পরোয়ানার পরদিনই ভারতে পালালেন রাগীব আলী

84

বিলেতবাংলা ডেস্ক,১৩ আগস্ট:  সিলেটে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগের দুটি মামলায় রাগীব আলী, তাঁর ছেলেমেয়েসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরের দিন ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ হয়ে তিনি ভারতের করিমগঞ্জে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা বলেন, গতকাল শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের একটি দল জকিগঞ্জ গিয়ে রাগীব আলীর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। তিনি জানান, আদালত বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশের কাছে তা বৃহস্পতিবার পৌঁছায়। সেদিন অভিযান চালিয়ে জানা যায়, তিনি ইতিমধ্যে কৌশলে পালিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এখন পালাতে সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

জকিগঞ্জ কাস্টমসের ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার এক ব্যক্তি রাগীব আলীসহ পাঁচজনের ভারতের ভিসা লাগানো পাসপোর্ট নিয়ে জকিগঞ্জ সীমান্তের কাস্টমস ইমিগ্রেশনে যান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভিসাসংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাগীব আলী, তাঁর ছেলে আবদুল হাই, ছেলের বউ সাদিকা জান্নাত চৌধুরী ও সিলেটের মালনীছড়ায় রাগীব আলীর বাংলোয় পালিত দুই শিশু নৌকা করে কুশিয়ারা নদী পাড়ি দিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ পৌঁছান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জকিগঞ্জ কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাগীব আলীর ছেলের বউয়ের বাড়ি ভারতের শিলচর। তাঁরা আপাতত সেখানে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁদের কাছে রাগীব আলীর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কোনো নথি পৌঁছায়নি। ফলে তাঁকে দেশত্যাগে বাধা দেওয়া হয়নি।

দেবোত্তর সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত তারাপুর চা-বাগান জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ ও প্রতারণার পৃথক দুটি মামলায় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলেমেয়েসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন সিলেটের মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো। পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে রুজিনা কাদির, জামাতা আবদুল কাদির, রাগীবের আত্মীয় মৌলভীবাজারের দেওয়ান মোস্তাক মজিদ এবং তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত।

১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদন্তে তারাপুর চা-বাগানের জায়গায় বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে সংসদীয় উপকমিটি চা-বাগানে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। উপকমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেন। মামলায় রাগীব আলীসহ আসামিরা হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ মামলা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিত করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল।

দেবোত্তর সম্পত্তি সিলেট নগরের পাঠানটুলার উপকণ্ঠে ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারে গত ১৯ জানুয়ারি রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এতে ওই দুটি মামলা সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো মামলা দুটির তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে তিন দফা সময় বাড়ানোর পর সর্বশেষ পর্যায়ে আদালত পিবিআইকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এর এক মাস আগেই গত ১০ জুলাই দুটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বুধবার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে রাগীব আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ ছাড়া ২৩ আগস্ট এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।