‘বাংলাদেশে আসাটা একটা স্বপ্নের পূরণ’

50

। প্রণব ভৌমিক |

‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব ২০১৬’ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছেন দেশ ও বিদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পীরা। উৎসবটি নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন থাকছে আমাদের। আজকের আয়োজনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন স্কটল্যান্ডের শিল্পী সাইমন থ্যাকার ও বাংলাদেশের শিল্পী জালাল। গতকাল উৎসবের প্রথম দিন ছিল সাইমনের পরিবেশনা, আর আজ উৎসবে বাঁশি বাজাবেন জালাল।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্ম সাইমন থ্যাকারের। সেখান থেকেই তিনি শুনেছেন লালন সাঁই, শাহ আবদুল করিমদের গান। তাঁর সংগীতে বাংলার বাউলশিল্পীদের গান অদ্ভুত প্রভাব ফেলেছে। এবারের লোকসংগীত উৎসবে তিনি নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন বাউলগানকে।

সাইমন থ্যাকার বলেন, তাঁর কম্পোজিশন ফিউশন নয়। এটা কয়েক জায়গা থেকে কিছু কিছু নিয়ে এক জায়গায় করা নয়। এটি সংগীতের নতুন আবিষ্কার। মূল গানের ভাব ঠিক রেখে নতুন কিছু করা।

এই উপস্থাপনে সাইমনের সহযোগী বাংলাদেশের ফরিদা ইয়াসমীন ও ভারতের রাজু দাস বাউল। ফরিদার সঙ্গে সাইমনের প্রথম যোগাযোগ ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে। একটি নারী কণ্ঠ পেতে সাইমনকে কয়েক মাস ধরে কয়েক শ ভিডিও দেখতে হয়েছিল। অবশেষে পেলেন ফরিদাকে। ফরিদা বললেন, ‘এত দিন একতারা, দোতারা, ঢোল, বাঁশি, মন্দিরার সঙ্গে গান করেছি। সেখান থেকে নতুন ধরনের এই কাজ অবশ্যই অন্য রকম অভিজ্ঞতা।’

রাজু দাস বাউলকেও সাইমন পান ইউটিউবে। রাজুদের শান্তিনিকেতনের বাড়িতে বেশ কিছু সময় থেকে দুজন বন্ধু হয়ে যান। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি কনসার্ট করেছেন। রাজু বলেন, ‘স্কটল্যান্ড ও ভারতে আমাদের গান লোকে পছন্দ করেছে। বাউলগানের নিজস্ব ধারা বজায় রেখেই নতুনভাবে আমরা উপস্থাপন করছি।’

এই কাজের অভিজ্ঞতাটা কেমন? তিনজনই বললেন, অসাধারণ! সাইমন মজা করে বলেন, ‘একটাই সমস্যা শুধু, আমি বাংলা পারি না। ফরিদা ইংরেজি পারে না। আমাদের তবলাবাদক হিন্দিভাষী। রাজু বাংলা ও হিন্দি জানে। ফলে একের কথা অন্যজনকে অনুবাদ করে দিতে হয়।’

সাইমনের ইচ্ছা, ২০১৭ সালে উপমহাদেশীয় সংগীত নিয়ে একটি অ্যালবাম বের করা। তাতে থাকবে দুটি সিডি। প্রথম সিডিতে থাকবে হিন্দুস্তানি, কর্ণাটকি, পাঞ্জাবি সংগীত। দ্বিতীয় সিডিতে থাকবে বাউলগান। সাইমনের নতুন উপস্থাপনা ও কম্পোজিশনে বাউলগান গাইবেন রাজু ও ফরিদা।

সাইমন ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির গান নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন। বাংলার বাউলগান ছাড়াও তিনি কাজ করেছেন শাস্ত্রীয় সংগীত ও ইউরোপীয় জ্যাজ-ব্লুজ নিয়ে। উপমহাদেশের অন্য দেশগুলোর সংগীত নিয়েও তাঁর অনেক আগ্রহ। পাঁচ বছর আগে উপমহাদেশীয় সংগীতের জন্য তিনি গড়েছেন গানের দল ‘স্বরা-কান্তি’। এ জন্যই সাইমন বললেন, ‘বাংলাদেশে আসাটা একটা দীর্ঘ স্বপ্নের পূরণ।’