প্রথম দিনেই যেসব ‘অ্যাকশন’ নিলেন

53

বিলেতবাংলা, ২১জানুয়ারি: আমেরিকাকে আবারো ‘মহান’ করার অঙ্গীকার নিয়ে আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুক্রবার দায়িত্ব নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার পূর্বসুরী থেকে অনেকটা ভিন্নধর্মী বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তার পরিচালনা এজেন্সিগুলোর কাজের সুবিধার জন্য ‘এফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সাক্ষর করে। এছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর ‘তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের’ জন্য হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রাইবাসকে নির্দেশ দেন।

ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিম ফ্রন্টে ট্রাম্প তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন, ‘খালি খালি কথা বলার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন সময় কাজের।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় বল রুমের ও অন্যান্য উৎসবের পূর্বে ট্রাম্প ঐতিহ্যগত উদ্বোধনী ঘণ্টাধ্বনির অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এরপর পেনসিলভানিয়া এভিনিউতে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, সাইডলাইন থেকে তার টিমের সদস্যরা ইতোমধ্যে তাদের কর্মপরিকল্পনা তৈরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেটিকে তারা ‘নিউ ভিশন’ বা ‘নতুন দৃষ্টি’ নামে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প শপথ গ্রহণের পর পরই হোয়াইট হাউসের সরকারি ওয়েবসাইটও দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যায়; যা নতুন প্রশাসনের জন্য একটি নতুন এজেন্ডাকে প্রতিফলিত করে।

শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ওবামাকেয়ারের বিভিন্ন নিয়ম আইনগতভাবে বাতিলে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের সময় এটি তার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল।

‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রে জলপথ নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে ওবামার নেয়া ‘আমেরিকার প্রথম এনার্জি পরিকল্পনা’ বাতিল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের টিমের সদস্যরা ওবামার নেয়া এসব প্রদক্ষেপকে ‘ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেন। তাদের মতে এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে আঘাত করছে।

হোয়াইট হাউসের সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় আমেরিকান শ্রমজীবীদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে। এতে আগামী ৭ বছরের মধ্যে তাদের জন্য ৩০ বিলিয়নেরও বেশি মজুরি বৃদ্ধি পাবে।’

 

ওয়েব সাইটে দেশটির সামরিক নীতি, পররাষ্ট্র নীতি, অর্থনীতি এবং আরো অনেক বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। পরিকল্পনায় আরো বলা হয়েছে, কর্পোরেট ট্যাক্সের হার কমানোসহ পুরো ‘কর’ ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনা হবে।

 

যদিও সরকারি কর্ম নিরিখে, ট্রাম্পের প্রথম দিনে তার বেশিরভাগ প্রদক্ষেপকে রুটিনমাফিক ক্ষমতার পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

প্রথম দিনে তিনি তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করা ছাড়াও প্রথম বিল হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জেমস ম্যাটিসকে তার প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে সিনেটে জেনারেল জেমস ম্যাটিসের নিয়োগকে অনুমোদন করা হয়।

 

একইসঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জন কেলিকে নিয়োগ দেয়া হয়।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের শপথ নেয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছোট-বড় চলছে ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভ। এসব বিক্ষোভ থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশকে পেপার স্প্রে ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে অন্তত ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকেই ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটনে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ হয়। পুলিশের একজন মুখপাত্র কোনো কোনো স্থানের বিক্ষোভকে দাঙ্গার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় বেরিয়ে আসেন তার ৪৫তম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করতে। তারা ন্যাশনাল মল এবং পরে প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে এসব অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এসময় বিক্ষোভকারীরাও ট্রাম্প-বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আমরা বিদেশিদের পেছনে খরচ করেছি, যখন আমেরিকার অবকাঠামো দৈন্যদশায় নিমজ্জিত হয়েছে, ক্ষয়ে গেছে। আমরা অন্য দেশকে ধনী করে তুলেছি, যখন আমাদের সম্পদ, শক্তি আর আত্মবিশ্বাস বিলীন হয়েছে দিগন্তে। আমাদের মধ্যবিত্তের সম্পদ কেড়ে নেয়া হয়েছে, আর তা বিলিয়ে দেয়া হয়েছে পুরো বিশ্বে।

 

তিনি বলেন, আজকের পর থেকে আমাদের এই দেশ পরিচালিত হবে নতুন নীতি নিয়ে। আজ থেকে, সবার আগে থাকবে আমেরিকার স্বার্থ, সবার আগে থাকবে আমেরিকা। বাণিজ্য, কর, অভিবাসন আর পররাষ্ট্রনীতি- সব পরিচালিত হবে আমেরিকার শ্রমিকের কল্যাণের জন্য, আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য।

 

ট্রাম্প বলেন, আমরা, একসঙ্গে, আবারো গড়ে তুলব শক্তিশালী আমেরিকা। আমাদের আমেরিকা আবার হয়ে উঠবে সম্পদশালী, আমেরিকা আবারো গর্বিত জাতি হয়ে উঠবে, আমরা আবারো আমেরিকাকে নিরাপদ করে তুলব এবং হ্যাঁ, সবাই মিলে আবারো আমরা আমেরিকাকে করে তুলব সবার সেরা।