ভোট বেশি পেয়েও হারলেন হিলারি

123

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১১ নভেম্বর:দুই লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন; কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইলেকটোরাল ভোটে হেরে গেছেন হিলারি। এখন পর্যন্ত পাওয়া ৫২২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ট্রাম্প পেয়েছেন ২৯০টি; আর হিলারি ২৩২টি।

প্রদত্ত মোট ভোটের মধ্যে হিলারি ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

তবে এবারই প্রথম নয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে পঞ্চমবারের মতো এরকম ঘটনা ঘটল।

সিএনএনের হিসাবে, এখনও পর্যন্ত ৯২ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এর মধ্যে হিলারি পেয়েছেন ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৪ ভোট। আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৫ কোটি ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২২ ভোট। ব্যবধান ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৬২ ভোট।

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৮ ইলেকটোরাল বা নির্বাচককে নিয়ে ইলেকটোরাল কলেজ হয়। এই ভোটেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। একেকটি অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে ইলেকটোরাল নির্ধারিত হয়। ভোটাররা যখন ভোট দেন, তারা  ট্রাম্প বা হিলারি বা অন্য কাউকে ভোট দিলেও আসলে একেকজন ইলেকটোরাল বাছাই করেন।

ভোট বেশি পেয়েও হারলেন হিলারি

নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিউইয়র্কে বুধবার সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন হিলারি; পাশে তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও রানিংমেট (ডানে) টিম কেইন—এএফপি

নেব্রাস্কা আর মেইন অঙ্গরাজ্য ছাড়া বাকি সব রাজ্যে যে প্রার্থী বেশি ভোট পান, তাকে ওই রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট দিয়ে দেয়া হয়। তবে ওই দুটি রাজ্যে প্রার্থীদের পাওয়া সংখ্যা অনুযায়ী বাকি ভোট ভাগ হয়।

এ কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোট কিছুটা কম হলেও, তার ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা হয়েছে বেশি। কারণ তিনি এমন অনেকগুলো রাজ্যে ভালো করেছেন, যেখানকার সব ইলেকটোরাল ভোট তার পক্ষেই যোগ হয়েছে।

এখনও মিশিগান অঙ্গরাজ্যের  ফল ঘোষণা বাকি। সেখানে ইলেকটোরাল ভোট ১৬টি। সেখানেও যদি হিলারির পপুলার (জনপ্রিয়) ভোটের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে; তাহলে ২০০০ সালের পর তিনি হবেন প্রথম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যিনি পপুলার ভোট বেশি পাওয়ার পরও পরাজিত হয়েছেন।

২০০০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী আল গোর পেয়েছিলেন ৫ কোটি ১০ লাখ ৯ হাজার ৮১০ ভোট। কিন্তু তার চেয়ে প্রায় ছয় লাখ কম ভোট পেয়েও রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার মোট ভোট ছিল ৫ কোটি ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি।

২০০০ সালের আগেও অ্যানড্রু জ্যাকসন, স্যামুয়েল টিলডেন ও গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডও পপুলার ভোট বেশি পাওয়ার পরও হেরে গিয়েছিলেন।

ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতির ভোটাভুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। কয়েক দফায় এটি বাতিলের জন্য কংগ্রেসে তোলাও হয়েছিল। কিন্তু সামান্য ব্যবধানে প্রতিবারই প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে গেছে।