হাওর নিয়ে সচিবের মন্তব্য ‘অবাঞ্ছিত’ ও ‘দায়িত্বহীন’

71

দোদুল খান

সাম্প্রতিক অকাল বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ অঞ্চলকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা করার দাবির মুখে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যকে অবাঞ্ছিত ও দায়িত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অকাল বৃষ্টি ও বন্যায় সুনামগঞ্জসহ দেশের হাওরাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে একমাত্র বোরো ফসলের প্রায় শতভাগ ক্ষতি হয়েছে।

এরপর গত মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সুনামগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উপস্থিতি এ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলকে দুর্গত ঘোষণা করা যাবেনা বলে কিছু অবাঞ্ছিত ও দায়িত্বহীন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নামে একটা আইন আছে। এই আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোন এলাকার অর্ধেকের উপরে জনসংখ্যা মরে যাওয়ার পর ওই এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হয়। না জেনে যারা এমন এমন সস্তা দাবি জানায় তাদের কোনপ্রকার জ্ঞানই নেই।

অবজ্ঞার সুরে সচিব আরো বলেন, “কিসের দুর্গত এলাকা? একটি ছাগলও তো মারা যায়নি। খাদ্যগুদামে প্রচুর খাদ্য মজুদ আছে”। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ওই বৈঠকেই সচিবের এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়।

একটি এলাকা দুর্গত ঘোষণা করতে আইনে কী আছে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইইউ শহীদুল ইসলাম শাহীন জানান, “সচিব আইনের যে ধারার কথা বলেছেন তার কোথাও লেখা নেই অর্ধেক মানুষ মারা না গেলে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা যাবে না। বরং আইনে আছে রাষ্ট্রপতি স্বীয় বিবেচনায় বা সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, গ্রুপ বা সংস্থা অথবা জেলা প্রশাসকের সুপারিশক্রমে একটি এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে পারেন”।

তিনি বলেন, “সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষ যখন তাদের সারা বছরের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে হাহাকার করছে তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সচিবের এ ধরণের মন্তব্য অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত”।

তিনি আরো বলেন, “সচিবকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনটি আবারো পর্যালোচনা করে দেখে তার ভুলটির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে”।

হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, “সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এখন কেবল কান্না। আর এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিবের দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এ ধরণের আচরণ অবাঞ্ছনীয়”।

তিনি সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, ফসল হারিয়ে সুনামগঞ্জের সাধারণ কৃষকরা বিপর্যস্ত, আর এ সংকট মোকাবেলায় সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার ব্যাপারে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের স্থানীয় সাংসদ পীর মিসবাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক নুরুল হুদা মুকুট, পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুলসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। এছাড়াও একই দাবি জানাচ্ছে সুশাসনের জন্য নাগরিক, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও, হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা সহ নানা সংগঠন।