বিলেতে সৌধের বাংলা পালাগান ‘মধুমালা ও মদনকুমার’র অনন্য পরিবেশনা

199

বিলেতবাংলা,১০ অক্টোবর: লন্ডনে সৌধ আয়োজিত বাংলা সংগীত উৎসবের পঞ্চম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে ইস্ট-লন্ডনের পপলার ইউনিয়নে। শনিবার ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ  পর্বে ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী পালাগান ‘মধুমালা ও মদনকুমার’। মদনকুমারের চরিত্রে অভিনয় করেন লোকনৃত্যশিল্পী সোহেল আহমেদ ও মধুমালা চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লাবণি বড়ুয়া।

Modu3_n

গ্রাম বাংলার প্রেমরসে সিঞ্চিত মিথের আধুনিক বয়ান, বিনির্মাণ, কথক ও নাট্য-নির্দেশনায় ছিলেন টি এম আহমেদ কায়সার।বয়াতির ভুমিকায়ও টি এম আহমেদ কায়সার পরিবেশনার মূল কাহিনি চিত্রণে ও বয়ানে কণ্ঠশৈলী প্রদর্শন করেন।

সংগীত কুশীলবদের মধ্যে ছিলেন লুতফুর রহমান, অমল পোদ্দার, নারায়ণ দে ও আবুল কাশেম। অভিনয় করেন ড. সিদ্ধার্থ করগুপ্ত, সুজিত চৌধুরী, মডেল সাজিয়া ও আইরিন, মিতা কামরুন, রুবেল। পরিবেশনার সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী শ্রোতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন,পালাগানটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রেমরসসিক্ত হলেও এর আবেদন বিশ্বমাত্রিক।এতে সংযোজন করা হয়েছে লোককবি রাধারমণ,সৈয়দ শাহনুর,শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টিশৌকর্যও। এই নতুন রকমের পালাগানের আধুনিক রূপায়নের পরিবেশনা উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রন জানান তিনি।Modu

পরিবেশনাপর্বের শুরুতেই বয়াতির ভুমিকায় অভিনয়ে অংশ নিয়ে পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, ‘বাংলা পালাগান অবাঙালি দর্শকদের জন্য যেকোনো অর্থেই একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এর মাঝে যেমন রয়েছে অপেরার নাট্যরস, পাশাপাশি আছে ইংরেজ রোমান্টিক কবিদের রচিত বালাডের কাব্যময়তা আর একই সঙ্গে বাংলা লোকগানের ঘোরগ্রস্ত করে দেওয়ার জাদু। কায়সার আরও বলেন, আদি কাহিনির সঙ্গে এই পালার সংযোগ খুব ক্ষীণ। সমকালীন অনুষঙ্গের সঙ্গে এতে যোগ হয়েছে সর্ব-ভারতীয় মরমিবাদী দার্শনিক প্রপঞ্চও। বাঙালি দর্শকদের সঙ্গে অবাঙালি দর্শকদের জন্যও পুরো পরিবেশনাই হবে অভিনব,এক্সোটিক।’কায়সার আরো বলেন,বিশ্বমাত্রিক প্রেমকাহিনি রোমিও জুলিয়েট,শিরিফরহাদসহ সব কাহিনির সাথে ‘মধুমালা ও মদনকুমার’পালা এক আশ্চর্য রকম রোমাণ্টিক অনুভবে উদ্দীপ্ত।সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েই সৃষ্টির উত্তর পাওয়ার এক মহিমান্বিত প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির যুগল সৃষ্টি‘মধুমালা ও মদনকুমার পালা।

পরিবেশনা শেষে সৌধের অন্যতম পরিবেশক চন্দ্রাচক্রবর্তী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের‘প্রথম দিনে সুর্য’ কবিতার ভুবনজয়ী শেষ উচ্চারণ ‘কে তুমি?’ প্রেম ও সৃষ্টির এই প্রশ্নও মদনকুমারের জীবনেও যে উৎকীর্ণ তা শ্রেতাদের কাছে তুলে ধরেন–যা শ্বাশত প্রেমের এক মোহনীয় আলো আঁধারময় জগত। মানব প্রেমের এই অমোঘ প্রশ্নটিই ধ্বনিত হয়েছে ‘মধুমালা ও মদন কুমার’পালায়।Modu2

পালাগান শেষে প্রতিক্রিয়া পর্বে নাজনীন সুলতানা শিখাসহ অনেকেই নান্দনিক পরিবেশনা উল্লেখ করে বলেন,সৌধ যে পরিবেশনাই উপস্থাপন করে থাকে তার মধ্যে নতুনত্ব থাকেই। আজকের পরিবেশনা উপভোগ্য ছিল ভিন্নমাত্রার।

উল্লেখ্য,‘মধুমালা ও মদনকুমার’  পালা লোকধারার এক অমর প্রেম কাহিনি। প্রাচীন এই কাহিনি অনেকটা লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। পল্লীকবি খ্যাত কবি জসীম উদ্দীন এ কাহিনিটি গ্রাম বাংলা ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন। শুধু ‘মধুমালা ও মদন কুমার’ পালা সংগ্রহ তিনি করেননি আরো হাজার হাজার  লোকগান ও কাহিনি আমরা কবি জসীম উদ্দীনের সংগ্রহকর্ম থেকেই পেয়েছি। বাংলাসাহিত্যের সমৃদ্ধ এই লোককাহিনিগুলো নাগরিকচর্চায় ফিরে এসেছে তাঁর চেষ্টা ও শ্রমদানে।

 Modu4_n