রাগীব আলীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই জঙ্গীদের আস্তানা

62

সিলেট, শনিবার, ৬ আগস্ট:: ঢাকার নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি। আরও রয়েছে সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই প্রতিষ্ঠাতা কথিত দানবীর রাগীব আলী। প্রতিষ্ঠান তিনটির মালিকানায় যেমন রয়েছে মিল, ঠিক তেমনি জঙ্গিবাদের সাথে এগুলোর শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততায়ও রয়েছে মিল।

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বড় দুটি জঙ্গি হামলাসহ অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় নর্থ-সাউথের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা থাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রাগীব আলীর এই প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া তারই প্রতিষ্ঠিত সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির তিন শিক্ষার্থীকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটকের পর সিলেটেও বিতর্কের শীর্ষে প্রতিষ্ঠান দু’টি।

 অন্যদিকে নজরদারিতে রয়েছে দেবোত্তর সম্পত্তির জায়গায় গড়ে তুলা জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ। এই কলেজে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরিরের কার্যক্রমও রয়েছে বলে গোয়েন্দা বাহিনী কাছে তথ্য রয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে এই কলেজের চার বিদেশী ছাত্রকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তাছাড়া ভারতের দিল্লি হাইকোর্টে বোমা হামলার ঘটনায় কলেজের ছাত্র ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে সেদেশের পুলিশ।

 নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি: ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি। রাগীব আলী এই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান সদস্য এবং এনএসইউ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য। কয়েক বছর ধরে জঙ্গি ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার গোপন তৎপরতায় প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ও প্রকাশ পায়। ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জঙ্গিবাদের অভিযোগে নামমাত্র কয়েকজনকে ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কারও করেছিলো। এর পরও জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে এই ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রশ্নের সম্মুখিন করেছে কর্তৃপক্ষকে।

 ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে নাশকতার চেষ্ঠাকালে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী কাজী রেজওয়ানুল আহসান নাফিস গ্রেফতার হয়। এর পরের বছর ঢাকায় ব্লগার রাজিব হায়দার হত্যার সঙ্গে জড়িতরাও ছিলো নর্থ-সাউথের শিক্ষার্থী। একই বছর ভার্সিটির কেন্দ্রিয় লাইব্রেরীতে অভিযান চালায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। সেখান থেকে বেশ কিছু নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের জঙ্গিবাদী বইপত্র উদ্ধার করে।

 চলতি বছরের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় ২০জন বিদেশী অতিথিকে জবাই করে হত্যা করে জঙ্গিরা। এই হামলায় অংশ নেয়া সাত সন্ত্রাসীর মধ্যে একজন ছিলো নর্থ-সাউথের শিক্ষার্থী। তাছাড়া এই ঘটনার পর জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে নর্থ-সাউথের প্রো ভিসিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

 গত ৭জুলাই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দিনে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতস্থল কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এসময় পুলিশ ও হামলাকারীদের গোলাগুলির মধ্যে নিহত হন সন্দেহভাজন যুবক আবীর রহমান। তিনিও নর্থ-সাউথের বিবিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

 সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ‘স্ট্রোম-২৬’ নামের এই অভিযানে নিহত নয় জঙ্গির মধ্যে তিনই ছিলো নর্থসাউথের শিক্ষার্থী।

 লিডিং ইউনিভার্সিটি: ২০০১ সালে সিলেটের যাত্রা শুরু হয় রাগীব আলী আরেক প্রতিষ্ঠান লিডিং ইউনিভার্সিটির। শুরু থেকে এখন অবধি নগরীর বিভিন্ন শপিং মল ভাড়া নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম। স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকলেও ইউজিসির আদেশ অমান্য করে নগরীতেই চালাচ্ছে আউটার ক্যাম্পাস। এই প্রতিষ্ঠানটিও রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারীতে। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির তিন শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশের বিশেষ টিম।

 সর্বশেষ গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া পালানোর সময় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হিজবুত জঙ্গি মাহবুব ইকবাল মুন্না নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এর আগে মাহমুদ চৌধুরী এবং মেহেদি হাসান অমি নামের আরও দুজনকে আটক করেছিলো পুলিশের জঙ্গিবাদ বিরোধী কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।