‘মুক্তিযোদ্ধা’ টাইটেল নয় কেন?

47

সুমন দেব নাথ

যোগ্যতা অনুযায়ী মানুষ নামের আগে বিভিন্ন ধরনের টাইটেল ব্যবহার করেন যেমন, ডা:, ইঞ্জি:, এ্যাড: মেজর, ইত্যাদি ইত্যাদি…

কিন্তু কখনো কোন মহান মুক্তিযোদ্ধাকে দেখিনি নামের আগে “মুক্তিযোদ্ধা” শব্দটাকে টাইটেল হিসাবে ব্যবহার করছেন! কিন্তু কেন? একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় তো মুক্তিযোদ্ধাই হওয়া কথা? এটা কি উনাদের টাইটেল হওয়ার কথা ছিল না? ৪৬ বছর লাগে এই কাজটা করতে? অথচ এইটাই হওয়ার কথা ছিল আগে…..

আর ক’বছর পরে পাবেন একজন মুক্তিযোদ্ধা? বেঁচে থাকতে যদি সর্বোচ্চ সম্মানটুকু দিতে না পারি তাহলে মরার পরে কি হবে কফিনের উপর লাল-সবুজ পতাকা রেখে?

এতো দিনে রাষ্ট্রের নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা যে এই টাইটেলের মানুষরা যখন যেখানে যাবেন, আইনত যা করতে চাইবেন সরকারী/বেসরকারি নির্বিশেষে সবক্ষেত্রেই পাবেন ‘ভিভিআইপি’ সার্ভিস। অথচ এয়ারপোর্টে দেখি ভিআইপি সার্ভিস নেয় দুর্নীতিবাজ কোন কর্মকর্তা নতুবা ঐ দুর্নীতিবাজ কোন পলিটিশিয়ান!

আর এদিকে আজও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনতে হয়, চিকিৎসা নিতে হয়! মুক্তিযোদ্ধারা এখন আছেন জীবনের গোধুলী লগ্নে তাই এই মূহুর্তে সবচেয়ে বেশী দরকার চিকিৎসা সেবা। আমাদের দেশে নামীদামী ৫* হোটেলের সমমান হাসপাতালের সংখ্যা তো নেহাত কম নয়! আজ পর্যন্ত কোন হাসপাতাল ঘোষণা দিয়েছে যে “আমাদের এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়!” না দেয়নি! কিন্তু ইন্ডিয়া যখন সেই সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেয় আমরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়ি!

আরে বাবা এই টাইটেলের মানুষগুলো কেন প্রায়োরিটি সার্ভিস পাবেন না? উনারা কি সাধারণ মানুষ যে সবার সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে সার্ভিস নিবেন? মনে রাখবেন ৭ কোটি বাঙ্গালীরা সবাই কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হয়নি! একমাত্র সাধারণের মধ্যে অসাধারন যারা ছিলেন কেবল তাঁরাই কেবল মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন। তাইতো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কোটিতে নয় হাজারেই সীমাবদ্ধ (যদিও বছর বছর বাড়ছে)

আমরা হয়তো জীবনে অনেক কিছুই হতে পারবো, কিন্তু কখনো একজন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হতে পারবো না! তাই আসুন বেঁচে থাকতেই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের “মুক্তিযোদ্ধা” এই টাইটেলের নিশ্চিত ব্যবহার করে উনাদের সর্বক্ষেত্রে ভিআইপি প্রায়োরিটি সার্ভিস নিশ্চিত করি।

(লেখক: সাংবাদিক ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট। লেখাটি উৎসর্গ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা রুহেল আহমেদ ও সালেহ মোস্তফা জামিলকে)সত্যবাণীর সৌজন্যে