ভূমিকম্পে সিলেটে হেলে পড়েছে ভবন, ছাত্রী হোস্টেলে ফাটল

49

বিশেষ প্রতিবেদন:৩ জানুয়ারি। ভূমিকম্পে সিলেট নগরের উপশহর সি ব্লকের ৬তলা ভবনের একটি বাসা আরেকটি ভবনের উপর হেলে পড়েছে। বাসাগুলো একই ব্যক্তির মালিকানধীন। ৬ তলা ভবন হেলে পড়ার খবর শুনে বাসার সামনে ভিড় করেন লোকজন। এছাড়াও নগরের মীরবক্সটুলার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের কয়েকটি তলায় নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে।

তবে ছাত্রী হোস্টেলের অন্যান্য তলায় ভূমিকম্পে পূর্বে ফাটল দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদেরকে সরিয়ে নেননি। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৯ মিনিট ৯ সেকেন্ডে দুই দফায় অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের স্থায়ীত্ব ছিলো কয়েক সেকেন্ড। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ  জানান, ভূমিকম্প স্কেলের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরায়। সিলেট থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল ১০৫ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে দূরত্ত্ব ছিল ১৭৬ কিলোমিটার।

জানা যায়, সিলেট নগরের উপশহর সি ব্লক ৪৪ নং রোডের ৭ নং বাসার মালিক ফারুক মিয়া। যেস্থানে তিনি বাস তৈরী করেছেন সেস্থানটি ছিলো ইন্দানী দিঘীর একাংশ। ওই অংশ তিনি ভরাট করে কোন ধরণের ফাইলিং ছাড়া, নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে প্রায় ১২ বছর পূর্বে বাসাগুলো তৈরী করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। একই জায়গায় তার ৫তলা ভবন ১টি আর ৬ তলা ভবন রয়েছে ৩টি। ডান পাশের ৬তলা ভবনের উপর আরেকটি ৬তলা ভবনের উপরের অংশ হেলে পড়ে।

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে ফাটল

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের শেষের দিকে ভূমিকম্পে ভবনটি অল্প হেলে। এরপর আতংকে ওই বাসা ছেড়ে যান প্রায় ৮-১০টি পরিবার। যেভবনটি হেলে পড়েছে ওই ভবনে প্রায় ২শতাধিক লোকের বসবাস। এছাড়াও হেলেপড়া ভবনের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। হেলে পড়া ভবনটি ছেড়ে সম্প্রতি নগরের তেররতন এলাকায় বাসা ভাড়া নেন চিকিৎসক ওয়াহিদ। তিনি জানান, গত বছরের ভূমিকম্পে ভবনটি অল্প হেলে পড়ে।

আর ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিলে ভয়ে বাসাটি ছেড়ে দেই। এছাড়াও আতংকে ভবন ছেড়ে ছিলেন হানিফ, কাঞ্চন, রোমনসহ আরো কয়েকটি পরিবার। সবারই অভিযোগ ভবনটি হেলে পড়েছে আর বিভিন্ন স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে।বাসার মালিক এ ব্যাপারে সবসময় উদাসিন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এনামুল হাবীব জানান, সিসিকের প্রকৌশল বিভাগ যদি তদন্তে দেখে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ তাহলে আমরা ভেঙে ফেলা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হয়েছে।

২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন জানান, ভবন হেলে পড়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি ভবন হেলে পড়ে তাহলে সিসিকের যা করণীয় তা করা হবে।

দীঘির একাংশ ভরাট করে ভবন করা হয়েছে জানিয়ে বাসার মালিক ফারুক মিয়া জানান, বাসা হেলে পড়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন নিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ ভবনগুলো তৈরী করেছি। এখানে ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন ১টি আর ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন রয়েছে ৩টি। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটলের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাড়াটিয়ারা তাদের সুবিধা না হলে চলে যায়। ভবনে কোন ফাটল নেই।

এছাড়া সিলেট নগরের মীরবক্সটুলাস্থ উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের বিভিন্ন তলায় গত বছরের ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দিলে কলেজ কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে সেগুলো মেরামত করে নেয়। ছাত্রী হোস্টেলের অধিকাংশ তলায় ফাটল রয়েছে বলে হোস্টেলে অবস্থানকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ২য় ও ৩য় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রী হোস্টেলের কয়েকটি তলার মেজেসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে অনেক আগেই। আমরা ঝুঁকি নিয়ে হোস্টেলে বসবাস করে আসছি। তবে নতুন ছাত্রী হোস্টেল তৈরী করা হয়েছে। সেখানে শুনেছি আমাদেরকে স্থানান্তর করা হবে।