অভিবাদন তোমাদের

75

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ৯ সেপ্টেম্বর:  ‘কনগ্র্যাচুলেশন আন্ডার সিক্সটিন গার্লস’ লেখা বড় একটি ব্যানার নিয়ে পূর্ব গ্যালারিতে জড়ো হয়েছিলেন হলুদ টি-শার্ট পরা কয়েক যুবক। ব্যানারের সঙ্গে হাতে উড়ছিল বড় একটি লাল-সবুজের পতাকা। ভরদুপুরে প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে কৃষ্ণা, সানজিদাদের সমর্থন জানাতে ম্যাচের পুরো সময় হৈ-হুল্লোড় করে গ্যালারি মাতিয়ে রাখেন তারা। আসরের শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে কৃষ্ণারাও তুলির শেষ আঁচড় টানল একেবারেই নিখুঁতভাবে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচ শেষে ২৬ গোলে থামল বাংলার মেয়েরা। গতকাল জোড়া গোল করেছে অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী এবং একটি করে গোল করেছে আনুচিং ও তহুরা। মেয়েদের এই সাফল্যে স্যালুট জানিয়েছেন দলের কারিগর গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘মহিলা ফুটবল দলের জন্য দারুণ এক কীর্তি। এই মেয়েদের স্যালুট।’

আগের ম্যাচেই চায়নিজ তাইপেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তাই গতকালের ম্যাচটি ছিল একেবারেই নিয়ম রক্ষার। শেষটাও যেন রঙিন হয়, সে লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এ আসরে গতকালই প্রথম দুপুরের রোদের মধ্যে খেলল বাংলাদেশের মেয়েরা। উপরে রোদের তাপ আর মাঠের কাদা মিলিয়ে গতকাল স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি কৃষ্ণা, সানজিদারা। আক্রমণে যাওয়ার সময় বারবার কাদায় আটকে গেছে বল। না হলে গোলসংখ্যা হতে পারত আরও বেশি। মাঠের খেলাই বলে দিচ্ছিল, কতটা কঠিন পরিস্থিতিতে খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচের তিন মিনিটেই অধিনায়ক কৃষ্ণা রানীর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাছাইপর্বে মোট আট গোল করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা কৃষ্ণাই। গতকাল ম্যাচের ৩৬ মিনিটে একটি পেনাল্টিও আদায় করে নিয়েছিল কৃষ্ণা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় আগের ম্যাচে পেনাল্টিতে জোড়া গোল করা শামসুন্নাহার।

৫৭ মিনিটে আনুচিং ব্যবধান ৩-০ করে। টুর্নামেন্টে এটি আনুচিং মগিনীর পঞ্চম গোল। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি নেমে গোল করে স্কোরলাইন ৪-০ করে তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা। বাছাইপর্বে এটি তার দ্বিতীয় গোল। ম্যাচ শেষে কোচ ছোটনের উপলব্ধি, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। সে লক্ষ্যেই মেয়েদের বলা হয়েছিল, ম্যাচটি জিততে হবে। চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত হলেও প্রতিপক্ষকে কোনোরকম ছাড় দেওয়া যাবে না- এ নীতি নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম।’

ইরানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের অভিযান। ধারাবাহিকভাবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৫-০, কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ১০-০, চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ৪-২ ও গতকাল শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে দুই গোল হজমের বিপরীতে ২৬ বার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। মোট আটজন মিলে করেছে এই ২৬ গোল। বাংলাদেশের পক্ষে অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার কৃষ্ণা রানী সর্বোচ্চ গোল করেছে, আটটি। তবে কৃষ্ণাকে ছাপিয়ে বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে ইরানের স্ট্রাইকার মাখুদুমির। বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল আছে আনুচিং মগিনীর, পাঁচটি। যেখানে ডিফেন্ডার শামসুন্নাহারেরও আছে চার গোল। চারটি গোলই পেনাল্টি থেকে করেছে এই ডিফেন্ডার। তিনটি গোল আছে উইঙ্গার মার্জিয়ার। দুটি গোল আছে মৌসুমী ও তহুরার। একটি করে গোল আছে নার্গিস ও মারিয়ার।

প্রায় তিন মাসের পরিশ্রমের ফল পেল মেয়েরা। সেরা হওয়ার লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়িতেও যাওয়া হয়নি মেয়েদের। গতকালই যেন তারা ‘চ্যাম্পিয়ন চ্যাম্পিয়ন’ গানের সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে ঈদ উদযাপন করল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে। এ যেন ঈদের অনাবিল আনন্দ।