ছান্দসিক-এর মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিভাষ্য ‘বীরাঙ্গনা’ কথন শেষে

163

 

 

।। বিশেষ প্রতিবেদন ।।

ছান্দসিক-এর অঙ্গীকার ছিল স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের দোসরদের মুখোশ উন্মোচন করা। আরো ছিল তাদের নব্য দোসরদের চিহ্নিত করা। ছান্দসিক যে অঙ্গীকার করেছিল তা ‘বীরাঙ্গনা’কথন মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিভাষ্য উপস্থাপন করে সামান্য পুরণ করলো। পনের দিনের ব্যবধানে কবি নজরুল সেন্টারে ৮এপ্রিল ২য় বার উপস্থাপনা, তাও টিকেট বিক্রি করে সাহস দেখানোটাও প্রত্যয়শীল ছিল।

দ্বিতীয় উপস্থাপনাটির জন্য সর্বাধিক ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সৌধ’এর অন্যতম সংগঠক কবি টি এম আহমেদ কায়সার। তিনি প্রথম উপস্থাপনাটির সফলতা শুধু নয়,এর সুদূরপ্রসারি মানবিক বার্তাটিকে আরো ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন।লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় কবি নজরুল সেন্টারে ৮ এপ্রিল উপস্থাপনের ব্যবস্থা করে দেন। অনুষ্ঠানের কিউরেটর হিসেবে টি এম কায়সার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অন্য একটি অনুষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে পড়ায় সময় হয়ে ওঠেনি। আসতে না পারলেও শুভ কামনা ছিল নিখাদ।

এ দ্বিতীয় উপস্থাপনার অনুষ্ঠানকে শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত হয়ে আলোকিত করেছিলেন বিবিসির বিশিষ্ট সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি সামনে বসছিলেন না, চলে যাবেন তাই। কিন্তু যেতে পারেননি। তার ভাষায় —‘শৈল্পিক উপস্থাপনা ও পরিশীলিত পরিবেশনা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিভাষ্য’ তাকে আবিষ্ট করে আটকে রাখে। আরো ছিলেন স্থানীয় সরকার নিরবাচনে ব্যস্ত প্রার্থী সৈয়দা সায়েমা আহমদ। ছিলেন নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক কমী জেহীনসহ আরো অনেকে। ছিলেন ড. রোয়াব উদ্দিন,এসেছিলেন জয়শ্রী দত্ত। এসেছিলেন অপু রায়,আকাশ ইসহাক,মুজিবুল হক মনি, রুবি হক। দ্বিতীয়বার এসেছিলেন সাংবাদিক আবু মুসা হাসান,সাংবাদিক আবদুস সাত্তার, আবদুল কাইউম ও নীলুফা ইয়াসমীন হাসান। নীলুফা ইয়াসমীন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণে কেঁদে ফেললেন। মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত এতো গভীর তা ভাবাও কঠিন যেন। তা নীলুফা ইয়াসমীনের মত জয়শ্রী দত্তের ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠ করলে আরো বেশি বুঝা যায়।

কিন্তু এ সামান্য কথা বলে এ  অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে সুধীজনের মন্তব্যকে তুলে না ধরলে তার অসামান্যতাকে উপলদ্ধি করা  যাবে না, মনে হবে কি যেন উচ্চারিত হলো না বা হয়নি। ফেইসবুক স্ট্যাটাসে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া বিশিষ্টজন জয়শ্রী দত্ত যে মন্তব্য করেছেন তা প্রাণ ভোমরার মত উদ্দীপ্ত।তিনি বললেন,–

‘গত পরশু অনুষ্ঠান শেষে মুনিরা আপা যখন জানতে চাইলেন কেমন লাগলো অনুষ্ঠান, কিছুতেই ভালো বলতে পারছিলাম না! কেন কি ‘ভালো’ তো আমরা তাকেই বলি যখন কিনা কিছু আমাদের মনের আনন্দ যোগায়, অশ্রু- টলমল চোখ নয়!

ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী,রিনা কিংবা তারা ব্যানারজী দের দিনের পর দিন,মাসের পর মাস পাক-ক্যাম্পে অবরুদ্ধ অবস্থায় রক্তাক্ত আর অত্যাচারিত হবার লোমহর্ষক গল্পগাঁথা পিন পতন নিরবতায় শুনবার পরে আমরা যে তখনও ৭১ এর ঘোরের মধ্যে রয়ে গেছিলাম, বীরাঙ্গনাদের গগন বিদারী কষ্ট আর চিৎকার যেন পাক- ক্যাম্প থেকে ভেসে এসে কবি নজরুল ইসলাম সেন্টারের ছোট্ট সেদিনের হলটাতে আছড়ে পড়ছিল! লোমহর্ষক আর অশ্রুপাতের এই ইতিহাস শোনার পরে কি করে বীরাঙ্গনাদের গল্পকে ‘ভালো’ বলা যায় আমি জানি না!

