সিলেটে বই উৎসব চলাকালে বিদ্যালয়ে মুসল্লিদের হামলা, ভাংচুর

43

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১ জানুয়ারি:  বই উৎসব চলাকালে সিলেট নগরীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নামাজের সময় গান বাজনার অভিযোগে স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে জনা পঞ্চাশেক লোক এ হামলা চালায়। হামলার সময় স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে।

রোববার দুপুরে নগরীর বন্দরবাজারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাকুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা মিছিলসহকারে এসে অনুষ্ঠানমঞ্চ, প্যান্ডেল, মাইক ও বাদ্যযন্ত্র ভাংচুর করে। তবে এতে কেউ আহত হননি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজানা ও নামাজের সময় অনুষ্ঠান বন্ধ ছিলো। নামাজ শেষে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় পাশ্ববর্তী মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বের হওয়া কয়েকজন লোক শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ে হামলা চালায়।

দুর্গাকুমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেগুফতা কানিজ আক্তার সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমককে জানান, রোববার সকাল থেকে স্কুলে বই বিতরণ শুরু হয়। এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বই বিতরণ শেষে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। এতে বিদ্যালয়ের ছোট শিক্ষার্থীরা গান কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি করে। দুপুরে যোহরের আজান ও নামাজ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বিরতি দেয়া হয়।

নামাজ শেষে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরপরই বন্দরবাজার এলাকার কালেক্টরেট মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে এসে অর্ধশতাধিক লোক অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। এসময় তারা অনুষ্ঠান মঞ্চ, বাদ্যযন্ত্র ও চেয়ারটেবিল ভাংচুর করে। এতে পন্ড হয়ে যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী জানান, আজান ও নামাজের জন্য দুপুর ১ টা থেকে ১ টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ ছিলো। নামাজ শেষে আবার অনুষ্ঠান শুরু হলে একদল লোক মিছিল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছে। এসময় তারা কিছু ভাংচুর করে। এতে শিক্ষারীদের মধ্যে আতংক দেখা দেয়।

তিনি বলেন, মসজিদ এবং বিদ্যালয়ের যে দুরত্ব তাতে গান বাজনার শব্দ মসজিদ পর্যন্ত যাওয়ার কথা না। তারউপর নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা বন্দরবাজারে যানবাহন ও মানুষের কোলাহল তো লেগেই আছে। তবু কেনো হামলা চালানো হলো বুঝতে পারছি না।

হামলার খবর পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) ফয়সাল মাহমুদ, সহকারি কমিশনার নরুল হুদা আশরাফী, কোতোয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। তবে তাঁরা গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলতে রাজী হননি।

পরে এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি এ ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হবে।