যুক্তরাষ্ট্রে সবার চোখ জেমস কোমির শুনানিতে

39

বিলেতবাংলা ৮ জুন: যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেকেরই চোখ এখন মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির সামনে পদচ্যুত এফবিআই প্রধান জেমস কোমির সাক্ষ্যের ওপর। কমিটির সদস্যরা জানতে চাইবেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা দলের কথিত আঁতাত নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত বন্ধের জন্য চাপ দিয়েছিলেন কি না। বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার রাতেই এই শুনানি শুরু হওয়ার কথা।

কোমির সাক্ষ্য ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এত দিন পর্যন্ত এফবিআই তদন্তের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল ট্রাম্প প্রচারণার বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য গোপন যোগাযোগ। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে এখন মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে এই তদন্ত ঠেকাতে ট্রাম্পের চেষ্টার অভিযোগ। গোয়েন্দা কমিটির সদস্যরা জানতে আগ্রহী হবেন, এই তদন্ত বন্ধ করতে ট্রাম্প জেমস কোমির ওপর নীতিবহির্ভূতভাবে চাপ দিয়েছিলেন কি না।

নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সাক্ষাতের সময় ট্রাম্প কোমিকে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে মাইক ফ্লিনকে নিয়ে চলতি তদন্ত বাদ দেওয়া হয়। তিনি কোমির কাছে এ কথাও জানতে চান, এফবিআই প্রধান হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত আনুগত্য তিনি প্রত্যাশা করতে পারেন কি না। সত্যি প্রমাণিত হলে দুটিই বেআইনি কাজ বলে বিবেচিত হবে। এর ফলে এ কথা প্রমাণ করাও সহজ হবে, ট্রাম্প ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করেছেন।

এদিকে এই শুনানির আগে ট্রাম্পের জন্য দুটি অতিরিক্ত মন্দ খবর এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এফবিআইয়ের ওপর অনৈতিক চাপ দিচ্ছে উল্লেখ করে জেমস কোমি এ ব্যাপারে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে আইনমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলেন। আরেক খবরে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, অন্যতম গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ড্যানিয়েল কোটসকেও তদন্ত বন্ধে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প।

দুই দিন আগেও ভাবা হয়েছিল ক্ষতিকর এই বিবেচনা থেকে ট্রাম্প কোমির সাক্ষ্য ঠেকাতে তাঁর ‘নির্বাহী অধিকার’ ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। কিন্তু মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্প সে অধিকার প্রয়োগ করে কোমির সাক্ষ্য প্রদানে কোনো বাধা দেবেন না।

ধারণা করা হচ্ছিল, কোমির এ শুনানি হবে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে গরম খবর। একটি দৈনিক এই ঘটনাকে আমেরিকান ফুটবলের প্রধান ঘটনা ‘সুপার বল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।