এ যে ভয়াবহ মর্মস্পর্শী! এমন ই শাশ্বত পাঠ ছিল যেন শুনতে শুনতে এমন মনে হচ্ছিলো আমিও তাঁদের একজন! প্রতিটি পাঠের মাঝখানে এমন করুণ সুরের লহর আর গানের বাণী সেই গল্প গুলোকে আমাদের কানে আর চোখে যেন আরও জীবন্ত করে তুলছিল!

ছান্দসিক এর কবি ও শিল্পীরা বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয় নিংড়ানো আকুতি আর সীমাহীন লাঞ্ছনার ইতিহাস পাঠ করে এই বিদেশ বিভূঁইয়ে কমিউনিটির মাঝে যেভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, নিঃসন্দেহে তার ভূয়সী প্রশংসার দাবীদার।

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিরা এই লন্ডনে এতই সঙ্ঘবদ্ধ যে বিদেশে বসেই হাজারো চেষ্টা করে যায় এই ধরনের অনুভূতিপ্রবণ গৌরবের ইতিহাসকে মিথ্যাচার দিয়ে ভূলুণ্ঠিত করতে, ক্রমাগত হুমকি আর উষ্মা প্রকাশের মাধ্যমে তারা ছান্দসিক এর মতো সকল সংগঠন এর সাহসী আয়োজন কে নিস্তব্ধ করে দিতে চায় প্রায়শই! এত বাধা বিপত্তির পরেও ছান্দসিক-এর এই বীরোচিত আয়োজন ‘বীরাঙ্গনা’র ক্রমশঃ প্রচার চলতে থাকুক নিরন্তর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম !অশেষ শুভ কামনা ছান্দসিক এর জন্যে। অসীম ভালোবাসা!’

উত্তরে মুনিরা পারভীন লিখলেন—‘আপু, আমি কি যে খুশী হয়েছি ওইদিন আপনাদের দেখে। আপনি আমাদের এত যত্ন করে ছবি তুললেন,এত সুন্দর করে অনুষ্ঠান সম্পর্কে লিখলেন। জীবনে এসব আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার। ঋণী করে দিলেন আমাদের। ওইদিন একটি পার্টিতে  দেখা হল,মাসিমার কাছ থেকে,৭১এর সেই ১৪দিনের ভারত যাত্রা পথের বিভীষিকাময় গল্প শুনলাম,আর কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে পুরো সময়টা কেটে গেল। ওইদিনই কেমন আরো বেশী আপন লাগছিল আপনাদের,আর আজ দেখতেই পেলাম সেটা আপনার লেখায়,ছবিতে,,,,,,,আমরা আমাদের ইতিহাস বলেই যাব,সে যত বাধাই আসুক,জোঁকের মুখে নুন দিয়েই যাব আমরা,এতে যারা রক্তাক্ত হয়,তারা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠুক। লেজ লুকিয়ে রাখা বড় কঠিন।’

হামিদ মোহাম্মদ এতে কমেন্ট করলেন ‘আমাদের সংগ্রামকে কেউ যখন ধারণ করে তখন আমাদের শক্তি আরো বৃদ্ধি পায়। জয়শ্রী দত্ত এমনি অনুপ্রেরণা দিলেন। ছান্দসিক-এর উচ্চারণ আরো গতিশীল বেগবান হলো। অশেষ ধন্যবাদ জয়শ্রী দত্তকে ‘

অন্যদিকে বীরাঙ্গনা কথন মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিভাষ্য উপস্থাপনের প্রতিক্রিয়া পর্বে বিশিষ্ট সাংবাদিক নীলুফা ইয়াসমীন হাসান বললেন–‘ সময়োপযোগী একটা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ছান্দসিককে ধন্যবাদ।

তিনি বলেন. বীরঙ্গনাদের অগ্নিভাষ্য নিয়ে এটা ছান্দসিকের দ্বিতীয় আয়োজন। জঘন্যতম গণহত্যা দিবস ও প্রতিরোধের দিন গত ২৫ শে মার্চও ছান্দসিক অগ্নিভাষ্য আয়োজন করেছিল। এতোক্ষণ বাচিক শিল্পীদের মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিভাষ্য শোনার পর আর বলার কিছু থাকে না।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী এই নারীদের বীরাঙ্গনা নামে অভিহিত করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং বীরঙ্গনাদের পিতৃপরিচয় যেন তার নামে দেয়া হয় তা ঘোষণা করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অবদান তেমনভাবে উচ্চারিত হয় না, তাঁদের আত্মত্যাগকে ছোট করে দেখা হয়। বীরাঙ্গনারা সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র কোথায়ও সঠিকভাবে সমাদৃত হয়নি। কিন্তু সর্বাদিক নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে নারীদেরকেই। সমাজে নারীদের অবদানকে খুবই গুরুত্বহীনভাবে মূল্যায়ন করা হয় যার ফলে অপরাধী রাজাকার, আলবদর, যারা নারীদের উপর অত্যাচার করেছে, পাকিস্তানী হানাদারদের হাতে নারীদের তুলে দিয়েছে, তারা ও তাদের দোসররা এখনো নারীদের অপমান, নির্যাতন করছে।

