সৈয়দ হকের সাহিত্য ‘যেন খোলা তলোয়ার’

52

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১০ অক্টোবর:  সৈয়দ শামসুল হকের সৃষ্টিকর্ম মূল্যায়নে লেখক মফিদুল হক বলেছেন, সব্যসাচী এই লেখকের সাহিত্যকর্ম ক্ষুরধার, যা সমগ্র বাংলা রচনায় খুব বেশি দেখা যায় না।

সৈয়দ হকের ‘সীমান্তের আগ্রাসন’, ‘গেরিলা’, ‘খেলারাম খেলে যা’সহ নানা কবিতা ও গল্প নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, “তার সাহিত্যে ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া, যেন এক খোলা তলোয়ার।

“তার কবিতা, গল্পে উঠে আসে অসাধারণ নগর বন্দনা, তরুণ মনের আকুতি-দ্বন্দ্ব।”

লেখার গঠনশৈলীতে সৈয়দ হকের যত্নশীলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মফিদুল বলেন, “তার জীবন সাধনাই ছিল ভাষাবোধ, ভাষার ছন্দ নিয়ে লেখা।”

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে এই আলোচনায় অংশ নিয়ে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন সৈয়দ হককে ‘অমৃতের পুত্র’ অভিহিত করেন।

তার লেখা নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশে তিনি বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি, তখন হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা সংকলনে তার একটি শিরোনামহীন কবিতা পড়লাম। সেই চিনলাম তাকে। তারপর তার ‘রক্ত গোলাপ’ ও ‘কবি’ গল্প দুটিতে শক্তিমান লেখক উদ্ভাসিত হল আমার চোখে।

“কবি গল্পে প্রতিরোধের সাহিত্য রচনা করেছেন তিনি। যে ধারা রচনা করেছিলেন, সেটি সঠিক পথ দেখিয়েছিল জাতিকে। ‘রক্ত গোলাপ’ গল্প জাদু বাস্তবতার এক অসাধারণ উদাহরণ, যা পাঠকের চিন্তাকে বিভিন্ন পথে পরিচালিত করবে।”

সেলিনা হোসেনের মতে, সাতচল্লিশ পরবর্তী ধারায় যারা বাংলা সাহিত্যের শক্তি ও শিল্পমান প্রতিষ্ঠা করেছেন, সাহিত্যের স্রোতধারায় যারা জাতির দিক নির্ধারণ করেন তাদের মধ্যে সৈয়দ শামসুল হক অন্যতম।

সৈয়দ হকের লেখার শিল্পমূল্য বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

সৈয়দ শামসুল হকের কালজয়ী মঞ্চনাটক ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ এর নির্দেশক ও প্রধান অভিনেতা আলী যাকের বলেন, “আমার অভিনীত ‘কোপিনিকের ক্যাপ্টেন’ মঞ্চ নাটকটি দেখে এসে তিনি একদিন আমার হাতে ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ এর চিত্রনাট্য তুলে দিলেন। বিশাল বড় সম্মান হাতে তুলে নিলাম হতভম্বের মতো। আমার কাছে মনে হয়, আসল নুরলদীন ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক।”

সৈয়দ হকের ‘ঠাট্টা তামাশা’ এবং তার অনূদিত ‘টেম্পেস্ট’ ও ‘ম্যাকবেথ’ নাটকে প্রধান ও নামভূমিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলী যাকের।

“প্রতিটি নাটকে আমি তাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। প্রতিটি নাটক রচনায় শুরু, অভিনয়ে শেষ। তিনি এই সত্যিকে ধারণ করতেন। তিনি দেখতে পেতেন দিব্য চোখে, তাইতো তিনি এ ধরনের সংলাপ, নাটক তৈরি করেছেন অবলীলায়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সৈয়দ হকের মূল পরিচয় তিনি সাহিত্যিক ছিলেন। সাহিত্যের প্রতি তার যে নিবেদন, তা খুব কম পাওয়া যায়। সারাক্ষণ অতৃপ্তিতে ভুগতেন তিনি, যা তাকে শুধু ব্যস্ত রাখত।

“সৈয়দ শামসুল হক যা কিছু স্পর্শ করেছেন, তাই সজীব করে তুলেছেন। অত্যন্ত সাহসী মানুষটির সাহিত্যের প্রতি যে ভালোবাসা দেখেছি তাতে কোনো খাঁদ ছিল না। আচরণে তিনি ছিলেন আধুনিক। বিশ্ব দ্রুপদী সাহিত্যকে তিনি নিয়ে এসেছেন আমাদের মাঝে।”

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আলাপচারিতার ফাঁকে অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদার এসে পাঠ করেন ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’-এর ‘মাতবরের বউ’ চরিত্রের সংলাপের অংশবিশেষ।