ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব: মাটির গানের উৎসব শুরু

69

। রাসেল মাহমুদ |

ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎ​সবে গতকাল গান করেন মমতাজ l ছবি: প্রথম আলোবনানীর মূল সড়কে যানজট, আর্মি স্টেডিয়ামের বাইরে তরুণদের জটলা। তখনো ভেতরে ঢুকতে পারেননি তাঁরা। ভেতরে বাদ্য বাজতে শুরু করেছে। নিরাপত্তাকর্মীদেরও চেষ্টা, দ্রুত তাঁদের ভেতরে পাঠানো। বছর ঘুরে আবারও নভেম্বর এসেছে, রাত বাড়লেই ঝরবে আলতো কুয়াশা। মাঝরাত পর্যন্ত চলবে মাটির গান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব। মেরিল নিবেদিত এ উত্সবের আয়োজক সান ইভেন্টস। সহযোগিতা করছে জিপি মিউজিক, ঢাকা ব্যাংক ও মাইক্রোসফট। মূল মঞ্চে বাতি জ্বলার পর বর্ণিল নাচ নিয়ে আসেন ঢাকার পল্লবী ড্যান্স গ্রুপের শিল্পীরা। ‘হেইয়া রে হেইয়া, জোরে মারো টান’, ‘বকুল ফুল বকুল ফুল, সোনা দিয়া হাত কেন বান্ধাইলি’ লোকগানের কোলাজের সঙ্গে নাচ করেন তাঁরা। গান শুরু হয় শাহ আবদুল করিমের প্রধান শিষ্য হবিগঞ্জের আবদুর রহমান বাউলের কণ্ঠে। এই শিল্পী গেয়ে শোনান, ‘তুমিও মানুষ আমিও মানুষ’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’সহ বেশ কয়েকটি গান।

এরপর মঞ্চে আসেন আয়োজকেরা। আনুষ্ঠানিকভাবে লোকসংগীত উৎসবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষটি গান করেন, নাচেন। এটা আমাদের বৈশিষ্ট্য। আমাদের রুচিও অত্যন্ত পরিশীলিত। আমাদের নিজস্ব গানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লোকসংগীত। নভেম্বর উৎসবের মাস। লোকসংগীত উৎসব দিয়ে সেটা শুরু হলো। উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন, অগ্রিম অভিনন্দন দর্শকদের।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে সান ইভেন্টসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের এই উৎসবের সাফল্য কামনা করেছেন। আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্ব আমাদের এই অনুষ্ঠান দেখবে।’ উৎসব চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, উৎসব সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির, গ্রামীণফোনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইয়াসির আযমান, ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহবুবুর রহমান। এর পরেই মঞ্চে আসেন কুষ্টিয়ার টুন টুন বাউল। তিনি শোনান, ‘বলো স্বরূপ কোথায় আমার সাধের পিয়ারি’, ‘কে বানাইলো এমন রংমহল খানা’, ‘মানুষ ছাড়া খ্যাপারে তুই’সহ বেশ কিছু গান। রাত বাড়ার সঙ্গে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের মতোই মুখর মাঠ ও গ্যালারি। এবার অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের বাহন বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে দর্শকদের। তবে পার্কিং না থাকায় সামান্য সমস্যায় পড়তে হয়েছে আগত ব্যক্তিদের।

এই খবর লেখা পর্যন্ত মঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় যুক্তরাজ্যের সাইমন থ্যাকার্স সরভারা কান্তি, বাংলাদেশের ফরিদা ইয়াসমিন, পাকিস্তানের জাভেদ বশির ও বাংলাদেশের মমতাজ বেগম। হিন্দুস্তানি ধ্রুপদি ঘরানার শিল্পী জাভেদ বশির বাংলাদেশে পরিচিত বলিউডের একটি ছবির ‘ইয়ে তুনে ক্যায়া কিয়া’ গানের মাধ্যমে। মাঠে উপস্থিত কয়েকজন তরুণ জানালেন, ইউটিউবে তাঁরা এ শিল্পীর গান শুনেছেন।

উত্সবের প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশের লোকগানের কৃতী শিল্পী মমতাজ। তিনি সবশেষে গান করবেন। উপমহাদেশে সবচেয়ে বেশি অডিও অ্যালবাম ও সারা দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা তাঁর। রাত নয়টার পর ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো’ গানটি গেয়ে দর্শক মাতান ভারতের রাজু দাস বাউল।

আজকের আয়োজন: উৎসবের দ্বিতীয় সন্ধ্যায় আজ শুক্রবারের প্রধান আকর্ষণ ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কৈলাশ খের, গানের দল ইন্ডিয়ান ওশান। কানাডার শিল্পী প্রসাদের সঙ্গে তানজির আলম, পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের শিল্পী জালাল, লতিফ সরকার, বাউল শফি মণ্ডল এবং লাবিক কামাল গৌরব। এ ছাড়া ফ্লেমেনকো ঘরানার নাচ পরিবেশন করবে স্পেনের দল কারেন লুগো অ্যান্ড রিকার্ডো মোরো।