পার্লামেন্টে রানীর ভাষণ পেছালো: থেরেসার সরকার গঠনে জটিলতার ইঙ্গিত

29

বিলেতবাংলা ১৩ জুন:  ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভাষণ (কুইন্স স্পিচ) নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না; আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র মুখপাত্র। ১৯ জুন নতুন সরকারের পক্ষে আইন উপস্থাপনের কথা ছিল।

 

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সরকার গঠনে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিকে রাজি করাতে কনজারভেটিভদের আরও সময় দিতে চান রানী। সে কারণেই নির্ধারিত দিনের কয়েকদিন পর এই ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেই দিনটি কবে, তা জানানো হয়নি।

৮ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তুমুল চাপে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ নেতা থেরেসা মে। হাউস অব কমন্সে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতের জন্য কনজারভেটিভদের ডিইউপি’র এমপিদের সমর্থন প্রয়োজন। নির্বাচনে ডিইউপি পেয়েছে ১০টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে কনজারভেটিভদের প্রয়োজন ৮টি আসন। আর তাই সমর্থন নিশ্চিতে দলটির সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ডাউনিং স্ট্রিট। ডিইউপির সঙ্গে দফায় দফায় চলছে বৈঠক।

শনিবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নীতিগতভাবে একটি চুক্তির ব্যাপারে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। তবে ওইদিন রাতেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। দুই পক্ষের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের মধ্যকার চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। এখনও আলোচনা চলছে। সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে আবারও সেই অনিশ্চয়তার কথা উঠে আসে। দলীয় বৈঠকে থেরেসা এমপিদের তোপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন বলেও খবর জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রানীর ভাষণ পেছানোর খবর পাওয়া গেল।

র্নিধারিত দিনে রানী বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে পার্লামেন্টে হাজির হবেন। সেখানে দেওয়া ভাষণে থেরেসা সরকারের পক্ষে নতুন নতুন আইনগত এজেন্ডা উপস্থাপন করবেন তিনি। থাকবে ব্রেক্সিট আলোচনা শুরুর বিষয়।

ডিইউপি’র সঙ্গে একত্রিত হয়ে সরকার গঠনকে জোট সরকারের চুক্তি নয় বরং একে ‘কনফিডেন্স এন্ড সাপ্লাই’ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে ডাউনিং স্ট্রিট। এ চুক্তির আওতায় বাজেটসহ এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ডিইউপি কনজারভেটিভদের সমর্থন দেবে। বিনিময়ে কনজারভেটিভদের কাছে থেকে তহবিলসহ নীতিগত সুবিধা পাবে তারা।