নারী জাগরণ

18

 

Yusuf Shiek_o।। ইউসুফ শেখ ।।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘নারী’ কবিতায় যথার্থ বলেছিলেন,  “আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই ! বিশ্বে যা-  কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যানকর , অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”  নারী -পুরুষের সমান তালে পথ চলা এই সুন্দর পৃথিবীকে আরো সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে পারে। নারী পুরুষে ভেদাভেদ নয়, প্রয়জন পারস্পরিক সহযোগিতা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্টে নারীর  অবদানের স্বীকৃতি অবশ্যই সম্মানের সাথে দিতে হবে। ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটির সূত্রপাত হয় ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে।জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে। এরপর থেকে প্রতিবছরই দিনটি নানা আয়োজনে পালন করা হয় , নারীদের জাগরণে ও উন্নয়নে।   আমাদের পরিবার, সমাজ , রাষ্ট্র ও ইতিহাস  পুরুষতান্ত্রিক।  তাইতো কবি নজরুল বলেছে “কোন রণে কত খুন দিল  নর লেখা আছে ইতিহাসে, কত নারী দিল  সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পশে”।পুরুষের পাশাপাশি নারী ছিল রণাঙ্গণে, যুগিয়েছে সাহস, মনোবল ও কৌশল। যদি বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের বিশ্লেষণ করি, নারীর অবদান কোথাও কমতি ছিলোনা। যুদ্ধের রণাঙ্গনে  পুরুষের পাশাপাশী ছিল নারী।  অস্র হাতে সম্মুখে যুদ্ধ করেছে হায়ানা পাকিস্তানি ও তাদের সহযোগী রাজাকারদের বিরুদ্ধে।  দুই লক্ষধিক নারী ইজ্জত দিয়েছে পাকিস্তানী ও রাজাকারদের হাতে।  কত শত মায়ের সন্তান শহীদ হয়েছে ইতিহাস কি তার খবর রাখে।  কত প্রিয়তমা তার ভালোবাসার মানুষকে যুদ্ধের সাজে পাঠিয়েছে রণাঙ্গণে , ফিরেনি আর প্রিয়তমার উষ্ণ বুকে। হাজারো স্ত্রীর সিঁদুর হারানোর বেদনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। নারী -পুরুষের সমান অবদান রয়েছে আমাদের যুদ্ধ জয়ের পেছনে।

