নারায়ণগঞ্জে আ. লীগের প্রার্থী আইভী

47

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১৮ নভেম্বর: স্থানীয় আওয়ামী লীগের সুপারিশে না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আইভীকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইভী ২০১১ সালে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অনেক নেতার বিরোধিতার মধ‌্যে প্রার্থী হয়ে দলের আরেক নেতা এ কে এম শামীম ওসমানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এক জনসভায় মেয়র পদে দলের মনোনয়ন প্রত‌্যাশী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে পরিচয় করিয়ে দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

এরপর নির্বাচন কমিশন আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে ভোটের দিন রেখে তফসিল ঘোষণার পর মহানগর আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে তিন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে।

আইভীকে বাদ দিয়ে ওই সভায় আনোয়ার হোসেনের নাম মেয়র পদে প্রস্তাব করা হয়। তার বিকল্প হিসেবে বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের নাম প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর আইভী সাংবাদিকদের বলেন, এবার দলীয় প্রতীকের এই ভোটে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না তিনি।

“দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমি সেই সিদ্ধান্তেই যাব। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করব না। আমি ডিসাইডেড,” বলেন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম‌্যান থেকে প্রথম মেয়র হওয়া আইভী।

তবে তার কাজের মূল‌্যায়ন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী ছিলেন আইভী: “আমি ১৩ বছর যাবত এখানে কাজ করছি। ২০০৩ সালে জোট সরকারের সময় প্রথম নির্বাচন করেছি অত্যন্ত প্রতিকূলতার মাঝে। সেটি আওয়ামী লীগের একটি বিজয়। ২০১১ সালেও আমি যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেছি, যেটা দেশবাসী দেখেছে। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি দল, আমাকে মনোনয়ন দেবে। কারণ আমি আমার কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি।”

২০১১ সালে ভোট জয়ের পর সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০১১ সালে ভোট জয়ের পর সেলিনা হায়াৎ আইভী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপড়েনের উত্তরাধিকার বহন করছেন আইভী। তার বাবা আলী আহমদ চুনকা ওসমানদের বিপক্ষ শিবিরে থেকে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম‌্যান হয়েছিলেন।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে ওসমানদের অনুপস্থিতিতে প্রবাস থেকে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন চিকিৎসক আইভী।

২০০৩ সালে চেয়ারম‌্যান হওয়ার পর আট বছর এবং মেয়র হওয়ার পর আরও পাঁচ বছর মিলিয়ে ১৩ বছর নারায়ণগঞ্জ নগরবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে জনমত জরপিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যে ৬১টি জেলা পরিষদে ভোট হওয়ার কথা সেসব জেলার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রতি জেলার ১৫ ওয়ার্ডে ১৫ জন সাধারণ সদস‌্য এবং সংরক্ষিত পাঁচজন মহিলা সদস‌্য পদে নাম সুপারিশ করে ধানমণ্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।