উচ্চ শিক্ষার মান যাচাইয়ে হচ্ছে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল

45

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ১০ অক্টোবর:  উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠনের বিধান রেখে নতুন একটি আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৬’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “অ্যাক্রেডিটেশন আইনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেক কাঙ্ক্ষিত ও দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত একটি আইন। উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ের জন্য এ আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়।”

একজন চেয়ারম্যান, চারজন পূর্ণকালীন সদস্য ও আটজন খণ্ডকালীন সদস্যসহ মোট ১৩ সদস্যের কাউন্সিল হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চেয়ারম্যান ও পূর্ণকালীন সদস্যরা কাউন্সিলে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

“এই কাউন্সিল সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম যাচাই করে এ বিষয়ে স্বীকৃতি দেবে।”

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৮টি পাবলিক ও ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই কাউন্সিলের স্বীকৃতি পেতে হবে।

গত ২৮ মার্চ মন্ত্রিসভায় এ আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট সবার অবগতির জন্য কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। এর মাধ্যমে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন।

“অ্যাক্রেডিটেশন সনদ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশনপ্রাপ্ত বলে প্রচার করতে পারবে না। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া কোনো সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারবে না।”

শফিউল জানান, মূলত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য হবেন।

কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কাজ তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে কনফিডেন্স সার্টিফিকেট বা ক্ষেত্রমতে অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট দেওয়া বা স্থগিত করা; যদি মনে করেন দেওয়ার মত না তখন স্থগিত করবেন, বাতিল করবেন বা প্রদান করবেন। এ তিনটি উনাদের প্রধান দায়িত্ব।”

অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠিত হলে তা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশনের কোনো দায়িত্ব ইউজিসির নেই। ইউজিসির আইনটি নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস করে আনা হবে।

“ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট, ফাইন্যান্স, জনবল দেখে থাকে। আর এদের কাজ কোয়ালিটি কন্ট্রোল অব দ্য এডুকেশন।”

সোমবারের মন্ত্রিসভায় ‘বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এছাড়া ‘আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা ইনস্টিটিউট- বাংলাদেশে আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

শফিউল বলেন, এখানে দুটি আইন প্রণীত হয়েছিল- একটি ১৯৭৮ সালে আরেকটি ১৯৮৫ সালে। দুটিই সামরিক শাসনামলের। এজন্য দুটো আইনকে বাংলায় রূপান্তর ও একীভূত করে নতুন আইন করা হয়েছে।

“নতুন আইনে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের আইনকেই বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।”

‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ এর খসড়া উপস্থাপন করা হলেও মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন দেয়নি বলে জানান সচিব।

তিনি জানান, ১৯৬১ সালের মূল আইনটি ইংরেজিতে থাকায় মন্ত্রিসভা অনুশাসন দিয়েছে, আগে মূল আইনটি বাংলায় রূপান্তর করে পরে সংশোধনী আনতে হবে।