কিসের টানে আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭

63

।। সৈয়দ জগলুল পাশা।।

সিলেট বিভাগ ভৌগলিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এক সতন্ত্র বৈশিষ্টের অঞ্চল। বরাক থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদী বিধৌত অঞ্চল,উর্বরভূমি, পাহাড় ও বনভূমি, হাওর-বাওর, বিল ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিশালতায় ভরপুর। এ জনপদে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পেশাগত মানুষের রয়েছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। মানুষের আচার-আচরন, ভাষা, সংস্কৃতির ও রয়েছে স্বাতন্ত্র ও সমৃদ্ধি। সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক সুষমা পর্যটন বিভাগরূপে তার খ্যাতিকে করেছে বিস্তৃত।

ঐতিহাসিক ভাবে প্রাচীন, লাউর, গৌড় ,জয়ন্তিয়া ও অন্যান্য রাজ্য নানা বিবর্তনে আসাম, পূর্ববঙ্গ, পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পৃক্ততায় গড়ে উঠা সিলেট অঞ্চলের জনগোষ্ঠী নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে ধনে-মানে-জনে। বাংলাভাষা-ভাষী হলেও স্বতন্ত্র উচ্চারন, বাচনভঙ্গি ও উপভাষা নিয়ে হয়েছে সিলেট সম্প্রীতির সোপান। বাংলাভাষায় বর্ণের স্বতন্ত্র বিন্যাস নাগরীলিপি প্রবর্তিত ও বিকশিত এ অঞ্চলে। তাছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ সাধন করেছে সিলেটে। মানুষের জীবন-জীবিকার বৈচিত্রের মাঝে ও রয়েছে সাযুুজ্য। কৃষি ও কৃষিজাতপন্য উৎপাদনমূল পেশা হলেও তা স্বতন্ত্র বৈশিষ্টে দীপ্যমান। সিলেটের চাশিল্প, মৎসসম্পদ ভান্ডার, ধান উৎপাদন, বনাঞ্চল, কমলা, লিচু ও কাঁঠালফল, গ্যাস ও জ¦ালানী তেলসহ, প্রাকৃতিকসম্পদ সমৃদ্ধ করছে জাতীয় অর্থনীতিকে। উপমহাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীন চা বাগান সিলেটে।

সিলেটের সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহু দিনের। সুফি সাধক সৈয়দ শাহনুর, সঙ্গীতজ্ঞ রাধারমন দত্ত, হাছনরাজা, শিতালংশাহ, শেখভানু, আরকুমশাহ ও শাহ আব্দুল করিম তাঁদের কালে আমাদের সাংস্কৃতিক ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আধ্যাতিœক সঙ্গীত, মুর্শিদি, বাউলগান, ভাটিয়ালী, ধামাইল ও লোকজ সক্সগীতের ক্ষেত্রে অগ্রনী সিলেট। কালের প্রবহমানতা নিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভারতে ও পরবর্তীতে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে সিলেট অগ্রনী ভূমিকা রেখেছে। বাগ্মী বিপিন চন্দ্র পাল, ব্রতচারী গুরু সদয় দত্ত, আইসিএস গজনফর আলী খান, মৌলানা আব্দুর রশিদ, নারীনেত্রী লীলা রায়, ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস, খানবাহাদুর মফিজুর রহমান, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য, লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী, কবি দিলওয়ার, দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফসহ অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি এ ভূমিরই সন্তান।

সিলেটের প্রকৃতি ও মানুষের সান্নিধ্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন ইবনে বতুতাসহ অনেক পরিব্রাজক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মহাত্ম গান্ধী, জহরুল লাল নেহরুসহ অনেক সর্বভারতীয় নেতৃবৃন্দ সফর করে মুগ্ধ হয়েছেন সিলেটের আতিথেয়তায়। আমাদের কিংবদন্তি চাদনীঘাটের সিড়ি, আলী আমজাদের ঘড়ি, কীনব্রীজ এখনো আকর্ষন করে সবাইকে। প্রায় ৩৫০ শত বছরের পুরনো শাহী ঈদগাহে অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা/ সমাবেশ করেছেন। সিলেট অঞ্চল মোঘল শাসন আমলে নিষ্কর ভূমিরূপে ফরমানাধীন ছিল।

