জাল দলিল বানিয়ে গুলশানের ২২ কাঠা জমি বিক্রি করেন রাগীব আলী

59

 বিলেতবাংলা ডেস্ক,৬ আগস্ট:  কথিত ‘দানবীর’ সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলীর জালিয়াতির জাল রাজধানীতেও বিস্তৃত থাকার খবর মিলেছে।

 জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দীর্ঘদিন ভোগদখলে রেখে সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে উৎখাত হবার পর  হওয়ার পর এবার তার বিরুদ্ধে  জাল দলিল দিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা গুলশানের ২২ কাঠা জমি ৭০ কোটি টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়  ভুয়া দলিলের মাধ্যমে মূল্যবান ২২ কাঠা ২ ছটাক জমি বিক্রি করে দেওয়া। এই সম্পত্তি কিনেছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বেসরকারি ব্যাংক এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। অথচ জমিটি অগ্রণী ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেওয়া।

 গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর বাড়ির ওই জমির মূল মালিক এ আর এ জুট ট্রেডিং করপোরেশন। এই প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া ঋণের বিপরীতেই অগ্রণী ব্যাংকের কাছে জমিটি বন্ধক রয়েছে। আর এ অবস্থাতেই জাল দলিল দিয়ে ওই সম্পত্তি বেচাকেনা করেছেন প্রভাবশালী ওই দুই ব্যবসায়ী। অর্থ মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, সুপ্রিম কোর্ট এবং অগ্রণী ব্যাংক থেকে পাওয়া বিভিন্ন চিঠি ও স্মারকলিপি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 এদিকে এই জমি এখন অগ্রণী ব্যাংক এখন নজরুল ইসলাম মজুমদারকে জমি পাইয়ে দিতে নানা ধরনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সরকারের একটি প্রভাবশালী অংশও চাইছে গুলশানের এই দামি সম্পত্তি নজরুল ইসলাম মজুমদারেরই হোক। যদিও সর্বোচ্চ আদালত থেকে বলা হয়েছে জমির দলিলটাই জাল। দলিল জাল করার কাজটি করেছেন ‘সেই’ রাগীব আলী।

 ২০০৪ সালে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় গুলশানের জমিটি বিক্রির জন্য রাগীব আলীর সঙ্গে চুক্তি করে এ আর এ জুট ট্রেডিং। কিন্তু বন্ধক রাখা জমি বিকিকিনিতে আপত্তি জানিয়ে অগ্রণী ব্যাংক তখন রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টেও হেরে যান রাগীব আলী, ফলে বাতিল হয়ে যায় জমির দলিল। ওই জমিকে রাগীব আলী নিজের সম্পত্তি দেখিয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদারের কাছে তা বিক্রি করে দেন।

 এ বিষয়ে জমির ক্রেতা নজরুল ইসলাম মজুমদারের দাবি, রাগীব আলীর কাছ থেকে তিনি জমি কিনেছি ৭০ কোটি টাকায়। এই জমি নিয়ে যে ব্যাংকের সঙ্গে মামলা আছে তা জমির বিক্রেতা রাগীব আলী গোপন রাখে।

 গুলশানের এ জমির মালিকানা নিয়ে ২০০৪ সাল থেকেই রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংকের করা মামলা চলমান আছে। মামলা চলাকালে জমি কেনাবেচা কীভাবে করা হলো এর কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

 প্রসঙ্গত, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রাগীব আলীর সম্পত্তি দখল করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। সুপ্রিম কোর্টের অন্য এক রায়েও তা প্রমাণিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ একটি বেঞ্চ গত ১৯ জানুয়ারি এক রায়ে বলেছেন, নিজের নামে চা-বাগানের সম্পত্তি ইজারা দেখাতে রাগীব আলী ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ ইমদাদুল হকের স্বাক্ষর জাল করে প্রায় এক যুগ সিলেটের তারাপুর চা-বাগান (দেবোত্তর সম্পত্তি) দখলে রাখেন। চা বাগান এলাকায় তিনি রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ৩৩৭টি প্লট তৈরি করে জমি বিক্রি করেন। সম্প্রতি উচ্চ অাদালতে নির্দেশে তারাপুর থেকে রাগীব আলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।