ম্যাখোঁর জয়ের পাঁচ কারণ: ফ্রান্সে ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’

47

বিলেতবাংলা ৮ মে: ফ্রান্সে অনেকটা ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ ঘটিয়েছেন ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ম্যাখোঁ আগে কখনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেননি। এক বছর আগে তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ সরকারের সদস্য ছিলেন। ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ওলাঁদ অন্যতম।

ওলাঁদ সরকারে যোগ দেওয়ার আগে ম্যাখোঁ ফরাসিদের মাঝে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। অথচ ৩৯ বছর বয়সী এই ম্যাখোঁই ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

দুই দফার নির্বাচনে দেশটির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের পেছনে ফেলে শেষ হাসি হাসছেন ম্যাখোঁ। তিনি প্রথমে মধ্য বাম ও মধ্য ডানপন্থী প্রার্থীদের পরাজিত করেন। আর গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফায় ভোটে পরাজিত করেন কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীকে।

দ্বিতীয় দফায় মধ্য ডানপন্থী ম্যাখোঁ পেয়েছেন ৬৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থী মারিন লো পেন পেয়েছেন ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট।

আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে ম্যাখোঁর জয়ের পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলো হলো:

ভাগ্য

নিঃসন্দেহে ম্যাখোঁ ভাগ্যবান। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে ভাগ্য তাঁর সহায় হয়েছিল।

কেলেঙ্কারির কারণে শুরুতেই নির্বাচনী লড়াই থেকে বাদ যান মধ্য ডানপন্থী প্রার্থী ফ্রাঁসোয়া ফিওঁ। সোশ্যালিস্ট প্রার্থী বেনোট হ্যামনও বাদ পড়েন।

ফরাসি বিশ্লেষক মার্ক অলিভার বলেন, ম্যাখোঁ খুবই ভাগ্যবান। কারণ, পুরোপুরি একটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন তিনি।

বিচক্ষণতা

ভাগ্যের পাশাপাশি ম্যাখোঁর বিচক্ষণতাও তাঁর জয়ে অবদান রেখেছে।

নির্বাচনে সোশ্যালিস্ট প্রার্থী হতে পারতেন ম্যাখোঁ। তবে সে পথে হাঁটেননি তিনি। সোশ্যালিস্ট পার্টির টিকিটে যে জয়লাভ করা যাবে না, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।

ইউরোপের পরিস্থিতি দেখে শিক্ষা নেন ম্যাখোঁ। রাজনীতিকদের ব্যর্থতায় নিজ দেশে সৃষ্টি হওয়া সুযোগ কাজে লাগান তিনি।

২০১৬ সালের এপ্রিলে ম্যাখোঁ নিজের দল গঠন করেন। পরে ওঁলাদের সরকার ছাড়েন।

নতুনত্ব

ফ্রান্সে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন ম্যাখোঁ। তিনি তাঁর দেশের মানুষের মন বুঝতে পেরেছিলেন। জানতে পেরেছিলেন তাঁদের হতাশার কথা।

 

ম্যাখোঁ তৃণমূলকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই ভোটারদের কাছে যায় তাঁর দল। তাদের সঙ্গে কথা বলে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতি মনোযোগ দেয়।

 

প্যারিসভিত্তিক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এমিলি স্কুলথিস বলেন, ২০০৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বারাক ওবামার নেওয়া কৌশল কাজে লাগায় ম্যাখোঁর দল।

 

ইতিবাচক বার্তা

ওলাঁদের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ম্যাখোঁ। এ সময় ফ্রান্সে সরকারি ব্যয় কমানোর বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। ম্যাখোঁ নিজেকে ওলাদে পরিণত করেননি।

 

বিশ্লেষক মার্ক অলিভার বলেন, ফ্রান্সজুড়ে একটা হতাশা ছিল। এর মধ্যে আশার বাণী নিয়ে আসেন ম্যাখোঁ। তিনি জনগণকে ইতিবাচক বার্তা দেন। কী করবেন, তা বলেননি তিনি। মানুষ কীভাবে সুযোগ পেতে পারে, সেই কথা বলেছেন। এই ধরনের বার্তা তিনিই শুধু দিয়েছেন।

 

লো পেনের বিপরীত

ম্যাখোঁর ইতিবাচক মনোভাবের বিপরীত অবস্থানে ছিলেন লো পেন। তাঁর কণ্ঠজুড়ে ছিল নেতিবাচক কথাবার্তা। তিনি অভিবাসনবিরোধী, ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী, পদ্ধতিবিরোধী।

 

ম্যাখোঁর নির্বাচনী সভায় বৈচিত্র্য ছিল। ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আর লো পেনের সভায় হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা লেগে থাকত। থাকত পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি।

 

লো পেন ভীতির সঞ্চার করেছিলেন। অন্যদিকে, ভয়কে জয় করে আশার কথা শুনিয়েছিলেন ম্যাখোঁ।

 

নির্বাচনে জয়ের পরও ম্যাখোঁ বলেছেন, তাঁর দায়িত্ব হবে ভীতি দূর করা। আশাবাদ জাগানো।