১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জে ৩ নদী খনন প্রকল্পের কাজ শুরু

64

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর:  সঠিকভাবে কাজ সম্পাদন হলে আগামী শুকনো মৌসুমেই সুনামগঞ্জের যাদুকাটা ও আপার বৌলাই নদী দিয়ে বাল্কহেড বা নৌ চলাচলের সুযোগ হতে পারে। আজ (সোমবার) পাউবো যাদুকাটা নদীর এবং আগামী বৃহস্পতিবার আপার বৌলাইয়ের খনন কাজের দরপত্র গ্রহণ করবে। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই এই দুই নদী খননের ঠিকাদার নিয়োগ হবে । একইভাবে পৈন্দা থেকে মিঠামইন পর্যন্ত মরা সুরমা নদীর ৪০ কিলোমিটার খনন কার্যক্রমেরও প্রাক্কলন অনুমোদিত হয়েছে। এই তিনটি নদীর খনন কাজে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা।

যাদুকাটা ও আপার বৌলাই খনন হলে জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের বৃহৎ করচার হাওর, সোনামোড়ল ও হালির হাওরসহ ছোট ছোট আরো কয়েকটি হাওর অকাল বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, আপার বৌলাই নদীর প্রায় ১৬ কিলোমিটার খনন হবে। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা।

জামালগঞ্জের লালপুর থেকে ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা মধ্যবর্তী সুন্দরপুর জলমহালের খলা পর্যন্ত খনন হবে এটি।

যাদুকাটা খনন হবে ৬ কিলোমিটার। নিয়ামতপুর সেতুর আধা কিলোমিটার নিচের দিকে গিয়ে এটি শেষ হবে।

ঐ দুই নদী খনন হলে বালু-পাথরবাহী বাল্কহেড কারগো শুকনো মৌসুমেও দেশের যে কোন অঞ্চলে যেতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ কমবে। নদীর পাড়ের হাওরগুলো অকাল বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। ঐ নদী দিয়ে সহজেই পানি সুরমায় নামবে।

অপরদিকে, পৈন্দা থেকে দিরাই-শাল্লার কালিকুটা হাওরের পাশ দিয়ে যাওয়া মরা সুরমা নদীর ৪০ কিলোমিটার খনন কার্যক্রমের অনুমোদনও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। এই নদী খনন হলে সুরমার পানি মরা সুরমা হয়ে মেঘনায় গিয়ে নামবে। তাতে দিরাই-শাল্লার অনেক হাওর অকাল বন্যা থেকে রক্ষা পাবে।

পাউবো সূত্রে

জানা গেছে, মরা সুরমা নদী খননের দরপত্র প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যেই ঐ নদীর ৪০ কিলোমিটার খননের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হবে।

পাউবো’র নদী খননের এই কাজে স্বচ্ছতা থাকবে কী- না, এই নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কিত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিশিষ্টজনেরা।

বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ বলেন,‘‘পাউবো’র কাজ বলতেই হাওরাঞ্চলের মানুষের ধারণা ‘লুটপাট’। নদী খননের এই প্রকল্পগুলোতে যাতে এমনটা না নয়, এটি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আগে থেকেই ভাবতে হবে’’।

সুনামগঞ্জ জেলা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র সহ সভাপতি অ্যাড. আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন ‘জেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে হাওরের পানি নিস্কাশনের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নেওয়া এই প্রকল্পগুলোতে কোনভাবেই যাতে দুর্নীতি না হয়, সেটি কঠোরভাবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে’।

পাউবো’র জামালগঞ্জের উপ সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার আলী রেজা বলেন,‘এই প্রকল্পগুলোর মনিটরিং করছেন টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা। আইডব্লিউএমও মনিটরিংয়ে থাকবে। সুতরাং এখানে দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ কম’।