সিএমএইচে ড. জাফর ইকবাল : মাথা ও হাতে ৪টি আঘাত, ২৬ সেলাই

219

Zafor iqবিলেতবাংলা,৪ মার্চ: ছুরিকাঘাতে আহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে সিলেট থেকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকায় আনা হয় তাকে। হেলিকপ্টারটি ১১ টা ৪৪ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে বলে পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ড. জাফর ইকবালের ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব।

এদিকে ঢাকায় পৌঁছেই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিএমএইচে ভর্তি করানো হয়। তার চিকিৎসার জন্য সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

সেখানে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত আছেন অধ্যাপক জাফর ইকবালের স্ত্রী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক।

মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে অধ্যাপক ইকবালকে।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ড. জাফর ইকবালকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়। কুয়াশার কারণে ১৫ মিনিট দেরিতে সেটি ঢাকায় পৌঁছে।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল পাঁচটা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে পেছন থেকে অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করেন আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। পরে তাকে শিক্ষার্থীরা ধরে পিটুনি শেষে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আর অধ্যাপক জাফর ইকবালকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জাফর ইকবালের মাথা ও হাতে ৪টি আঘাত, ২৬ সেলাই

শনিবার শাবিতে দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়

হামলায় আহত লেখক-শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের মাথা ও হাতে ৪টি আঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। তবে তিনি এখন শঙ্কমুক্ত।

শনিবার রাত ৯টার দিকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘জাফর ইকবাল এখন শঙ্কামুক্ত। ওনার জ্ঞান রয়েছে। শুধু রিপিয়ারের জন্য ওনাকে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছে।’

জাফর ইকবালের মাথা ও হাতে চারটি আঘাত করা হয়েছে এবং তার শরীরে ২৬টি সেলাই পড়েছে বলে এসময় জানান তিনি।

এরআগে শনিবার বিকেলে শাবি ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হন অধ্যপক জাফর ইকবাল। আহতাবস্থায় জাফর ইকবালকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক বলেন, ‘তার মাথার পেছনে ধারাল কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আঘাত কতটা গুরুতর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলা যাবে। তবে তার জ্ঞান রয়েছে।’

অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রাখা হয়েছে। এখনও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠান চলাকালে এ হামলা চালানো হয়। অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল বক্তব্য দিচ্ছেলেন। এ সময় পেছন থেকে তার মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটক করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে তিনি পড়ে আছেন। কোনো কথারই জবাব দিচ্ছেন না।

অধ্যাপক জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক ছেলে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে। হামলাকারীর বয়স ২৪ থেকে ২৭ বছর হবে।কী কারণে জাফর ইকবালের উপর এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এদিকে শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসাধীন মুহম্মদ জাফর ইকবালের তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাফর ইকবালের মতো সবার শ্রদ্ধাভাজন দেশবরেণ্য শিক্ষকের ওপর এই ধরনের হামলা দেশে অশুভ শক্তির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ইঙ্গিত বহন করে।

হামলাকারী ফয়জুরের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাইFoyzur

জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী যুবকের নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪) বলে জানা গেছে। সে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের হাফেজ আতিকুর রহমানের ছেলে। তবে ফয়জুলের বাবা দেড় বছর আগে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন শেখপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে সপরিবারে বসবাস শুরু করেন।

ফয়জুলের বাবা আতিকুর রহমান সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশের টুকেরবাজারে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন বলে জানা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফয়জুলদের পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে।

তবে জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর ফয়জুলদের পরিবারের সদস্যরা শেখপাড়ার বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিবেশীরা। তখনো প্রতিবেশীরা জানত না যে ফয়জুলই অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, ফয়জুল মাদরাসা শিক্ষার্থী বলে এলাকায় পরিচয় দিত। তবে কোন মাদরাসার শিক্ষার্থী সে তথ্য কেউ জানে না।

ঘটনার পরপরই অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে- হামলাকারী যুবকের নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী টোকেরবাজার কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা ফয়জুর রহমান। তার বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান। তিনি শাহপুর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ‘নারগিস হাউস’ নামে একটি ভাড়া বাসায় তারা বসবাস করে আসছিল। বছর দুয়েক আগে শেখপাড়ায় জমি কিনে আধাপাকা বাড়ি করেন ফয়জুরের বাবা। শনিবার হামলার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা সিএনজি অটোরিকশা করে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় স্থানীয়রা জানতে চাইলে ফয়জুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, জগন্নাথপুরে গ্রামের পুরনো বাড়িতে যাচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে ফয়জুরের বাড়ি ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

টুকেরবাজার ইউনিয়ের চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ গত রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ফয়জুর তার এলাকার বাসিন্দা। তারা তিন ভাই। হামলার বিষয় আগে জানতে পারলে ফয়জুরের পরিবারের কেউ পালাতে পারত না। হামলাকারী জঙ্গি বলে ধারণা করছেন তিনি।

ফয়জুরের বাসার আশপাশের একাধিক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে বলেন, ফয়জুরের পরিবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব একটা মেশে না। ফয়জুর মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানত লোকজন। শনিবার সকাল থেকে ফয়জুর ও তার আরেক ভাইকে দীর্ঘ সময় এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাদের ধারণা, হামলাকারী ফয়জুর জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি) সদস্য হতে পারে। এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সদস্যরা গত রাতেই ঢাকা থেকে সিলেটের পথে রওনা হয়ে যান।

অধ্যাপক জাফর ইকবালের পেছনে হামলাকারী কীভাবে দাঁড়িয়ে থেকে এত লোকের মাঝে তাকে অনুসরণ করল তা নিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায় আচমকা এ হামলার আগে জাফর ইকবালের নিরাপত্তা বিধানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনে গেমস খেলা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, হামলাকারীর প্রাথমিক পরিচয় পাওয়ার পর তার ব্যাপারে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কেন কী কারণে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা করা হয়েছে তা বের করা হবে।

 

 

জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে র‌বিবার গণজাগরণ মঞ্চের বি‌ক্ষোভGonojagor

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে শাহবাগে মশাল মিছিল করেছে  গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা মশাল মিছিল বের করেন।

মশাল মিছিলে উপস্থিত ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, শ্রাবণ প্রকাশনীর সত্বাধিকারী রবিন আহসান, স্বৈরাচার বি‌রোধী ছাত্র‌নেতা আকরামুল হকসহ বি‌ভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠ‌নের নেতাকর্মীরা।

মশাল মিছিল শেষে আগামীকাল র‌বিবার বিকাল ৪টায় বি‌ক্ষোভ সমা‌বে‌শের ডাক দেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। এর আগে বিকেলে থেকেই শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা।

উল্লেখ্য, আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বসে থাকার সময় পেছন থেকে অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর তাকে সঙ্গাহীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শাবি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। এদিকে ছুরিকাঘাতকারী যুবককে আটক করেছে স্থানীয়রা। তাকে পিটুনি নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‌‌মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক যুবক ছুরি মারে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে। কী কারণে অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর হামলা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামলাকারীর পরিচয়া পাওয়া যায়নি।