প্রধানমন্ত্রীর সহকারী শাকিলকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার

66

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর: রাজধানীর গুলশানের এই রেস্তোরাঁ থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলকে।

৪৭ বছর বয়সী শাকিলের মৃত‌্যু কী কারণে হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তার লাশের ময়নাতদন্ত হবে বলে জ্বালানি ও বিদ‌্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন।

সামদাদো নামে ওই রেস্তোরাঁর পাঁচ কর্মীকে পুলিশের ভ‌্যানে ধরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। ঢুকতে দেখা গেছে পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও।

তবে এবিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম। দলের পক্ষ থেকেও আর কিছু বলা হয়নি।

সন্ধ‌্যায় তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, কীভাবে তার মৃত‌্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

“সিআইডিও তা খতিয়ে দেখছে। রহস‌্য যদি কিছু থেকে থাকে, তা জানা যাবে।”

নিজের সহকারী শাকিলের মৃত‌্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রী ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীও।

ময়মনসিংহের বাড়িতে তার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ‌্যাডভোকেট জহিরুল হক এবং মা স্কুলশিক্ষক নুরুন্নাহার খান ছেলের মৃত‌্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন বারবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের সাবেক ছাত্র শাকিল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের তথ‌্য ও গবেষণা সেল সিআরআই’র শুরুতে তা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও।

মঙ্গলবার দুপুরে শাকিলের মৃত‌্যুর খবর পাওয়ার পরপরই গুলশানের ওই রেস্তোরাঁয় ছুটে যান নসরুল। পরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের অন‌্য নেতারাও যান সেখানে।

নসরুল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রেস্তোরাঁটির বাইরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “শাকিলের মরদেহ এখন বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাজা হবে।”

ঢাকায় জানাজার পর লাশ নেওয়া হবে ময়মনসিংহ। সেখানে বাঘমারা এলাকায় নিজ বাড়িতে সন্ধ্যায় তার লাশ দাফন করা হবে বলে জানান নসরুল।

এরপর বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে শাকিলের লাশ নিয়ে লাশবাহী গাড়ি সামদাদো রেস্তোরাঁ থেকে বারডেমের উদ্দেশে রওনা হয়।

তার আগে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে গুলশান থানার ওসি ‍সিরাজুলের তৎপরতায় রেস্তোরাঁটির পাঁচ কর্মীকে পুলিশ ভ‌্যানে তুলে নিতে দেখেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব।

ধ্রুব বলেন, বিকাল ৫টার দিকে পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা রেস্তোরাঁর ভেতরে যান। তার আধা ঘণ্টার মধ‌্যে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস‌্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর অভিজাত এলাকার রেস্তোরাঁটিতে শাকিল মারা গেছেন বলে খবর আসে।

তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আসিফ কবির জানান, শাকিল মারা গেছেন।

এর কিছুক্ষণের মধ‌্যে সাংবাদিকদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতারা ওই সামদাদোর সামনে জড়ো হন।

মন্ত্রী আশরাফ ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল ছাড়াও উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন, একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মুন্নী সাহা ও সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিকও যান সেখানে।

শাকিল নিয়মিত কবিতা লিখতেন। ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ ও ‘মন খারাপের গাড়ী’ নামে তার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ‌্যম বিষয়ক বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে থাকা শাকিল সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তার ছোট ভাইও একজন সাংবাদিক।

শাকিলের স্ত্রী একজন আইনজীবী, তাদের স্কুলপড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে।

এদিকে শাকিলের মৃত‌্যুর খবর শুনে তার বাবা-মাকে সান্ত্বনা জানাতে ময়মনসিংহে শহরের বাঘমারায় তার বাড়িতে ছুটে যান ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, পুলিশের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পৌর মেয়র ইকরামূল হক টিটু, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি আনিসুর রহমান খান।

পৈত্রিক নিবাস ময়মনসিংহ হলেও শাকিলের জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে। তিনি পড়েছেন ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও আনন্দমোহন কলেজে।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। তখনই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসেন তিনি। প্রথমে সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে জ‌্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হন তিনি।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল সিআরআই গঠিত হলে তা পরিচালনার দায়িত্ব পান শাকিল।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান তিনি। চার বছর পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) করা হয়।

এরপর ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন শাকিল।