‘জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে মানবাধিকার আইনে পরিবর্তন’

31

বিলেতবাংলা ৮ জুন: সন্দেহভাজন জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে ‘বাধা হয়ে দাঁড়ালে’ প্রয়োজনে মানবাধিকার আইনে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে।

 

মে বলেন, তিনি বিদেশ থেকে আসা জঙ্গি সন্দেহভাজনদের দেশ থেকে বিতাড়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করবেন এবং হুমকি হয়ে উঠতে পারেন এমন সন্দেহে থাকা ব্যক্তিদের উপর ‘বিধিনিষেধ আরোপ এবং তাদের চলাফেলা সীমিত’ করার ব্যবস্থা করবেন।

 

মের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ সময়ে ‘এ ধরনের বার্তা দেওয়া উচিত না’।

 

যুক্তরাজ্যে গত তিন মাসেরও কম সময়ে তিন তিনটি সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।

 

সর্বশেষ গত শনিবার লন্ডন ব্রিজে হামলায় সাতজন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়; আহতদের মধ্যে কয়েকজনের ‍অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

 

যার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

সেইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা কালে পুলিশের বাজেট কমানোর যে সিদ্ধান্ত মে নিয়েছিলেন সেটারও জোর সমালোচনা হচ্ছে।

 

অনেকে এজন্য প্রধানমন্ত্রী মের পদত্যাগও দাবি করেছেন। ওই দাবিতে সমর্থন দিয়েছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন।

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

 

৮ জুনের যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচনের আগে শেষ প্রচার দিবসে মে বিশেষ কোনো কৌশল প্রস্তাব ঘোষণা না করলেও বলেন, “সন্ত্রাসমূলক অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্তদের আর দীর্ঘ মেয়াদে কারদণ্ডের ব্যবস্থা আমি করবো।”

 

“কর্তৃপক্ষ যেনো আরও সহজে বিদেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে এবং কোনো ব্যক্তির হুমকি হয়ে উঠতে পারার যথেষ্ঠ প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর তার স্বাধীনতা ও চলাফেরা সীমাবদ্ধ করার ব্যবস্থা আমি করবো।”

 

“এবং আমাদের বিদ্যমান মানবাধিকার আইন যদি সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা প্রয়োজনে আইনের পরিবর্তন করবো।”

 

দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মে আরও বলেন, অভিযোগ ছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে কোনো ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে রাখার মেয়াদ বাড়িয়ে ২৮ দিন করার কথাও বিবেচনা করছেন তিনি।

 

২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের সংবিধান অনুযায়ী ওই সময় কমিয়ে ১৪ দিন করা হয়।

 

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে নিরাপত্তাবাহিনীর মতামত নেব হবে বলেও জানান তিনি।