ব্রাসেলসে থেরেসা মের আশ্বাস: ইইউ নাগরিকদের স্থায়ী বাসের সুযোগ দেবে যুক্তরাজ্য

79

।।তবারকুল ইসলাম।।

লন্ডন ২৩ জুন: ব্রেক্সিট কার্যকর হলেও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকেরা দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গতকাল শুক্রবার এই প্রতিশ্রুতি দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোট থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদেরই চলতি নাম ব্রেক্সিট।

থেরেসা মের এই প্রতিশ্রুতিকে আলোচনায় ‘ভালো সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রভাবশালী ইইউ নেতা জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল।

ব্রাসেলসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, যেসব ইইউ নাগরিক পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে, তারা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবে। ব্রিটিশ নাগরিকদের মতো তারাও শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসনসহ বিদ্যমান সরকারি কল্যাণ সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আর যারা পাঁচ বছরের কম সময় ধরে আছে, তাদেরও যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে না। তারা যাতে বৈধভাবে পাঁচ বছর পূর্ণ করে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করতে পারে, সেই সুযোগ দেওয়া হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর পাঁচ বছরের কম সময় ধরে থাকা ইইউ দেশের নাগরিকদের ব্রিটিশ অভিবাসন আইন অনুযায়ী ভিসা নিয়ে থাকতে হবে। ঠিক কোন দিনক্ষণ ধরে এই পাঁচ বছর হিসাব করা হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ঘটবে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ইইউ নাগরিকদের অধিকার প্রশ্নে বিস্তারিত প্রস্তাব আগামী সোমবার সংসদে তুলে ধরা হবে।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই ইইউ নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মে এত দিন তাতে সায় দেননি। তিনি বলেছিলেন, ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদ সমঝোতার ওপর এসব মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। কিন্তু ৮ জুন অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় ব্রেক্সিট প্রশ্নে মের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। নির্বাচনের পর ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এমন ঘোষণা তাঁর সেই দুর্বলতারই ইঙ্গিত।

২০১৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত এক গণভোটে যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দেন। অভিবাসনের চাপ ছিল জোট থেকে বেরিয়ে আসা জনসমর্থনের একটা বড় কারণ। এ কারণে গণভোটের পর থেকেই যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউভুক্ত দেশের নাগরিক এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোয় বসবাসরত যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠে। বিবিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইইউভুক্ত বাকি ২৭টি দেশের ৩২ লাখ লোক যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। আর ওই সব দেশে ব্রিটিশ নাগরিক আছে ১২ লাখ।

ব্রাসেলসে থেরেসা মে বলেন, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ামাত্রই ইইউ নাগরিকদের যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে—এমন কিছু ঘটবে না। তবে ইইউ দেশগুলোতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের বিষয়ে অন্য পক্ষ কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে এই প্রতিশ্রুতি।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস প্রধানমন্ত্রী মের প্রতিশ্রুতিকে ‘অনেক দেরিতে সামান্য কিছু’ বলে মন্তব্য করেছে। ইইউর সব নাগরিককে শর্তহীনভাবে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিতে চায় দল দুটি।

১৯ জুন যুক্তরাজ্য ও ইইউ বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাজ্য চেয়েছিল বিচ্ছেদ আলোচনার পাশাপাশি ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক কী হবে—তা ঠিক করে নিতে। কিন্তু ইইউর পক্ষে প্রধান সমঝোতাকারী মিশেল বার্নিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নাগরিকদের ভবিষ্যৎ, দেনা-পাওনা এবং আলোচনার রূপরেখার বিষয়টির সুরাহা হলেই কেবল নতুন সম্পর্কের বিষয়টি আসতে পারে। তিনটি শর্তই যুক্তরাজ্য মেনে নিয়েছে।