মেয়র পদে ফিরলেন আরিফ

82

বিলেতবাংলা,১৪ মার্চ: সিলেট সিটি কর্পোরেশন সিসিকের মেয়র পদে শিগগিরই ফিরছেন আরিফুল হক চৌধুরী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। গত ১৩ মার্চ সোমবার বিচারপতি সৈয়দ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আকরাম হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ আদেশের ফলে দায়িত্ব পালনে অরিফের কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম কাফি। আদালতে আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে ব্যারিস্টার কাফি ছাড়াও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন শুনানিতে অংশ নেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এস এম কিবরিয়া হত্যা মামলায় হবিগঞ্জের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আরিফুল হক চৌধুরীকে কারাগারে প্রেরণ করেন বিচারক। এরপর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি আরিফকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্থ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এদিকে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিভাবকহীন রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নগরভবনের শীর্ষ ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে থমকে গেছে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন। মেয়রের সেবা বঞ্চিত রয়েছেন নগরবাসী। পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন, জলাবদ্ধতা, যানজট নিরসন ও ফুটপাত উচ্ছেদ করে নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছিলেন মেয়র আরিফ। কিন্তু ১৫ মাসের মাথায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাবন্দি হন তিনি। আইনী প্রক্রিয়ায় এই মামলায় উচ্চ আদালত জামিন দিলে আরিফকে আসামি করা হয়, সুনামগঞ্জের শাল্লায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা মামলায়। হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের পৃথক দু’টি ঘটনায় দায়েরকৃত চারটি মামলার আসামি হিসেবে আরিফ প্রায় দুই বছর জেলে ছিলেন। উচ্চ আদালত থেকে সবক’টি মামলায় জামিন নিয়ে গত ৪ জানুয়ারি কারামুক্ত হন তিনি। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বহিস্কার করায় ফিরতে পারেননি নগরভবনে। উচ্চ আদালত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করায় এখন আর নগরভবনে ফিরতে বাধা নেই আরিফের। অপরদিকে, আরিফুল হক চৌধুরী বহিস্কার হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত মেয়র হওয়া নিয়ে প্যানেল মেয়রদের মধ্যে দেখা দেয় চরম বিরোধ। প্যানেল মেয়র কয়েস লোদি আর সালেহ আহমদের মধ্য এই বিরোধ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দুই প্যানেল মেয়রের এই বিবাদের কারণে ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদে কেউ বসতে পারেননি। এই অবস্থায় ২ বছর ধরে জনপ্রতিনিধির বদলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চালাচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।