দিরাইয়ের সব পথ গিয়ে মিলেছে সুরঞ্জিতের বাড়িতে

47

দেবব্রত চৌধুরী লিটন

সোমবার দুপুরে দিরাইয়ে পৌঁছেই যে দিকে চোখ পড়ে, সেদিক দেখা যায়, মানুষের ছুটে চলার দীর্ঘ লাইন। কোথাও সড়ক দিয়ে, কোথাও হাওরের হাঁটা পথ দিয়ে ছুটছে মানুষ। সবার গন্তব্য এক। এই উপজেলার  আনোয়ারপুর গ্রামের একটি দ্বিতল বাড়ির দিকে ছুটছেন সবাই।

বাড়িটির সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের। এই অঞ্চল থেকেই রাজনীতির হাতেখড়ি সুরঞ্জিতের। মুক্তিযুদ্ধেও হাওর অঞ্চলে নিজস্ব সাব-সেক্টর গড়ে তুলেছেন। পরে হাওর অঞ্চল থেকে উঠে পরিণত হয়েছেন জাতীয় নেতায়। দেশসেরা পার্লামেন্টারিয়ানে। তবু এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে গেঁথেছিলেন তিনি।

ফলে দিরাইয়ের মরদেহ আসছে শুনে সোমবার সকাল থেকেই এই বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন নানা দলের, নানা বয়সের মানুষ। রোববার মৃত্যু সংবাদ শুনেও এসেছিলেন অনেকে। সোমবার দুপুরে সুরঞ্জিতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় একাবারে লোকে লোকারণ্য পুরো বাড়ি। বিশাল বাড়িতে কোথাও ঠাঁই নেই। অথচ তখনও এসে পৌছায়নি সুরঞ্জিতের মরদেহ।

বিকেল ৪টায় শেষ বারের মতো নিজ বাড়িতে এসে পৌছেন সুরঞ্জিত। এরপর সেখান থেকে নেওয়া হয় বাড়ির পাশ্ববর্তী আখড়ায়। সেখানে ধর্মীয় আচার শেষে বাড়ির পাশের বালুর মাঠের অস্থায়ীভাবে নির্মিত শোকমঞ্চে রাখা হয় সুরঞ্জিতের মরদেহ। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাজারো মানুষ। অন্যান্যের মধ্যে সাবেক সাংসদ ও বিএনপি নেতা নাসির চৌধুরীও ‘চিরকালের প্রতিদ্বন্দ্বি’ সুরঞ্জিতের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে বাড়িতেই অত্যষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর এই সদস্যের। সেখানে রোববারই নির্মিত হয়েছে অস্থায়ী চিতা।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বাড়িতে রাখা হয়েছে শোকবই। সেখানে শোকের পঙক্তিমালা লিখছেন আগতরা। বুকে কালো ব্যাজ পড়েছেন সবাই। উপজেলার সর্বত্র কালো পতাকা। মৌন মিছিল করছে তার সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। সবখানেই শোকের আমেজ। সবখানেই কান্নার সুর।

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের থানা রোড এলাকায় বৃদ্ধ মওলানা ইসমাইল উদ্দিন প্রিয় নেতার স্মৃতিচারণ করে বলেন,  ‘সুরঞ্জিত দা ন্যাপ করতা। বড় রাজনীতিবীদ আছলা। ন্যাপ করার সময়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ অইতো দিরাইত। সেনদার সমর্থন বেশি বেশি আছিল এর লাগি তান সভাত মানুষ বেশি অইতো। তখনকার সময়ে এলাকার উন্নয়নের কথা জিগাইলে তাইন কইতা আমি বিরোধী দলের মানুষ। সংসদে করের সিটে বই। করের সিটে বইয়া তেমন উন্নয়ন করতাম পারি না। সামনের সিটে বইতে পারলে এলাকার উন্নয়ন করিলাইমু। তবে এলাকার উন্নয়ন তেমন না হইলেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আছলা জনমানুষের নেতা ‘