মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ: সব জরিপেই এগিয়ে হিলারি

37

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,৯ নভেম্বর:  আজ মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং পরদিন রাত ৮টায় (বুধবার সকাল ৮টা) শেষ হবে। সব জরিপেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিলারি রডহাম ক্লিনটন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ৪-৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। ওদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেংকারির তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প এফবিআইয়ের এ রকম প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, এফবিআই আগেরবারের মতোই তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারিকে দোষমুক্ত করে অন্যায় করেছে। এ ছাড়াও, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করে দেবেন। ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি ধাপ্পাবাজি বলে মনে করেন। বিবিসি, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান, দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জনমত জরিপ

সিএনএনের সর্বশেষ জরিপ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে হিলারিই এগিয়ে। ৪৭ শতাংশ ভোটার হিলারিকে চান। আর ট্রাম্পকে চান ৪২ শতাংশ। ইলেক্টোরাল জরিপেও হিলারি এগিয়ে। ৫৩৮ ইলেক্টোরাল ভোটে ২৬৮টিই হিলারির পক্ষে, আর ট্রাম্পের পক্ষে ২০৪টি।

রিপাবলিকানদের সমর্থক ফক্সের জরিপে অবশ্য হিলারি-ট্রাম্পের মধ্যে ব্যবধান মাত্র দু’পয়েন্ট। ৪৫ শতাংশ ভোটারের রায় হিলারির পক্ষে, ট্রাম্পের পক্ষে ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, জরিপ সংস্থা ন্যাট সিলভারের হিসাবে, হিলারি ক্লিনটনের বিজয়ের সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ। মাত্র ৩৫ শতাংশ সম্ভাবনা ট্রাম্পের।

স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি কাদা ছোড়াছুড়ি হলেও জনমত জরিপ অনুযায়ী দুই প্রার্থীই কোনো না কোনোভাবে ভোটারদের কাছে অপছন্দের। অনেকে হিলারিকে বিশ্বাস করেন না। আর অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনে করেন অভিবাসন বিরোধী, মুসলিম বিদ্বেষী।

অনেকে আবার ট্রাম্পকে হিলারির চেয়ে অনেক বেশি মিথ্যা বলার জন্য দায়ী করেন। তারপরও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন এবং এভাবে নির্বাচনকে তার পক্ষের আন্দোলনেও রূপ দিয়েছেন।

মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারির তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

এফবিআইয়ের পরিচালক বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে ই-মেইল ব্যবহার করা নিয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, এই নিয়ে তদন্তের পর দেখা যাচ্ছে যে, হিলারির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করাটা উচিত হবে না।

কংগ্রসেম্যানকে পাঠানো এক চিঠিতে এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি বলেছেন, ঘটনার পর্যালোচনা শেষ করেছে এফবিআই। তবে, সেখানে এমন কিছুই পাওয়া যায়নি। ফলে, এই ঘটনা নিয়ে কোমির আগের বক্তব্যই অপরিবর্তনীয় রয়েছে।

গত জুলাই মাসে কোমি বলেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে সংবেদনশীল তথ্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিসেস ক্লিনটন অসাবধান ছিলেন কিন্তু অপরাধী নয়।

এফবিআই প্রধানের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন হিলারির নির্বাচনী প্রচারণার যোগাযোগ শাখার প্রধান ডেনিফার পালমিয়েরি। ডেনিফার পালমিয়েরি বলেছেন, ‘হিলের কাছে পাঠানো ডিরেক্টর কোমির চিঠিটা আমরা দেখেছি। আমরা আনন্দিত। গত জুলাইয়ে তিনি যে উপসংহারে পৌঁছেছিলেন সেটিই পাওয়া গেছে। আমরা অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে তিনি এটাই পাবেন। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই ব্যাপারটির একটি সমাধান হলো’।

ওদিকে, নতুন পাওয়া ই-মেইল তদন্তে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এফবিআইয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান এই প্রার্থীর অভিযোগ, গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই আগের বারের মতো আবারও ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীকে দোষমুক্ত করে অন্যায় করেছে।

ডেট্রয়েটের শহরতলীতে এক নির্বাচনী প্রচারণা র‌্যালিতে ট্রাম্প দাবি করেন, এতো অল্প সময়ে নতুন পাওয়া সাড়ে ৬ লাখ ই-মেইল পরীক্ষা করা এফবিআইয়ের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। হিলারিকে কারচুপির মাধ্যমে রক্ষা করা হচ্ছে বলে আগের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।

মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারি দোষী, সেটা তিনি জানেন, এফবিআই জানে, জনগণ জানে এবং ৮ নবেম্বর ব্যালট বাক্সে এর ন্যায়বিচার হবে কিনা তা এখন আমেরিকান জনগণের হাতে।’