ক্রীতদাস ও শিশুদের দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানি করবে না যুক্তরাষ্ট্র

80

৮৬ বছরের পুরনো এক আইনকে সামনে আনছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিমতে ক্রীতদাস কিংবা শিশুদের দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানি করবে না যুক্তরাষ্ট্র। ডেমোক্রেট সদস্য রন উইডেন বলেন, এই আইনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করছে যে তার শিশুশ্রম সমর্থন করেনা।

১৯৩০ সালে করা এই আইনের ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক শ্রম কিংবা শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করতো না। এই আইন সর্বশেষ প্রয়োগ করা হয় ২০০০ সালে। ৮৬ বছরে মাত্র ৩৯ বার এই আইন প্রয়োগ করেছে দেশটি। তবে এবার তারা আরও কঠোর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বুধবার এই সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেন ওবামা। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রীতদাসদের দ্বারা শিকার করা মাছ ও আফ্রিকায় শিশুদের দ্বারা স্বর্ণখনি থেকে উৎপাদিত স্বর্ণও আমদানি করবে না যুক্তরাষ্ট্র।  এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এজে তাদের একটি ভিডিওতে দাবি করে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে নির্যাতিত নারীদের দ্বারা উৎপাদিত পোশাক আমদানিও করবে না তারা।

বাংলাদেশে নারী পোশাক শ্রমিকদের বলপ্রয়োগ করে পোশাক উৎপাদন করানো হয় বলে দাবি করে বার্তা সংস্থা এপি। আর এসব পোশাক যুক্তরাষ্ট্রেও রপ্তানি হয়।

গত বছরে বার্তা সংস্থা এপি আরও একটি প্রতিবেদনে এতে বলা হয়, থাইল্যান্ডে বন্দিত্ব ও দাসত্বের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দ্বারা শিকার করা মাছ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে একটি থাই কোম্পানি। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই প্রায় দুই হাজার বন্দি জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ সময় পাচারকারী কয়েকজনও গ্রেপ্তার হয় এবং লাখ লাখ ডলারের সামুদ্রিক মাছ ও জাহাজ জব্দ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আইনে নির্যাতিত ও শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এই আইনের ‘ভোক্তা চাহিদা’র কারণ দেখিয়ে তা প্রয়োগ করা হয় না। কেননা এই ‘ভোক্তা চাহিদা’ অংশে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ না থাকলে যে কোনোভাবে উৎপাদিত পণ্যই আমদানি করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ৮৬ বছরের পুরোনো শুল্ক আইনটি নির্যাতিত ও শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে আর যুক্তরাষ্ট্র নির্যাতিত ও শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করতে পারবে না।

এই ব্যতিক্রমকে বর্জন করার জন্য আইনে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন ওহাইয়োর সিনেটর শেরড ব্রাউন। তিনি জানান, এরই মধ্যে তার অফিস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত রক্ষা বিভাগকে বলা হয়েছে যেন তারা সংশোধিত আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে আইনটি।

ব্রাউন বলেন, ‘এটা বিব্রতকর যে ৮৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র নির্যাতিত শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত পণ্য আমদানি হতে দিয়েছে। এটা বন্ধ করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দাসত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যুক্তরাষ্ট্রের পথ সুগম হলো।’ এবিসি ও এজে প্লাস