লন্ডনে ‘সন্ত্রাসী ঘটনায়’ নিহত অন্তত চারজন

23

বিলেতবাংলা ২২ মার্চ: লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের কাছে একটি গাড়ি পথচারীদের উপর তুলে দেওয়ার পর ছুরি হাতে পুলিশকে মেরে এক ব্যক্তি পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়লে তাকে গুলি করেছে নিরাপত্তা কর্মীরা।

বুধবার বিকালে পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে এই ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলার বছর পূর্তির দিনে লন্ডনের এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ বলছে যুক্তরাজ্য পুলিশ।

পার্লামেন্ট ভবনের কাছে ওয়েস্টমিনস্টার সেতুতে ঘটে গাড়ি দুর্ঘটনাটি; আর ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসের প্রাঙ্গণে ছুরি নিয়ে চড়াও ব্যক্তিকে ধাওয়া করে গুলি করে নিরাপত্তা বাহিনী।2f835481657d6a0ce7f1b29f1d3a914a-58d2a24b36cd8

দুটি ঘটনার যোগসূত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ওই ব্যক্তি কি গাড়িটি থেকে নেমেই পুলিশের উপর চড়াও হয়েছিলেন কি না, তাও জানা যায়নি।

তবে লন্ডন মেট্রোপলিটান পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, “কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। অন্য কিছু না জানা পর্যন্ত আমরা এটাকে সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবেই দেখছি।”

রয়টার্সের শিরোনামে ঘটনাটি রেখা হয়েছে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’; বিবিসি বলছে, ‘হামলা’; স্কাই নিউজ লিখেছে, ‘গাড়িহামলা, গুলি, ছুরিকাঘাত’। তবে পুরো ঘটনা স্পষ্ট করতে পারেনি কেউই।

হামলাকারী একাধিক বলে খবর ছড়ালেও লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মার্ক রোলে সাংবাদিকদের বলেছেন, “হামলাকারী একজনই ছিল। সম্ভবত সেই মারা গেছে।”

এই ঘটনায় মোট চারজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘটনার সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে পার্লামেন্ট ভবনেই ছিলেন; তাকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয় বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই পার্লামেন্ট অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

বিকালে পার্লামেন্টে অধিবেশন চলার সময় হঠাৎ বিকট একটি শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরক্ষণেই কয়েকটি গুলির শব্দ পাওয়ার কথা পার্লামেন্ট সদস্য ও কর্তব্যরত সাংবাদিকরা টুইটারে জানালে সঙ্গে সঙ্গে তা গণমাধ্যমের শিরোনামে চলে আসে।Westminster-4

ধারণা করা হচ্ছে, বিকট শব্দটি হতে পারে সেতুর কাছে রেলিংয়ে গাড়িটির ধাক্কা। আর এর পরপরই ছুরি হাতে চড়াও ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের করা গুলির শব্দ শুনতে পান সবাই।

এই ঘটনায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্কাই নিউজ জানিয়েছে। তার মধ্যে একজন নারী, যিনি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। একজন পুলিশের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে বিবিসি, যার মৃত্যু ঘটে ছুরিকাঘাতে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, ছুরিহাতে একজন পুলিশের উপর চড়াও হলে তাকে গুলি করা হয়।

ছুরি হাতে এক ব্যক্তিকে প্রাসাদের প্রাঙ্গণে দৌড়াতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসিও। তার পেছনে তখন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছুটছিলেন।

হাউস অব কমন্সের নেতা ডেভিড লিডিংটনকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, পুলিশের উপর হামলাকারী ওই ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি করেছে।

রয়টার্সের এক সাংবাদিক বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দের পর তিনি পার্লামেন্ট ভবন প্রাঙ্গণে দুজনকে পড়ে থাকতে দেখেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাতের পর পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হামলাকারীকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

নিহত ব্যক্তি কে, তিনি কী কারণে চড়াও হয়েছিলেন পুলিশের উপর- সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।Westminster

গুলির শব্দ পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবন ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসের সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ডেইলি মেইলের সাংবাদিক কোয়েন্টিন লেটস বলেন, হামলাকারী খোলা গেইট দিয়ে ঢুকে পড়ে, তারপর পুলিশের উপর চড়াও হয়েছিলেন। একজন পুলিশ সদস্য লুটিয়ে পড়েন।

“তারপর হামলাকারী দৌড়াতে থাকে এমপিরা যে গেইট দিয়ে পার্লামেন্টে ঢোকেন, সে দিকে। ২০ গজের মতো দৌড়ানোর পর তাকে সাদা পোশাকে থাকা দুই নিরাপত্তার গুলিতে তিনি পড়ে যান।।”

রয়টার্সের এক আলোকচিত্রী বলেছেন, এই ঘটনায় ডজন খানেক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় দেখেছেন তিনি।

তার তোলা ছবিতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়; এর মধ্যে এক নারী গাড়ির নিচে চাপা পড়েন।

আহতদের মধ্যে ফ্রান্সের কয়েকটি স্কুল শিশুও রয়েছে। আহতদের যে ছবি গণমাধ্যমে এসেছে, তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যা দেখে মনে হচ্ছে, তারা গাড়িটির ধাক্কায় জখম হন।

স্কাই নিউজের সাংবাদিক অ্যালান প্যারি বলেন, সেতুর রেলিংয়ে একটি গাড়ি আঘাত হানে, সেখানে একজন পথচারী অথবা সাইকেল আরোহীকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

পার্লামেন্ট ভবনে অবস্থানরত রয়টার্সের এক সাংবাদিক বলেন, ফটকের ভেতরে আহত দুজনকে চিকিৎসা দিতে দেখেছেন তিনি।

ঘটনার সময় সেতুর উপর বাসে থাকা এক পর্যটক স্কাই নিউজকে বলেন, “আমি দেখলাম একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর পাশে পথচারীদের উপর উঠে যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন লুটিয়ে পড়ে তখন। অন্তত ১০ জনকে আমি দেখেছি।”

হামলার পর ওই এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সরিয়ে নেওয়া হয় অন্যদের।

লন্ডনের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে এনিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য আসেনি।