জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা: দুই পুলিশ সদস্য সাসপেন্ড

28

Police8

বিলেতবাংলা,৫ মার্চ: পুলিশি পাহারার মধ্যেও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল ওহাব মিয়া রোববার রাতে এতথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জাফর ইকবালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠান চলাকালে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয় অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে।

ঘটনাস্থলে একজনকে সাথে সাথে আটকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটক করে রাখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে আহতাবস্থায় অধ্যাপক জাফর ইকবালকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতেই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয় তাকে।

অধ্যাপাক জাফর ইকবালকে হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে; এসব ছবিতে দেখা যায়- মঞ্চে জাফর ইকবালের পেছনেই আছে এক অজ্ঞাত যুবক, যে  তার ওপর হামলা চালায়।

ছবিতে দেখা যায়, জাফর ইকবালের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা হামলাকারীর ডান পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনজন পুলিশ সদস্য; যাদের দুইজনকে মোবাইল চাপতে দেখা যাচ্ছে। শনিবার ঘটনার পর থেকে রোববারও এ নিয়ে সরগরম ছিল ফেসবুক।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে- হামলাকারী যুবকের নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়ার বাসিন্দা ফয়জুর রহমান। তার বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান। তিনি শাহপুর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক।

হামলার পর শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা সিএনজি অটোরিকশা করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় স্থানীয়রা জানতে চাইলে ফয়জুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, জগন্নাথপুরে গ্রামের পুরনো বাড়িতে যাচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে ফয়জুরের বাড়ি ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যােবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফয়জুরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে- জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী হয়েই সে এ হামলা চালিয়েছে।