লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় বিশ্বনেতাদের নিন্দা, ব্রিটেনের প্রতি সংহতি

41

বিলেতবাংলা ২৩ মার্চ: যুক্তরাজ্যের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বুধবার বিকেলে অধিবেশন চলাকালে পার্লামেন্টের বাইরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বনেতারা। এ ঘটনায় তারা ব্রিটেনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন।

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যদিও এ হামলার প্রেক্ষাপট এখনো স্পষ্ট নয়, তবু আমি পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই যে জার্মানি এবং এ দেশের জনগণ সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াবে।’

হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার বলেন, ট্রাম্প ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হামলার নিন্দা জানিয়ে লন্ডনের পাশে থাকার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন।

ইউরোপীয় এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় জানতে পেরেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। তবে তার সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

এর আগে, লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে তা পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন এক হামলাকারী। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গাড়ির ধাক্কায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীর কথা জানিয়েছে স্কাই নিউজ।

এছাড়া অপর এক হামলাকারী ৮ ইঞ্চি ছুরি নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন তিনি। তখন পুলিশের গুলিতে নিহত হন হামলাকারী। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান মার্ক রওলি জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালাতে ওঁৎপেতে থাকা এক হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।