এই শিশুরা হয়তো এখন স্কুলে আসতেও ভয় পাবে’

54

বিলেতবাংলা ডেস্ক,১ জানুয়ারি:বই উৎসব চলাকালে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের দুর্গাকুমার পাঠশালায় হামলার ঘটনায় রোববার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলাও হয়নি।

মামলা না হওয়ার ব্যাপারে পুলিশ ও বিদ্যালয় পরিচলানা কমিটি একে অপরের উপর দায় চাপিয়েছে।

রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে দুর্গাকুমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ৪০/৫০ জন লোক। নামাজের সময় গান-বাজনার অভিযোগে হামলা চালায় তারা। জোহরের নামাজ শেষে হামলাকারীরা পাশ্ববর্তী সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ থেকে আসে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলাকারীরা মিছিলসহকারে এসে অনুষ্ঠানমঞ্চ, প্যান্ডেল, মাইক ও বাদ্যযন্ত্র ভাংচুর করে।

তবে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেছেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, মুসল্লীরা নয়, কিছু অতিউৎসাহী লোক এই বিদ্যালয়ে হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের খোঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

এ ঘটনায় এখনো মামলা না হওয়া প্রসঙ্গে দুর্গাকুমার পাঠশালার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা মামলা করতে থানায় গিয়েছিলাম। ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরা দেখছেন। প্রয়োজন হলে আমাদের ডাকবেন।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেছেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি এ ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার দুপুরে আজান ও নামাজের সময় গানবাজনার অনুষ্ঠান ও মাইক বন্ধ ছিলো। নামাজ শেষে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় পাশ্ববর্তী মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বের হওয়া কয়েকজন লোক শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ে হামলা চালায়।

নামাজের সময় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, ঘটনার পর ওই (কালেক্টরেট) মসজিদের ইমাম সাহেব বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তিনিও বলেছেন, নামাজ পড়ানোর সময় তিনি কোনো গান বাজনার শব্দ শুনতে পাননি।

মঞ্জুর বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা উসকানি দিয়ে এই হামলা করাতে পারে।

তিনি বলেন, নামাজের সময় যদি ভুল করে কেউ মাইক বাজিয়েও থাকে তবু স্কুলের শিক্ষক বা কমিটিকে এসে নালিশ করা যেতো। শিশুদের উপর হামলা তো কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না। এই শিশুরা হয়তো এখন স্কুলে আসতেও ভয় পাবে। ভবিষ্যতে হয়তো এরা মাইক হাতে নিতেও ভয় পাবে।

এদিকে, দুর্গাকুমার পাঠশালায় হামলাকারীদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার তিনদিনের সময়সীমা বেধে দিয়েছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা কমিটি। অন্যথায় আন্দোলনের হুমকী দিয়েছেন এই সংগঠনের নেতারা।

হামলার ব্যাপারে রোববার দুপুরে দুর্গাকুমার পাঠশালার প্রধান শিক্ষক সেগুফতা কানিজ আক্তার জানান, রোববার সকাল থেকে স্কুলে বই বিতরণ শুরু হয়। এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বই বিতরণ শেষে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। এতে বিদ্যালয়ের ছোট শিক্ষার্থীরা গান কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি করে। দুপুরে যোহরের আজান ও নামাজ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বিরতি দেয়া হয়।

নামাজ শেষে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরপরই বন্দরবাজার এলাকার কালেক্টরেট মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে এসে অর্ধশতাধিক লোক অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। এসময় তারা অনুষ্ঠান মঞ্চ, বাদ্যযন্ত্র ও চেয়ারটেবিল ভাংচুর করে। এতে পন্ড হয়ে যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।