বিগত ১৩০০শতাব্দীতে ৩৬০ জন আউলিয়াসহ আরবীয় মুসলিম সাধক হযরত শাহজালাল সিলেট আগমন করেন। ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি এ সকল আউলিয়াকুল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শায়িত আছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরু শ্রী চৈতন্যদেব এর জন্মভূমি সিলেট।

বৃটিশ ভারতে সিলেটের রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃত্ব ভারতের স্বাধীনতার জন্য অবদান রেখেছেন। গনভোটের মাধ্যমে বর্তমান সিলেট যোগ দেয় পূর্ব পাকিস্তানে। সিলেট যাতে গণভোটের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেয় সেজন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও নিরলস কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধরত বাহিনী সমূহের প্রধান সেনাপতি রূপে নেতৃত্ব প্রদান করেন মরহুম জেনারেল এম এ জি ওসমানী, উপ প্রধান মরহুম জেনারেল এম এ রব, সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল সিআর দত্ত, বীর উত্তম, মেজর জেনারেল হারুন আহমদ চৌধুরী, বীর উত্তম, মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান, বীর উত্তম, অনারারী ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান চৌধুরী, বীর উত্তমসহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা। শহীদ ডা: শামসুদ্দিন, সোলেমান, জগত জ্যোতি দাশ সহ লাখো শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের ধারায় সিলেটের গৌরবময় অবদান রয়েছে।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীসহ সিলেটবাসীদের ব্যাপক অবদান রয়েছে। আমাদের মাটির সন্তান বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী, মেজর জেনারেল এম এ রব ও সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্তসহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। সিলেটের চা শিল্প, গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ, মৎস্য ও কৃষিজাত খাদ্যভার সমৃদ্ধ করছে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদানের খ্যাতিমান বাগ্মী বিপিন চন্দ্র পাল, গণ নাট্য আন্দোলন পুরুধা হেমাঙ্গ বিশ^াস, গায়ক নির্মলেন্দু চৌধুরী, ব্রতচারীশ্রী গুরুসদর দত্ত, নারী আন্দোলন পথিকৃত লীলানাগ এ মাটির সন্তান। সিলেটের হাদামিয়া-মাদামিয়া বৃটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন ।

রাজনীতি ক্ষেত্রে সিলেটের জনসচেতনতা ও নেতৃত্বের অবদান কৃষক আন্দোলন, নানকার আন্দোলন সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারায় মিশ্রিত। আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণ সাধনে সিলেটবাসীর অপরিসীম অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের পূর্বতন স্পিকার জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী জনাব এম সাইফুর রহমান ও জনাব শাহ এস এম এস কিবরিয়া, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আবদুস সামাদ আজাদ, সাবেক মন্ত্রী এম এ খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জনাব দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক মন্ত্রী জনাব মোস্তফা শহীদ, সাবেক মন্ত্রী জনাব এম এ হক, তত্ত¦াবধায়ক সরকারের বিভিন্ন সময়ের উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের হুইপ , সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য বাবু সুরন্জিত সেন গুপ্ত ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনেক অবদান রেখেছেন। প্রয়াত:রাজনীতিবিদ জনাব পীর হবিবুর রহমান, বরুন রায় , আবদুল হামিদ, আসদ্দর আলী সহ অনেকের জনগনের জন্য সংগাম আমাদের প্রেরনা যোগায়। আমরা এখনো অনেকের নাম জানিনা বা বিস্মৃত হয়ে গেছি।

বর্তমান মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জাতীয় উন্নয়নে নিরলস অবদান রেখেছেন ও রেখে চলেছেন।বাংলাদেশের বর্তমান অর্থমন্ত্রী ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় মন্ত্রী /উপদেষ্টা বর্গ, প্রতিমন্ত্রী , সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য , জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ,মেয়র ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিগণ সকলের উদ্দেশ্য আমাদের সিলেটকে ” শান্তি ও সমৃদ্ধির সিলেট” এ রূপায়ন।

উপমহাদেশের প্রথম বাংলা দৈনিক সংবাদপত্র থেকে শুরু করে বিশাল সংবাদপত্র ও সাময়িকীর প্রকাশনায় সিলেট রেখেছে অনেক অবদান যা আজও দীপ্যমান। এমনকি প্রবাসেথেকেও প্রায় অর্ধশতাধিক সংবাদপত্রের সাথে অতপ্রোত:ভাবে সিলেটিরা যুক্ত রয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ পূর্বকাল হতে ব্যাপকভাবে কর্ম উপলক্ষে প্রবাসগমন ঘটে সিলেটিদের। ইংল্যান্ড, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, ইতালি, মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদিআরবে অনেক প্রবাসী সিলেট রয়েছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে সিলেটি ভুপর্যটক রামনাথ বিশ^াস বিশে^র অনেক দেশ ভ্রমন করেছিলেন। সিলেটের প্রবাসীজনগোষ্ঠী শুধু সিলেটের নয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।

