রুপনগরে অভিযানে নিহত জঙ্গি জাহিদের বাড়িও সিলেটে!

88

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ৯ সেপ্টেম্বর:   ঢাকার রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি ‌’মেজর মুরাদের’ বাড়িও সিলেটে। মুরাদ ওরফে ওমর ওরফে জাহাঙ্গীর নামে পরিচিতি পেলেও তার আসল নাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। জাহিদের পৈতিক নিবাস সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে।

পুলিশ বলছে, সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা ‘নব্য জেএমবি’র শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন। তিনি এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। তামিম চৌধুরীর বাড়িও সিলেটের বিয়ানীবাজারে।

জানা যায়, সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা জাহিদ যিনি দুই বছর আগে কানাডা থেকে ফেরার পর চাকরি ছেড়ে দেন। বর্তমানে তার বাবা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক নুরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবীর পশ্চিম চাঁন্দপুর প্রাইমারি স্কুল রোডে থাকেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আবিদ হোসেন জানান, জাহিদের বাবা নুরুল ইসলাম ১৯৮৫ সালে কুমিল্লায় বাড়ি করলেও তাদের আদি নিবাস সিলেট।

তিনি বলছেন, জাহিদুল সর্বশেষ প্রায় সাত মাস আগে কুমিল্লার বাড়িতে এসেছিলেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে জাহিদুলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলাকারীদের জাহিদুলই প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।

জাহিদুলের ভাই জহিরুল ইসলাম ঢাকায় একটি ইলেকট্রনিক পণ্যের আউটলেটে বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করেন।

তিনি বলেন, তার ভাই সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন। ২০১৪ সালে চাকরিতে থাকার সময় কানাডা গিয়েছিলেন। “পরে ভাল লাগছে না বলে চাকরি ছেড়ে দেন।”

গত তিন থেকে চার মাস ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন জহিরুল

জাহিদের শ্বশুর মো. মমিনুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহিদ ২০১৪ সালের জুন মাসে একটি প্রশিক্ষণে ছয় মাসের জন্য কানাডায় যান। এরপর দেশে ফিরে সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে যোগদান করেন। তখন তিনি সেনাবাহিনীর রেশন নেওয়া বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন।

মমিনুল হক বলেন, সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়ার পর ঢাকায় বেসরকারি স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন। এ সময় তিনি দাড়ি রেখে পায়জামা ও পাঞ্জাবি পরা শুরু করেন। জাহিদের মা-বাবা ও বোন জাহিদের এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেন।

গত ১৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের একটি বাড়িতে পুলিশি অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরী ছিলেন কানাডা প্রবাসী। গুলশান হামলার ‘হোতা’ তামিম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেএমবিকে নতুন করে সংগঠিত করেছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন শুক্রবার অভিযানের পর জানান, সাবেক এই সেনা সদস্য সংগঠনে মেজর মুরাদ নামে পরিচিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় তামিমদের আস্তানায় অভিযানের আগে তিনিও ওই বাসায় ছিলেন।

“ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের আগে সে ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।”

ওই অভিযানে তামিমসহ তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার পরদিন জাহিদ পরিবার নিয়ে রূপনগরের বাসা থেকে সরে পড়ে বলে জানান ছানোয়ার। এরপর গোয়েন্দা বাসাটিতে গিয়ে তাকে না পেয়ে ফিরে আসে।

পরে শুক্রবার তার বাসায় আসার কথা জানতে পেরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

রূপনগরের ৩৩ নম্বর সড়কের ছয়তলা বাড়ির ষষ্ঠতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন জাহিদুল।

তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত পল্লবী থানাধীন মিরপুর সেনানিবাস উল্লেখ রয়েছে।

তার জন্মতারিখ দেওয়া আছে ১৯৭৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। পেশা হিসেবে সরকারি চাকরি লেখা রয়েছে। জাহিদের স্ত্রীর নাম জেবুন্নাহার। দুই মেয়ে রয়েছে তাদের।

বিএমএ ৪৩ লং কোর্সে যোগ দিয়ে জাহিদুল ২০০০ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন বলে গণমাধ্যমের খবর।

জঙ্গি কর্মকাণ্ড তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলছেন, জাহিদ বেশিরভাগ সময় একটি মটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। এতে করেই জঙ্গি আস্তানায় যাতায়াত ছিল তার। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিভিন্ন সময় তিনি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেন।

শুক্রবার রাতে অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হওয়ার আগে জাহিদ পিস্তুল ও ছুরি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন বলে অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমান জানান।

তার হামলায় রূপনগর থানার ওসি শহীদ আলম, পরিদর্শক শাহীন ফকির ও একজন এএসআই আহত হন। তাদের মধ্যে শহীদ ও শাহীন এখনও হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কুমিল্লায় জাহিদের বাড়িতে গিয়ে ভাড়াটিয়া ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি বলে কোতয়ালি মডেল থানার এসআই শাহীন জানান। স্থানীয়রা ছবি দেখে জাহিদকে শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।