীত ‘সাউন্ড অফ মিউজিক’ সেরা চলচ্চিত্রসহ পাঁচটি অস্কার জেতে। ৫০ বছর আগের সিনেমাটি এখন ধ্রুপদী সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত। অভিনেত্রীর প্রতি উৎসর্গ করে ২০১৫ সালের অস্কার আসরে লেডি গাগা যখন গাইছিলেন সেই গান – ‘সাউন্ড অফ মিউজিক’, অভিনেত্রী তখন দর্শক সারিতে বসে কাঁদছিলেন। পরে মঞ্চে লেডি গাগার প্রসংশা করেন জুলি অ্যান্ড্রুস।

সর্বোচ্চ মনোনয়ের পদকধারী

কেইট উইন্সলেট প্রথম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে ১৯৯৮ সালের অস্কার আসরে পা দেন। সে বছর পুরস্কারটি তিনিই জেতেন। এরপর ২০০৯ সালে এসে দেখা যায় সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে সব্বোর্চ ছয়বার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। এ বছর সেই সংখ্যা আরো বেড়েছে। ‘স্টিভ জবস’-এ অভিনয়ের জন্য মনোনীতদের তালিকায় আছেন তিনি।

শৈশব থেকেই লাল গালিচায় পা

অভিনেতা-প্রযোজক জন ভয়েটের হাত ধরে দুই ভাইবোন জেমস হ্যাভেন ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির অস্কার অভিষেক হয় ১৯৮৬ সালে। জোলির বয়স তখন ১১ বছর। এর চার বছর আগে বাবার সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। আর প্রথম অস্কার জেতেন ১৯৯৯ সালে, ২০০৮ সালেও একবার মনোনয় পান তিনি।

শিকে ছিঁড়লো না

১৯৮৩ সালে মা জেইড ব্যারিমোরের হাত ধরে আট বছর বয়সী ড্রিউ ব্যারিমোর প্রথম অস্কার অনুষ্ঠানে পা রাখেন। এর আগেই তার অভিষেক হয় হলিউডি সিনেমায়। বিখ্যাত শিল্পী পরিবারের সন্তান হিসেবে পর্দায় তার অভিষেক হয় মাত্র ১১ মাস বয়সে। অভিনয় শুরুর দুই দশক শেষে এসে পরপর দুবার অস্কারের জন্য মনোনীত হলেও পুরস্কার জোটেনি এখনও।

পায়ের ফাঁকে

সান্ধ্য পোশাকের ফাঁক দিয়ে পা বের করে ছবি তোলার ভঙ্গির আবিষ্কর্তা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ২০১২ সালের অস্কার আসরে ওই ভঙ্গির জন্ম দেন জোলি। এ সময় তাকে সঙ্গ দেন ব্র্যাড পিট। সে বছর পুরো অনুষ্ঠানেই ক্যামেরার চোখ ছিলো তার পায়ের দিকে। পরবর্তীতে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে তার এই ভঙ্গি।

কাপড় খুলেও শেষ রক্ষা হলো না

২০১৫ সালের অস্কার আসরে সঞ্চালনার সময় এক পর্যায়ে শুধু মোজা আর সাদা অর্ন্তবাস পরে হাজির হন নিল প্যাট্রিক হ্যারিস। অনুষ্ঠানের মাঝপথে ‘বার্ডম্যান’-এর একটি দৃশ্যের অনুকরণে এ ঘটনা ঘটান তিনি। এলএ টাইমসের অস্কার পর্যালোচনায় এই ঘটনাটিকে উল্লেখ করা হয় ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে। বলা হয় চমক থাকলেও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছেন হ্যারিস।