ঐতিহ্যের ধারা বেয়ে বর্তমান সময়েও সিলেট পৌছেছে এক সুন্দর অবস্থানে। বর্তমান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় প্রায় ১০.০০ লক্ষ প্রবাসী বিদেশে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে দেশে প্রেরন করছেন মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রা। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী সিলেটীদের ১৩০০০ এর অধিক রেষ্টুরেন্টের বার্ষিক আয় প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের খাবারের সাথে প্রতিযোগিতায় থেকে গড়ে উঠেছে আমাদের রন্ধন শিল্প। উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ও পেশার সুবাধে পরবর্তী প্রজন্মের সিলেটীরা জ্ঞান, বিজ্ঞান, আচার-আচরন ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে। প্রবাসের মূলধারার রাজনৈতিক সামাজিক প্রক্রিয়ার সম্পৃক্ত হয়ে কাউন্সিলার, মেয়র ও এমপি হয়ে চলেছেন সলেটীরা এবং অবদান রাখছেন বিশ্ব রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে।

 

সিলেট বিভাগের ব্যবসা-বানিজ্য ও পর্যটন ব্যবসা বিকশিত হচ্ছে। রাতারগুল, বিছানাকান্দি, পাšু’মাই, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বাইক্কাবিল, হামহামঝরনা, চ-বাগান, সহনতুনপর্যটন স্পট সমূহ দেশী-বিদেশীদেরপর্যটনেআকৃষ্ট করছে। পর্যটন কেন্দ্রিক আধুনিক রিসোর্ট, হোটেল ও গেস্ট হাউস গড়ে উঠছে সিলেটে। হবিগঞ্জ থেকে সিলেটের শেরপুর পর্যন্ত প্রায় ৭৫ কিলোমিটারব্যাপী বেসরকারী খাতের শিল্পাঞ্চল এর পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন। পাশাপাশি সরকার গড়ে তোলছেন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল । ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হচ্ছে ৪ লেন বিশিষ্ট আধুনিক। সিলেটের সরকারী স্কুলকলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ সম্পসারিত হয়েছে। দাতব্য চিকিৎসার কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক চিকিৎসা সুনিশ্চিতের পর্যায়ে পৌছাচ্ছে সিলেট।

সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমাদের ঘরে ফেরার জন্য যাতায়াত সহজতর করছে। যে সকল বিষয় আমাদের প্রত্যাশার পর্যায়ে রয়েছে তা হল (১) শিক্ষা ও কারিগরী দক্ষতারসুযোগসম্পসারন, (২) ঢাকা-সিলেট ৪ লেনসড়কপ্রতিষ্ঠা, (৩) আধুনিক রেল ও রেলপথ উন্নয়ন, (৪) প্রবাসী ও সিলেটবাসীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে শিল্পাঞ্চলেবিনিয়োগসুবিধাপ্রদান ও (৫) প্রতিবেশীদের সাথে আন্ত: সংযোগ পথ সমূহউন্নয়ন(৬) বাংলাদেশের প্রবাসীদের ভোটার তালিকাভুক্তকরন এবং সিটিজেনশীপ আইনের প্রতিকূলতা দূর করা।

জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতোপূর্বে অভিভূক্ত ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শ্রীহট্ট সম্মিলনী। জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা প্রবাসী সিলেটীদের মিলন কেন্দ্র। ক্রমে ক্রমে আমাদের পূর্ব পুরুষদের প্রচেষ্টায়তা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন নামে সংগঠিতও সমৃদ্ধ হয়েছে। অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন হিসেবে জাতীয় উন্নয়ন ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে সিলেট ও প্রবাসী উন্নয়নসহ সামাজিক কর্মকান্ড বিস্তৃত করে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে মৌলিক উদ্দেশ্য হল প্রবাসী সিলেটীদের সাথে যোগাযোগবৃদ্ধি ও সম্প্রীতির সম্প্রসারন। পাশাপাশি শেকড়ের টানে সিলেটে ও সামাজিক অবদান রাখা। এজন্যে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের অগ্রাধিকার হচ্ছে শিক্ষা সম্প্রসারনে জালালাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষার্থী সহায়তা প্রদান, বিনিয়োগ সহায়তা কার্যক্রম, মহিলা উন্নয়ন কার্যক্রম, ঢাকা ও সিলেটে প্রবাসী কল্যান কেন্দ্র স্থাপন, সিলেট বিভাগে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ইত্যাদি।

আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭’ অনুষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি, প্রধান পৃষ্ঠপোষকÑগ্রীনডেল্টা ইন্সুরেন্স লি.-এর প্রধান ঊপদেষ্টা জনাব নাসির এ চৌধুরী এবং প্রধান সমন্বয়কারীÑসাবেক এমপি, পূবালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান জনাব হাফিজ আহমদ মজুমদার। সিলেট কর্মসূচীর যুগ্মসমন্বয়কারী জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রবাসীকল্যান ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সিএম কয়েস সামি। উৎসবের শুভ উদ্বোধন ও মুল অনুষ্ঠানমালায় সভাপতিত্ব করবেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা এর সভাপতি জনাব সি এম তোফায়েল সামি।

 

আগামী ৩-৪ মার্চ-২০১৭ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি প্রধান অতিথি হিসাবে উক্ত উৎসবের শুভ উদ্বোধন করবেন। তাছাড়া আগামী ৬-৭ মার্চ-২০১৭ এ অনুষ্টেয় সিলেট পর্যায়ের কর্মসূচী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি প্রথান অতিথি হিসাবে উক্ত উৎসবের সিলেট পর্যায়ের কর্মসুচীর শুভ উদ্বোধন করবেন। বর্নাঢ্য উৎসবের অনুষ্ঠানমালার বিভিন্ন পর্যায়ে সিলেট বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী বর্গ, প্রতিমন্ত্রী , সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য , জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ,মেয়র ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিগণসহ, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী , মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সিলেট প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল অংশ গ্রহণ করবেন।

কিসের টানে সিলেট উৎসব ???

আমাদের সিলেট-শান্তি ও সমৃদ্ধির এক অন্যবদ্য জনপদ। জন্ম-জন্মান্তারে আমাদের ভাষার সূর পরিবর্তিত হয় না। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘কমলার গন্ধ’ আমরা ছাড়তে পারিনি। পারিনি সাতকরার স্বাদ ও আকর্ষণ ভূলতে। ইন্দো বাংলা সিলেট উৎসবে কোলকাতায় গিয়ে দেখলাম বাসা থেকে রান্না করে নিয়ে এসে দাদীমা সম মহিলারা আমাদের খাইয়েছেন। আমাদের বিপিন চন্দ্র পাল এর নামে দিল্লীতে ভবন আনন্দ যোগায়। কলকাতার মানুষ যখন সৈয়দ মুজতবা আলীর নামে সড়ক চায় – তখন আমাদের বুক ভরে ওঠে। লস এঞ্জেলস এ যখন সিলেটীদের নামে রাস্তাঘাট দেখা যায় তখন আমরা আনন্দিত হই।

যুক্তরাজ্যের ১৩,০০০ রেষ্টুরেন্ট, প্রাচীনতম জনমত, সুরমা, নূতন দিন, আমেরিকার ঠিকানা, কোলকাতার আরম্ভ, ঢাকার মানব জমিন এবং সিলেটের প্রাচীনতম যূগভেরী সহ অন্যান্য পত্রিকা যখন আমাদের মনে হয় তখন আমরা আপ্লুত হই। অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ , লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকসও আমেরিকার ষ্টাম্পফোর্ড, প্রিনসটন এ যখন আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পদচারনা দেখি , সিলেটী প্রশাসক , ভিনদেশের রাষ্টদূত এর কথা শুনি বা সান্নিধ্য পাই- তখন ”সৃষ্টি সুখের উল্লাস” এ আর নিজেকে ধরে রাখা যায় না।

আমাদের যা কিছু অর্জন তা পবিত্র মাটির মাঝে শায়িতদের আশীর্বাদ। এদের উত্তরাধিকার এর ধারা আমরা বয়ে চলেছি। অতীতের বহমান ধারায় বর্তমানের হাত ধরে পরবর্তী প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যাবে সিলেটকে। এই আমাদের ”পরানের গহীন ভেতরে” তথা হৃদয়ের টান- তাই হবে আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব!

লেখক: সাধারণ সম্পাদক,জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা