‘ সুখ ও ভয়ের মিশ্র একটা অনুভূতি ছিল’

107

টিভি ও চলচ্চিত্রের সুঅভিনেত্রী কুসুম শিকদার। দীর্ঘদিন পর বড়পর্দায় ফিরছেন এ তারকা। গৌতম ঘোষের পরিচালনায় দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘শঙ্খচিল’ ছবিতে কলকাতার তারকা অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে শুটিং হওয়া এ ছবিটি পহেলা বৈশাখ মুক্তি পাবে। নতুন এ ছবিসহ চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কামরুজ্জামান মিলু

কতদিন পর বড়পর্দায় আসছেন ?

আমি একটু গ্যাপ দিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। এই যেমন আমার প্রথম ছবি খালিদ মাহমুদ মিঠুর ‘গহীনে শব্দ’ ২০১০, স্বপন আহমেদের ‘লালটিপ’ ২০১২ এবং সবশেষ গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ২০১৬ সালের ১৪ই এপ্রিল। তাই বলা যায়, প্রায় চার বছর পর বড়পর্দায় আসছি আমি।

কাজটা পাওয়ার জন্য আপনাকে তো অডিশন দিতে হয়েছে। সে বিষয়ে বলুন।

হ্যাঁ। এ কাজটা পাবার জন্য চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে ফরিদুর রেজা সাগর, গৌতম ঘোষের সামনে আমাকে অডিশন বা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। সেটাও একটা স্মরণীয় স্মৃতি। সেদিন খুবই ভয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিলো জীবনে প্রথমবার অভিনয় করবো। আগে কিছুই করিনি, কিছুই পারি না, একেবারেই নতুন বুঝি!  যেন শুন্য থেকে শুরু করবো-এমন একটা অনুভূতি ছিল তখন। আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা। ‘শঙ্খচিল’ ছবিতে আমার চরিত্রের নাম লায়লা।

দুই তারকা অর্থাৎ তারকা পরিচালক গৌতম ঘোষ, অন্যদিকে তারকা অভিনেতা প্রসেনজিৎ-তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

এটা এক কথায় বললে ভয়ংকর। কারণ গৌতম দা একজন আর্ন্তজাতিক মানের পরিচালক। জন্মের পর থেকে তার কাজের সুনাম শুনে এসেছি এবং দেখেছি। যার ছবিতে জনপ্রিয় নায়িকা শাবানা আজমী, টাবু, শর্মিলা ঠাকুর, প্রসেনজিৎ, আমাদের চম্পা আপা কাজ করেছেন। তার সঙ্গে আমি কাজ করব এটা শুনেই মনে একটা ভয় ও চাপ কাজ করছিল। ভুলে গিয়ে কাজ করতে পারলে ঠিক আছে। কিন্তু মনে রেখে কাজ করাটা সত্যিই চাপের বিষয় ছিল। তাই ছবিটি করতে গিয়ে আমার মনে সুখ ও ভয়ের মিশ্র একটা অনুভূতি ছিল ।

ছবির লোকেশন ছিল কোথায় ?

‘শঙ্খচিল’ ছবির লোকেশন ছিল কলকাতা, টাকি এবং সাতক্ষীরা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার টাকি এবং বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে শুটিং হয়েছে।

এ ছবিতে আপনার পছন্দের কোনো দৃশ্য রয়েছে কি?

এ ছবিতে আমার পছন্দের বেশকিছু দৃশ্য রয়েছে। ছবিতে আমার সব দৃশ্য প্রসেনজিৎ-এর সঙ্গে। তিনি এ ছবিতে আমার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবির শেষ দৃশ্যটি আমার মনে দারুণভাবে রেখাপাত করে আছে। এই দৃশ্যটা আমি কখনোই ভুলব না। তবে দৃশ্যটি কি ধরনের তা এখন বলতে চাই না। দর্শকরা হলে গিয়ে ছবিটি দেখুক এটাই চাওয়া।

প্রসেনজিৎ-এর সঙ্গে প্রথমবারের মত অভিনয় করলেন বড়পর্দায়। অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

কলকাতায় যাবার পর থেকে আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও বুঝতে দেননি যে, তিনি একজন বড় ব্যক্তিত্ব বা আমার জন্য নতুন একজন মানুষ। তার সহযোগিতাটা ছিল বেশ ভালো। এটা সম্পূর্ন প্রসেনজিৎ-এর ক্রেডিট বলতেই হবে আমাকে। তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে যে, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যারা আমার সহশিল্পী তাদের সঙ্গেই বুঝি কাজ করছি। শুধু ভালো অভিনয়শিল্পী নন, অনেক সহায়তাপরায়ন একজন মানুষ তিনি।

কিছুদিন আগে কলকাতায় গিয়েছিলেন, সেটা কি ‘শঙ্খচিল’ ছবির কোনো অনুষ্ঠানে ?

হ্যাঁ। কিছুদিন আগে ভালোবাসা দিবসে ‘নন্দন’ নামে কলকাতায় একটি বিখ্যাত জায়গায় গিয়েছিলাম। সেখানে ‘শঙ্খচিল’ ছবির পোস্টারের প্রথম লুক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমরা উপস্থিত ছিলাম। কলকাতার ‘নন্দন’ আমাদের শিল্পকলা একাডেমির মত একটা জায়গা। সেখানে সেময় আর্ট-কালচার সেক্টরসহ স্থানীয় সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনাকে কি এখন ছোটপর্দায় কম দেখা যায়?

না। বিষয়টি সেরকম না। আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একটু কম কাজ করি। বেছেও কাজ করি বলতে পারেন। কারণ আমি একটু আরামপ্রিয় বা আলসে প্রকৃতির মানুষ।

নতুন ছবির কোনো খবর আছে কি ?

না। এখন আমার ধ্যান-জ্ঞান সবকিছু শুধুই ‘শঙ্খচিল’ ছবিকে ঘিরে। ছবিটি দুই বাংলায় পহেলা বৈশাখ মুক্তি পাবে।