সঙ্গীত জীবনের হাফ সেঞ্চুরী : লন্ডন মাতালেন রুনা লায়লা

55

বিলেতবাংলা ডেস্ক,২৫ সেপ্টেম্বর: জাকজমকপূর্ণ আয়োজন আর হল ভর্তি দর্শক উপস্থিতিতে উপমহাদেশ তথা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুরসম্রাজ্ঞী রুনা লায়লার সঙ্গীত জীবনের হাফ সেঞ্চুরী পালন করা হয়েছে লন্ডনে। আর সঙ্গীত জীবনের সুবর্ণ জয়ন্তীতে গানে গানে পুরো একটি সন্ধ্যা মাতিয়ে রাখলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সুরসম্রাজ্ঞী।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের দ্যা সিটি পেভিলিয়নে তার একক সঙ্গীত সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি, যাদের কেউ কেউ মঞ্চে উঠে নেচেছেন, গলা মিলিয়েছেন তাদের প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কয়েকজন শিশুশিল্পী কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করলেও সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হলভর্তি দর্শক মাতিয়ে রাখেন সঙ্গীত জগতে দাপিয়ে বেড়ানো কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা।

‘শিল্পী আমি’, ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম’, ‘সাধের লাউ’, ‘দমাদম মাসকালান্দার’, ‘দে দে পেয়ার দে’, ‘পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ও ‘বাড়ির মানুষ কয় আমায় পাগল করেছে’র মতো জনপ্রিয় গানগুলো যখন পরিবেশন করছিলেন হলভর্তি দর্শকও তখন হয়ে উঠেছিলেন একেকজন শিল্পী। এসময় কোনো কোনো দর্শককে স্টেজে নিজেই ডেকে নেন রুনা।

ইউকে ডক্টর শেফ লিমিটেড আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে রুনা লায়লার বর্ণাঢ্য সঙ্গীত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহার। লন্ডনে রুনা লায়লাকে স্বাগত জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ লর্ড সভার সদস্য পলা মঞ্জিলা উদ্দিন, লন্ডন বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার প্রেস নাদিম কাদির, চ্যানেল এস এর এমডি তাজ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলা সিইও হাফিজ আলম বকসসহ ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।

বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি গান গেয়ে অর্ধশত বছর পাড়ি দেওয়ার কথা জানিয়ে রুনা লায়লা গানের ফাঁকে ফাঁকে তার বর্ণাঢ্য সঙ্গীত জীবনের স্মৃতিচারণও করেন।

ইউকে ডক্টর শেফ লিমিটেডের পরিচালক ডা. অর্পিতা রায় জানান, সংগীত সন্ধ্যা থেকে সংগৃহীত অর্থ মানব কল্যাণে ব্যয় করার জন্য চ্যারিটি সংস্থাকে দেওয়া হবে।

গানের জগতে খুব ছোটবেলায় সম্পৃক্ত হন রুনা লায়লা। সংগীত জীবনের অর্ধশতকে তার সাফল্যের ঝুড়িতে জমা হয়েছে অসংখ্য পুরস্কার। রুনা লায়লা প্রথম প্লেব্যাক করেন উর্দু ছবি ‘জুগনু’-তে। ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের গানে প্রথম কণ্ঠ দেন তিনি। বাংলা সিনেমায় প্রথমবারের মতো মাহমুদুন্নবীর সঙ্গে ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’ শিরোনামের দ্বৈত সংগীতে কণ্ঠ মেলান বরেণ্য এ শিল্পী।

রুনা লায়লা এখন পর্যন্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয়বার। অর্জন করেছেন স্বাধীনতা পদক, ভারতের সায়গল পুরস্কার, পাকিস্তানের ক্রিটিকস পুরস্কার, ন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিক পুরস্কারসহ (স্বর্ণপদক) আরও অনেক পুরস্কার।