ইরানের কোচও মুগ্ধ বাংলাদেশের মেয়েদের খেলায়

65

বিলেতবাংলা ডেস্ক, ২৮ আগস্ট:   বাংলাদেশের তিন গোলদাতা তহুরা, মৌসুমি ও মার্জিয়া। ছবি-প্রথম আলোমহিলা দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে প্রায়ই একটা কথা শুনতে হয়—‘তোমার মেয়েরা কি ৯০ মিনিট ফুটবল খেলতে পারে?’ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মেয়েদের ফুটবল শুরু হওয়ার আগে সম্প্রতি যোগ হয়েছিল আরেকটি প্রশ্ন। বন্ধুরা দেখা হলেই বলতেন, ‘প্রথম ম্যাচটি খেলবে কাদের সঙ্গে?’ প্রতিপক্ষ ইরান শুনলেই যেন আঁতকে উঠতেন তাঁরা।

কিন্তু ছোটনের এই ছোট ছোট মেয়েই যেন কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ইরানকে ফুটবল শিখিয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই এশিয়ান অন্যতম শক্তিশালী ইরানকে হারিয়েছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে। আসলে স্কোরলাইন দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এই ম্যাচে কতখানি দাপটের সঙ্গে খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। গতিতে, স্কিলে, বোঝাপড়ায়—সবদিক দিয়েই ইরানের চেয়ে যোজন যোজন দূরত্বে এগিয়ে ছিল সানজিদা-কৃষ্ণারা।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হেরে যাওয়া দলটির আগে আসার নিয়ম। নিয়ম রক্ষা করে আগে এসে কথা বললেন ইরানের কোচ সাদি মাহিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনের পুরোটাজুড়ে ছিল বাংলাদেশের প্রশংসা। সাদি মাহিনির চোখে–মুখে শুধুই বাংলার মেয়েদের মুগ্ধতা, ‘আমরা ভেবেছিলাম এই ম্যাচটা একটু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। কিন্তু এভাবে বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচ বের করে নিয়ে যাবে আমি মোটেও ভাবিনি।’

দুই বছর আগে এই বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল ইরান। সেই হারের একটা বদলাও নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ওই দলের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে সাদি মাহিনি বললেন, ‘দুই বছরের আগের দলটার চেয়ে এই দলটা অনেক উন্নতি করেছে খেলায়। আমরা যে দলটাকে হারিয়েছিলাম, এর চেয়েও অনেক ভালো দল এটি।’

আসলে বাংলাদেশের এই মেয়েরা নিজেদের চেনাতে শুরু করেছিল এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে নেপাল জয়ের পর থেকেই। গত বছর কাঠমান্ডুতে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া মেয়েরাই এবার মে মাসে তাজিকিস্তানে গিয়ে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ওই দলেরই বেশির ভাগ মেয়ে নিয়ে গড়া এই দলটা নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন কোচ এই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বের বৈতরণি পার হওয়া।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশ ১২১, ইরান ৫৫। সুযোগ-সুবিধাও ইরানের চেয়ে অনেক কম পায় বাংলাদেশের মেয়েরা। সর্বশেষ সাফল্যের পর এদের হাতে একটা করে ব্লেজার তুলে দেওয়া হয়েছিল সংবর্ধনা দিয়ে। সেটা পেয়েই যে কত খুশি হয়েছিল মেয়েরা, তা বলে বোঝানো যাবে না।

মাঠের খেলায় যদিও কাল খুব বেশি খুশি হতে পারেননি কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘আমি এই স্কোরলাইনে মোটেও খুশি না। আমাদের আরও তিন–চারটা গোল হতে পারত। তাহলে আরও চাপ কমে আসত। মেয়েরা গোলের মুখে গিয়ে একটু তাড়াহুড়ো করছিল।’

আগামীকাল গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে। সন্ধ্যা ছয়টায় ওই ম্যাচটি হবে বঙ্গবন্ধু স্স্টেডিয়ামে।