ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার আশ্বাস

55

বিলেতবাংলা ডেস্ক,৬ আগস্ট:    ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দোতার্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।

 ওই অর্থ উদ্ধারে ফিলিপিন্স সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ম্যানিলায় বাংলাদেশ মিশনে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ একথা জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 তিনি বলেন, “আমরা খুবই আশাবাদী যে ৮১ মিলিয়ন ডলারের পুরোটাই ফেরত পাব। কারণ প্রেসিডেন্টের (দোতার্তে) কাছ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি পেয়েছি।”

 অর্থ উদ্ধারে সহায়তায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রেসিডেন্ট দোতার্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ফিলিপিন্স সফরে যেতে পারেন বলে রাষ্ট্রদূত জানান।

 গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়। এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন-আরসিবিসিতে সরিয়ে নেওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি বড় অংশ জুয়ার টেবিলে চলে যায়।

 ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ জালিয়াতি টের পেয়ে অর্থ ছাড় না করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলার পরও আরসিবিসি তা মানেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত গোমেজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে আরসিবিসিকেও এ ঘটনার দায় নেওয়া উচিত, কেননা সেখান থেকে অর্থ ছাড় বন্ধের অনুরোধ করার পরও তারা তা অনুসরণ করেনি।

 অর্থ চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে আরসিবিসিকে এক বিলিয়ন পেসো (প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ডলার) জরিমানা করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটির কোনো ব্যাংকের উপর ‘নজরদারিমূলক জরিমানার পদক্ষেপ’ হিসেবে এটাই সবচেয়ে বড় অঙ্ক বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।

 সফররত প্রতিনিধি দলে থাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসাইন বলেন, আরসিবিসি যদি ৮১ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে না পারে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে।

 বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দলে আজমালুল হোসেন ছাড়াও আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ দেবনাথ রয়েছেন। প্রতিনিধি দলটির চারদিনের সফর শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 প্রতিনিধি দল চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে হদিস পাওয়া দেড় কোটি ডলারের বড় একটি অংশ ফিলিপিন্স থেকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে এই সফরে যায়। এই অর্থ ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগের কাছে রয়েছে।

 আর হদিস পাওয়া মোট এক কোটি ৮০ লাখ ডলারের মধ্যে এই দেড় কোটি ডলার বাদে বাকিটা রয়েছে ফিলিপিন্সের ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হাতে।

 বার্তা সংস্থাটি বলছে, দেশটির বিচার বিভাগ দেড় কোটি ডলারের মালিকানা দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধি দলকে মামলা করতে বলেছে। তবে ক্যাসিনোর ওই অর্থ উদ্ধারের জন্য ভিন্ন প্রচষ্টা চালাতে হবে।

 দেড় কোটি ডলার এক মাসের মধ্যেই ফেরত পাওয়া যাবে বলে রয়টার্সের কাছে আশার কথা বলেন রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ।

 হাতিয়ে নেওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশনের নামে ফিলিপিন্সের একটি মুদ্রা বিনিময় কোম্পানির মাধ্যমে পেসোয় রূপান্তরিত হয়ে চলে যায় ক্যাসিনোয়; আর বাকি অর্থ যায় ফিলিপিন্সের বাইরে।

 ফিলরেমের বিরুদ্ধেও মামলা করা হতে পারে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, “অর্থ ফেরতে তাদেরও (ফিলরেম) দায়-দায়িত্ব রয়েছে, অন্যথায় তাদের পরবর্তী পরস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।”