কবি গীতিকার ও অভিনয় শিল্পী দিলাউর রহমান মুজিবকে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান

883

 

Dilaur_n

বিলেতবাংলা, লন্ডন,২নভেম্বর:কবি গীতিকার ও অভিনয় শিল্পী দিলাউর রহমান মুজিবকে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করায় বিলেতের সংস্কৃতিকর্মী,লেখক শিল্পীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি যাত্রা অভিনয় ও গীতিকার হিসেবে  এ বিরল সম্মানে সংবর্ধিত হয়েছেন।

গত ৩১ অক্টোবর সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সুনামগঞ্জের সুধী বিদগ্ধজনের উপস্থিতিতে শিল্পকলা  একাডেমী  আয়োজিত  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত আনন্দঘন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান কবি মোহাম্মদ সাদিক। কবি মোহাম্মদ সাদিক গুণীজনদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,যারা আমাদের শিল্পসংস্কৃতিকে তাদের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সমৃদ্ধ করছেন,এমন  মানুষদের মূল্যায়ন করার আয়োজনে অংশগ্রহণ আমার জন্যেও গৌরবের।এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তারা সুনামগঞ্জকে গান,ধান ও মাছের দেশ উল্লেখ করে বলেন,মরমী কবি  হাছন রাজা,লোককবি রাধারমণ,বাউল কবি  দূর্বিণ শাহ,বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম এবং লোক কবি কামাল শাহর উত্তরসূরী আজকের সংবর্ধিত সম্মানিত ব্যক্তিরা আমাদের গৌরব। বক্তারা আরো বলেন,সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যে সমৃদ্ধ তা আজকের অনুষ্ঠান এ বার্তা বহন করে।

বিলেতের সংস্কৃতিকর্মী,লেখকদের  মধ্যে গুণীজন দিলউর রহমান মুজিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ এ রউফ, কবি হামিদ মোহাম্মদ,সাংস্কৃতিক নেতা সৈয়দ এনামুল ইসলাম, সৌধে  সোসাইটির অন্যতম ব্যক্তিত্ব অমল  পোদ্দার ও অমর বৈদ্য,কবি টি এম কায়সার,সংস্কৃতিকর্মী বংশীবাদক লুতফুর রহমান, সাংস্কৃতিক ও নারীনেত্রী নাজনীন সুলতানা শিখাসহ আরো অনেকই।

উল্লেখ, কবি গীতিকার দিলাউর রহমান মুজিব বিলেতের লীডসে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। তিনি প্রবাসে থাকলেও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্র থেকে সরে যাননি। দিলাউর রহমান মুজিব  একাধারে যাত্রাপালা অভিনেতা ও গীতিকার।তার তিন শতাধিক রচিত গান রয়েছে।‘মনের মানুষ দূরে থাকলে‘ এবং ‘আমি বিশ্বাস করি কারে’ দুটি গানের বই ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।তাঁর গানের ২টি  সিডিও রয়েছে। তার জনপ্রিয়  রচিত গানের মধ্যে বাউল ও লোকগান ছাড়াও দেশাত্বক বোধক গান সমধিক। দিলাউর রহমান এমনই এক কৃতী পুরুষ গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া যাত্রপালার ‘অধিকারি’ বা মূল সংগঠক। তিনি এ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার কাজের লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। সংস্কৃতিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসার কারণেই তাকে এ বিরল সম্মান এনে দিয়েছে।

বিটিভিতে কমপক্ষে ২০টি নাটকে তিনি এ পর্যন্ত অভিনয় করেছেন। অভিনয় ও সাংস্কৃতিক কাজে বিলেতবাস কোনো বাধা হয়ে ওঠেনি। তাঁর  নেতৃত্বে পরিচালিত ‘একতা বাউল শিল্পী গোষ্ঠী‘ ও ‘একতা যাত্রা নাট্য শিল্পী সংস্থা’ নামে দুটি জনপ্রিয় সংগঠন রয়েছে। বাংলাদেশে এ সংগঠনগুলোর প্রশংসনীয় সাংস্কৃতিক  কাজ এবং দিলাউর রহমানের সৃজনশীল ভুমিকার জন্য নন্দিত।

১৯৫৭ সালে দিরাই উপজেলার বড়কাপন গ্রামে দিলাউর রহমানের জন্ম।বর্তমানে জগন্নাথপুর উপজেলার কান্দাগাওয়ে বসতি স্থানান্তরিত করেছেন এবং সুনামগঞ্জ শহরেও তার একটি বাড়ি রয়েছে।বিলেতবাসের পুর্বে তিনি কিছুদিন ইউরোপের জার্মানীতেও ছিলেন। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে লিডস আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, কবি দিলাউর রহমান মুজিব বিলেতে থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর পক্ষে সম্মাননা স্মরক গ্রহণ করেন ‘একতা বাউল শিল্পী গোষ্ঠী‘ ও ‘একতা যাত্রা নাট্য শিল্পী সংস্থা’র অরুন তালুকদার,বাউল শাহজাহান সিরাজ,গোলাম জাবেদ এবং গোলাম হাদী।