বাংলাদেশের সকল সামাজিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অবদান রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান , ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ  সকল গণ-আন্দোলনে নারীদের সরব উপস্থিতি ও অবদান  ছিলো।  আমাদের নারীরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্টের প্রয়জনে  হাঁসিমুখে অনেক ত্যাগস্বীকার করেছেন। নারী জাগরণে, নারীবাদি  হতে হবে, কিংবা পুরুষের ও সমাজের প্রতি আক্রমণাত্মক হতে হবে, তা মৌলিক ও যৌক্তিক নয়। নারী-পুরুষের সহ-অবস্থান ছাড়া একটি সহনশীল ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। সমাজে নারীবাদ কিংবা পুরুষবাদ তত্ত্ব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।  মনে রাখতে হবে একে ওপরের প্রতিযোগী নয় বরং একে ওপরের সহায়ক ও বন্ধু।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন নারীকে নারীবাদী হয়ে ওঠার প্রয়োজন  মুখ্য নয়। প্রয়োজন সৃজনশীলতা  ও চৌকস মনোবল।  জার্মান চ্যান্সেলর  আঙ্গেলা মের্কেল ইউরোপসহ গোটা পৃথিবীতে একজন প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হিসাবে সুপরিচিত। তিনি কমিনিস্ট পূর্ব জার্মানির একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। ১৯৮০ দশকে  পূর্ব জার্মানির রাজধানী পূর্ব বার্লিনে তাত্ত্বিক রসায়ন  সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্টানে কাজকরতেন মার্কেল। প্রতিষ্টানটির নাম ছিল ইনস্টিটিউট ফর থিওরিটিক্যাল কেমেস্ট্রি।  প্রতিষ্ঠাটির পরিবেশ ছিল রক্ষণশীল ও আদিপত্য ছিলো পুরুষেরই। বলাযায় পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশ।  তখন তার বয়স ছিল ত্রিশের কোঠায় এবং তার কিছুদিন আগে তার প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয়ে ছিল।  মার্কেল কখনো নিজেকে নারীবাদি  দাবি করেননি তবে তিনি খোলামেলা আলোচনায় বিশ্বাস করতেন  , এবং  তিনি নিবেদিত। মার্ক্সবাদ ও লেলিনবাদ মধ্যে দিয়েই তিনি এসেছেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি জার্মানির প্রথম মহিলা চ্যান্সেলর । মানববিশ্বে মার্কেল নারীদের জন্য এ অনন্য উদাহরণ নিজেদের জাগরণে  ও উন্নয়নে।  রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নারী জাগরণে।  তিনি কখনোই নারীবাদি ছিলেননা।  তার রাজ্যে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সহ-অবস্থান।  ১৯৫৩ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথয়ের ব্রিটিশ সিংহাসনে অভিষেক হয়।  ৬৫ বছর যাবত  তিনি যুক্তরাজ্যের রানী হয়ে আছেন।  যদিও দেশের ক্ষমতা গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে , কিন্তু জনগণের প্রতি ধর্ম , বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে তার ভালোবাসার কমতি নেই। মাদার তেরেসা একজন কিংবদন্তি, সাধু সন্ন্যাসিনী নারী।  নারীবাদ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। নারী-পুরুষের অকৃতিম ভালোবাসার মানুষ ছিলেন,  গরিব, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের  সেবায় তার জীবন কেটেছে। পেয়েছিলেন নোবেল শান্তি পুরুস্কার ১৯৭৯ সালে । ধর্ম, বর্ণের উর্ধে থেকে তিনি মানব সেবাকে ব্রত হিসাবে নিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন সব কষ্ট ঈশ্বরের আশীর্বাদ, এবং আমরা যদি কোনো ভালো কাজ করি তাহলে বুঝতে  হবে ঈশ্বর আমাদের দ্বারা করাচ্ছেন , আর যদি মন্দ কাজ করি তাহলে বুঝতে হবে এটা আমাদের দোষ। ১৯২৯ সালে ৬ জানুয়ারী তিনি প্রথম ভারতের কলকাতায় এসেছিলেন মানবসেবার বার্তা নিয়ে।

নারী পুরুষের সহ অবস্থান ও পারস্পরিক  সহযোগিতা পরিবার, সমাজ ও রাষ্টের  উন্নয়নকে এক বিশেষ অবদান রাখতে পারে। নারীরা আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।  রক্ষনশীলতা কিংবা ধর্মীয়  অযুহাতে অর্ধেক জনগুষ্টিকে অন্ধকারে কিংবা কর্মবিমুখ রেখে পারিবারিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক অর্জন সম্ভব নয়।  আমাদের তথাকথিত রক্ষণশীল পুরুষতান্তিক সমাজে নারীকে দুর্বল মনে করা হয়।  কিন্তু বাস্তবতা সম্পর্ণ ভিন্ন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দাদার ছিলেন একজন বাঙালি বিপ্লবী।  তিনি তৎকালীন ভারতবর্ষে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।  এ ইতিহাস বিশ্ববাসী জানে। তিনি প্রমান দিয়েছিলেন নারীরা দুর্বল নয় , নারীরা ঘড়ে , বাইরে ও রণাঙ্গনে শক্তিশালী। প্রীতিলতা জন্মে ছিলেন ১৯১১ সালে দুঃখিনী বাংলার চিটাগাং। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন।  ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তিনি বিপ্লবী নেতা মাস্টার দা সূর্য সেনের সাথে যোগ দেন এবং  তার সক্রিয় অংশগ্রহন ছিল। শিক্ষায় ও সাহসে তিনি ছিলেন নির্ভিক। এ বিপ্লবী নারী ১৯৩২ সালে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমন করেছিলেন ধরা পরার আশংখায়   পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহুতি  দেন  বিপ্লবী এ নারী। তিনি নারীবাদী ছিলেন না , কিংবা নিজেকে কখনো নারীবাদি হিসেবে পরিচয় দেননি। স্বাধীনতাকামী প্রীতিলতা আমাদের অহংকার, তিনি স্বগৌরবে প্রমান করেছেন নারীরা দুর্বল নয়। কল্পনা দত্ত, সুরাইয়া সেনরাও  ছিলেন  সাহসী ও প্রতিবাদী নারী।  তাদের  শিক্ষা , আদর্শ ও দেশ প্রেম  আমাদের জন্য অনুকরণীয়।  তারা একেকজন ইতিবাচক নারী  জাগরণের আলোক বাতি।