আমরা জানি, রণাঙ্গনে নারীরা সম্মুখ যুদ্ধে যেমনি অংশগ্রহণ করেছিলেন, তেমনি আরো নানাভাবে যুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা শাড়ীর আঁচলের নীচে লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অস্ত্র, খাবার, ওষুধ সরবরাহ করেছেন।

আরো একটা বিষয় হলো, স্বাধীনতা দিবস এলে লেখনিতে বক্তৃতায় একটা কথা উচ্চারিত হয়, তা হলো, ‘নারীদের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি‘। আমি বলবো,  এই কথা বলে নারীদের আত্মত্যাগকে অপমান করা হয়। নারীরা তাদের ইজ্জ্বত বিকায়নি, পাকিস্তানি হায়েনারা নারীর সম্ভ্রম লুন্ঠন করেছে, হরণ করেছে। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েও একটা কথা উচ্চারিত হয়, বলা হয় পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, আমি বলবো, মুক্তিযোদ্ধারা পঙ্গু নন, যারা যুদ্ধে আহত হয়েছেন তাঁরা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।

সম্প্রতি ‘যুদ্ধ শিশু‘ নামে একটা সিনেমা দেখেছি, আপনারা অনেকেই হয়ত সিনেমাটি দেখেছেন। সেই সিনেমায় বাংলাদেশের বীরাঙ্গনাদের অবস্থান বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ শেষে একজন বীরাঙ্গনা সন্তান জন্ম দিয়ে, সমাজের ভয়ে সন্তানকে রেডক্রসের হাতে তুলে দেয়। সন্তানের মুখ দেখলে মায়া জাগতে পারে, সেই কারণে সন্তানের মুখটি পর্যন্ত দেখেননি।

 এক বিদেশী দম্পতি সন্তানটিকে দত্তক নিয়ে নেয়। বহু বছর পর সেই সন্তান মাকে দেখার জন্য বাংলাদেশে আসে এবং মায়ের খোঁজ পায়। কিন্তু মা যখন জানতে পারলো তার সন্তান এসেছে তাকে দেখার জন্য, কাছে পাওয়ার জন্য মা ব্যাকুল হয়ে পড়ে, কিন্তু পরক্ষণেই মা ভাবছে, যদি সন্তানের সাথে দেখা করে, সমাজ তাকে গ্রহণ করবেনা, ধিক্কার দিবে। সেই ভয়ে বুকে পাথর চাপা দিয়ে, মা লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলেকে দেখলো, কিন্তু কাছে আসলো না। আসলে বাস্তবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনই রয়ে গেছে। বীরঙ্গনারা আড়ালেই রয়ে গেছেন, নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন, যা হবার কথা ছিল না। আমরা আমাদের বীর নারীদের যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছি।

মুনীরা পারভীন আমাকে বলেছিলেন, আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে। এই অল্প সময়ে শুধু বলতে চাই, আমার বাবাকে রাতের অন্ধকারে, বাড়ী ঘেরাও করে, পাকিস্তানী আর্মি ও রাজাকাররা ধরে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা ভাইবোনরা পাশের রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। ধরে নিয়ে যাবার সময়, আব্বা ওদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, আমি পাশের রুমে যেয়ে আমার সন্তানদের একটু দেখেতে চাই, ওরা দেখতে দেয়নি। গভীর রাতে আম্মার কান্নার শব্দ শুনে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে। আম্মার কাছে জানতে পারি পাকিস্তানি হানাদার সৈন্যরা  আব্বাকে নিয়ে গেছে। তবে, আমরা সৌভাগ্যবান, আব্বাকে আমরা কিছুদিনের মধ্যে ফিরে পেয়েছি। কিন্তু অনেক অনেক পরিবার আছে, যারা তাঁদের প্রিয়জনকে ফিরে পাননি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে আব্বা ছিলেন ব্রাম্মণবাড়িয়ায় শিক্ষা অফিসার।

