সুনামগঞ্জে ভূমিকম্পে ‘আতঙ্কে’ ২ জনের মৃত্যু

54

বিশেষ প্রতিবেদন:৩ জানুয়ারি। সুনামগঞ্জে ভূমিকম্পের সময় ‘আতঙ্কিত’ হয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে এক কিশোরীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

একইভাবে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে গেছে।

মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলা এবং সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনাগুলো ঘটে।

মৃতরা হলেন, জগন্নাথপুরের পাটলি ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের হিরণ মিয়া (৬০) ও ছাতকের সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকার শামছুল হকের মেয়ে সায়মা আক্তার(১৩)।

বিকাল ৩টা ৯মিনিটে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব এবং আগরতলা থেকে ৭৬ কিলোমিটার পূর্বে।

ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ত্রিপুরার আম্বাসা এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ৩৬ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫।

জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. মোরছালিন  জানান, দুপুরে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন হিরণ। এ সময় মেঝেতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।

“পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে হিরণের মৃত্যু হয়েছে বলে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মধুসুদন ধর জানান।

ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন জানান, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকায় চারতলা একটি ভবনে পরিবারের সঙ্গে থাকত সায়মা আক্তার। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে আহত হয় সে।

“পরে তাকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

সায়মা আক্তার সিমেন্ট ফ্যাক্টরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোসাইন ইমরান জানান, ভূমিকম্পের সময় অতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে গেছে।

আহত ইফতেখার আহমেদ রবিন লোকপ্রশাসন  বিভাগের তৃতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে সহকারী প্রক্টর সামিউল ইসলাম জানান।

রবিনের বন্ধু মনির হোসাইন জানান, রবিন ভূমিকম্পের সময় নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার অগ্রণী রোডের দোতলা একটি বাসা থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান। এতে তার বাম পা ভেঙে গেছে।