আমাদের নারীদের অনেক অবদান গৌরব ও ইতিহাস ও  আছে।  হয়তোবা ইতিহাসে অনেক কিছুই লেখা হয়নি। এটা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব , মহীয়ান ও সাহসী নারীদের ইতিহাস বর্তমান নারীদের সামনে তুলে ধরা। তাহলে তারা সাহস পাবে রক্ষনশীলতা ও ধর্মীয় কুসংস্কারের জাল ছিরে বের হয়ে আসতে। অনুপ্রাণিত হবে  , জানবে ও শিখবে এবং গাইবে বিজয়ের গান।   শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।  তিনি একজন সংগ্রামী নারী।  মুক্তিযুদ্ধে সন্তান হারানো একজন মা। তিনি গঠন করে ছিলেন ” ৭১ রের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি” ১৯৯২ সালে তার নেত্রীত্বে গণআদালতে ঘোষণা করা হয় গোলাম আজমের মৃত্যুদণ্ড।এজন্য তৎকালীন  বিনপি সরকার জাহানারা ইমাম সহ ২৪জন বিশিষ্ট ব্যাক্তির নাম অজামিনযোগ্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেন।২৬ মার্চ  ১৯৯৩ সালে তার নেত্রীত্বে গঠন করা হয় গণ তদন্ত কমিটি। তিনি ছিলেন একজন অদম্য মা ও  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং  দেশপ্রেমেরে এক অনন্য উদাহরণ।  বেগম রোকেয়া বাঙ্গালী নারী জাগরণের প্রথিকৃত। আজীবন সংগ্রাম করেছে বাঙ্গালী নারী জাগরণে ও নারী শিক্ষার বিস্তারে। নারী অধিকার আদায়ে ছিলেন অদম্য ও আপোষহীন। পুরুষশাসিত সমাজ ব্যাবস্থায় নারীদের শুধু অধিকার চাইলেই হবে না , অধিকার আদায় করে নিতে হবে কর্ম, গুনে ও দক্ষতায়। একটা মানবিক সমাজ ও  নারী -পুরুষের সমান অধিকার  প্রতিষ্ঠা করা রাষ্টের নৈতিক ও মৌলিক দায়িত্ব।

বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, ধর্ষণ , যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন নারীদের সামনে এগিয়ে চলার পথে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এ সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাল্যবিবাহের  বাংলাদেশে একটি সামাজিক সমস্যা। বাংলাদেশে  বাল্যবিবাহের হার ৫২ শতাংশ, যা বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ (ইউনিসেফ স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড চিলড্রেন ২০১৬)। নারীরা  সংসারজীবনে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশে  দেশে ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ বিবাহিত জীবনে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, নারীর প্রতি সহিংসতাবিষয়ক জরিপ ২০১৫)। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির অধীনে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের ৫৬টি জেলায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তার প্রায় ৭৭ শতাংশই হয় পারিবারিক পরিসরে। বাংলাদেশে অ্যাকশনএইডের উদ্যোগে বিশ্বের ১০টি শহরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় পাওয়া  গেছে, বাংলাদেশে ৪৯ শতাংশ নারী গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। নারীশিক্ষা, নারীস্বাস্থ সহ অনন্যা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে।  নারীদের কে জ্ঞানে , বিজ্ঞানে , শিক্ষা ও দক্ষতায় আরো বেশি বেশি এগিয়ে আসতে হবে।  রুখে দাঁড়াতে হবে ধর্মীয় কুসংস্কার ও ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে। নারীর কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে ‘আইএলও’ এক গবেষণায়  পাওয়া গেছে, বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা এখনো অনেক  পিছিয়ে। সারা বিশ্বে এখন প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে কাজ করার সুযোগ পান ৭৫ জন। আর প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে কাজ করেন মাত্র ৪৯ জন।  নারীর বেকারত্বের হারও পুরুষের তুলনায় বেশি। সারা বিশ্বে নারীর গড় বেকারত্বের হার এখন ৬ শতাংশ, পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

তাদের গবেষণায় ওঠে আসে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার নারীরা। মধ্যপ্রাচ্যে প্রতি ১০০ জনে মাত্র ১৯ জন নারী কাজ করার সুযোগ পান। উত্তর আফ্রিকায় এ হার ২২ শতাংশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি ১০০ জনে কাজ করার সুযোগ পান ২৮ জন নারী, পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭৯। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশটিতে কৃষিবহির্ভূত অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় বেশি। এবং  উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোতে প্রতি ১০০ জনে ৪২ জন নারী ঘরের কাজ করেন, পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ২০ শতাংশ। ২০১৬ সালে এ বিষয়ে আইএলওর চালানো এক সমীক্ষা অনুযায়ী একই রকমের কাজ করে পুরুষের তুলনায় নারীরা ২০ শতাংশ কম পারিশ্রমিক বা মজুরি পান। মুজরি বৈষম্য ও লিঙ্গ বৈষম্য বাংলাদেশের একটি পুরানো সমস্যা।

বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি ৪১ লাখ কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখ নারী। কর্মক্ষেত্ৰে নারীদের অংশগ্রহণ অনেকটা বেড়েছে।  সরকার ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে।কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০১০ অনুযায়ী, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩৬ শতাংশ। ২০০৫ সালে যা ছিল ২৯ শতাংশ। পোশাকশিল্পে সরাসরি প্রায় ৪৪ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যার অধিকাংশ নারী।  বাংলাদেশ  নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে।  বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পৃথিবীর বুকে । শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২২ জন নারী সাংসদ রয়েছেন। নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতি উপজেলায় একজন করে নারী ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংরক্ষিত আসনে তিনজন করে সদস্য রয়েছেন। সরকারি কর্মক্ষেত্রে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয়।এটি একটি ইতিবাচক দিক।প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৬০ শতাংশ শিক্ষক নারী। বিদ্যালয়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের উপস্থিতি বেশি। ইউসেপ বাংলাদেশের বর্তমানে ৫৪টি বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ৫৪ শতাংশ মেয়ে। আমাদের কারিগরি বিদ্যালয়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ নারী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৭ বছর হলো। এখনো নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। ধর্মীয় ও রক্ষনশীলতার নামে যুগে যুগে শিকল পরানো হয়েছে তাদের পায়ে।  মনে রাখে হবে  প্রতিযোগিতার পৃথিবীতে নারীদের  অগ্রগতির জন্য সবার আগে তাদেরকেই  আওয়াজ তুলতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক রক্ষনশীলতাকে জয় করেই এগিয়ে আসতে হবে জীবনের পথে, আলোর পথে।  রুখে দাঁড়াতে হবে ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ও ধর্মের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে।

লেখক: আইনজীবী