তিনি বলেন,মুক্তিযুদ্ধের আরো অসংখ্য স্মৃতি আছে। যেমন, একাত্তরের পচিশে মার্চ সারা দেশ আক্রন্ত হলেও ব্রাম্মণবাড়িয়া ছিল মুক্ত এলাকা। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বাঙালি সৈন্যরা ব্রাম্মণবাড়িয়া এসে ঘাঁটি করেছিল। আমার দুই কাকা তখন ঢাকা ভার্সিটিতে পড়তেন। তারা চলে এলেন  আমাদের বাসায়। তখন দেখেছি স্থানীয় যুবকদের নিয়ে ডামী রাইফেল নিয়ে তাঁরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।’

অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া পর্বে বিবিসি বাংলার বিশিষ্ট সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক বীরগাঁথা হারিয়ে যাচ্ছে। এমনি বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগ। আজকে অনুষ্ঠানে ইতিহাসের পূণরপাঠ মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিভাষ্য ‘বীরাঙ্গনা‘পাঠ আমার জন্য এক অভাবনীয় উপলব্ধি।

সাংবাদিক আবদুস সাত্তার বললেন,আমি দুটি উপস্থাপনায়ই উপস্থিত হয়েছি।আমি যেন খুঁজে পাচ্ছিলাম আমাকে। মুক্তিযুদ্ধের এ সব বীরগাঁথা বার বার আমাদের নতুন প্রজন্মকে শোনাতে হবে।বীর নারী শেফা,তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী,রীনা,সাফিয়া মিনা এবং ফাতেমা কথন পাঠ মনে করিয়ে দেয় সেই অগ্নিগর্ভ দিনগুলোর কথা’।

এর আগে প্রথম উপস্থাপনার প্রতিক্রিয়াপর্বে ড. সেলিম জাহান বলেন,মুক্তিযুদ্ধের মুক্তি কথার সাথে যুক্ত রয়েছে আমাদের মুক্তির কথা। আমাদের সংগ্রাম সেই মুক্তির। কবি শামীম আজাদ বলেন,ধর্ষিত হলে সতীত্ব যায় না।সমাজের এ ভুল ধারণাটি উপড়ে ফেলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান সেদিন বলেছিলেন,আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের মা-বোনদের সুরক্ষা দিতে পারিনি। তবে চুড়ান্ত মুক্তির জন্য লড়াই করেছি,যুদ্ধ করে জয় ছিনিয়ে এনেছি।

  ‘বীরাঙ্গনা’কথন পাঠে অংশ নিলেন তাদের সম্পর্কে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।’ছান্দসিক’যাত্রা শুরু করেছিল একটি প্রত্যয় নিয়ে। জড়ো হয়েছিলেন একগুচ্ছ আবৃত্তিকর্মী। সঙ্গে ছিলেন ক‘জন সাংস্কৃতিক কর্মী,লেখক এবং সাংবাদিক। বীরাঙ্গনা কথন পাঠ ছান্দসিক-এর যাত্রার শুরুতেই ছান্দাসিক-এর প্রধান সংগঠক মুনিরা পারভীন প্রস্তাব রাখেন।এর সফল উপস্থাপন হলো ২৫ মার্চ ২০১৮।

কিন্তু বীরাঙ্গনাদের দু:খের কথন তো শ্রোতাদের কাছে একগুয়ে হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বললেন.মুনিরা পারভীন।সঙ্গে সঙ্গে বললেন,বাংলাদেশের খ্যাতিমান গীতিকবি শেখ রানা আমাদের সাথে নতুন গান নিয়ে অতিথি কণ্ঠ হিসেবে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন।শেখ রানা বীরাঙ্গনা কথনের সাথে মিলিয়ে গান লিখেছেন।ছান্দসিক এর জন্য এটা ছিল বাড়তি আনন্দ সংবাদ।আরো সম্মত হয়েছেন কলকাতায় জন্ম নেয়া গানের মেয়ে আবৃত্তিতে অতিথিকণ্ঠ হয়ে যোগ দেবেন সোমা দাস।

আর ছান্দসিক-এর কর্মীদের কথা বলার দরকার না থাকলেও তাদের কি কম মানসিক প্রস্তুতি ছিল। প্রত্যেকে কাজ করেন,বাঁচার লড়াই তো সঙ্গে আছেই। কবি ও আবৃত্তিকার  রেজুয়ান মারুফ কাজ করেন সপ্তাহে শনি ও রোববার। ছুটি নেই। জুটিয়ে নিলেন সময়টি। তাহেরা চৌধুরী  লিপি আর শতরূপা চৌধুরী কাজ থেকে প্রতি উপস্থাপনায় ছুটে আসেন কী সাহসিক প্রেরণা লালন করেই কি না। আর অনুষ্ঠানকে সফল করতে পেছনে যারা নিরলস কাজ করলেন–কবি হামিদ মোহাম্মদ,কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল এবং ময়নুর রহমান বাবুল তাদের কথা না বললেও শৈল্পিক মর্যাদায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার কৃতিত্ব তাদের  কম নয়।