মাশরাফির ঝড়ে লড়াই করার মতো রান: ৫০ ওভারে ২৩৮/৮

68

বিলেতবাংলা ডেস্ক,৯ অক্টোবর:   শুরুতে লড়াই করলেন মাহমুদউল্লাহ, শেষটায় ঝড় তুললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাতে বাঁচা-মরার ম্যাচে লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিততে ২৩৯ রান করতে হবে ইংল্যান্ডকে।

রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৩৮ রান করে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের শুরুর আঁটসাঁট বোলিংয়ে রানের জন্য লড়াই করেন ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল। প্রথম পাঁচ ওভারে দুই জন খেলেন ২১টি ডট বল।

দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানই ফিরেন ক্রিস ওকসের শর্ট বলে। সপ্তম ওভারে লেগ স্টাম্পের বলে হুক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন ইমরুল। পুল করে মিডউইকেটে ধরা পড়েন তামিম।

প্রথম ওভারেই সাফল্য পান গত ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় জেইক বল। বাউন্স ঠিকমতো খেলতে না পেরে ব্যাটের নীচের কানায় লেগে বোল্ড হন রানের জন্য সংগ্রাম করতে থাকা সাব্বির রহমান।

৩৯ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে। প্রথম দুই বলেই চার হাঁকানো মুশফিক এই ম্যাচেই বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পৌঁছান চার হাজার রানে।

হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলা মুশফিক খেলছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। বলের বলে পুলে গড়বড় করে শেষ হয় তার ২১ রানের ইনিংস। উইকেট ধরে রাখার সঙ্গে রানের গতি বাড়ানো ৫০ রানের এই জুটি ভাঙার পর আবার দিক হারায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

আগের ম্যাচে দারুণ এক ইনিংস খেলা সাকিব আল হাসান বেন স্টোকসের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।

তরুণ মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ৪৮ রানের আরেকটি জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদউল্লাহ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো স্বাগতিকরা শেষের ঝড়ের দিকে তাকিয়ে ছিল তার দিকেই। দলকে বিপদে ফেলে ফিরে যান তিনিও।

আদিল রশিদের বলে সুইপ করতে গিয়ে বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রিভিউ নিয়েছিলেন; কিন্তু তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। ৮৮ বলে ছয়টি চারে ৭৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ১৬১ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি ফিরে যাওয়ার পরও ক্রিজে ছিল বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জুটি।

আগের ম্যাচে শেষটায় তালগোল পাকিয়ে হারা বাংলাদেশ এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে শক্তি বাড়াতে দলে ফেরায় নাসির হোসেনকে। ‘দ্য ফিনিশার’ নামে পরিচিত এই ব্যাটসম্যানকে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি মোসাদ্দেক। রশিদের শর্ট বলে বাজে এক শটে ফিরেন এই তরুণ।

১৬৯ রানে প্রথম ৭ ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশের সামনে দুইশই তখন অনেক দূরের পথ। গত কিছু দিন ধরেই শেষের ব্যাটিংটা মাশরাফি বিন মুর্তজার দুর্ভাবনার ব্যাপার।  সেখান থেকে দলকে বের করে আনতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক। অষ্টম উইকেটে নাসিরের সঙ্গে ৮.১ ওভারে গড়েছেন ৬৯ রানের দারুণ এক জুটি।

মইনের বলে দারুণ দুই ছক্কায় মাশরাফির শুরুটা ছিল ঝড়ো। ডেভিড উইলির এক ওভারে একটি ছক্কা-চারে নেন ১৫ রান। সে সময়ে শান্তই ছিলেন নাসির, অধিনায়ককে যত বেশি সম্ভব স্ট্রাইক দেওয়াতেই ছিল তার মনোযোগ। সেখানে সফলও তিনি।

শেষ ওভারে রান আউট হয়ে শেষ হয় মাশরাফির ৪৪ রানের ইনিংস। ২৯ বলের ইনিংসে দুটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান বাংলাদেশের অধিনায়ক। ২৭ বলে দুটি চারে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন নাসির।

ইংল্যান্ডের ওকস, বল ও রশিদ দুটি করে উইকেট নেন।