‘তৃতীয়বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ ’ ২৩ – : মাহমুদ এ রউফ

103

বিলেতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজনীতিক,কমিউনিটি নেতা মাহমুদ এ রউফ দেশে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতিতে যুক্তছিলেন। ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের  সক্রিয়  কর্মী ও ছাত্রনেতা। সিলেটের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মদনমোহন  কলেজের শিক্ষার্থী  ছিলেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে লন্ডনে আসেন ষাটের দশকের  শেষার্ধে। জড়িয়ে পড়েন বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিলেত হয়ে ওঠে তৃতীয় রণক্ষেত্র। মাহমুদ এ রউফ বিলেতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সংঘটিত আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন প্রথম সারির নেতা। তাঁর  লেখনিতে উঠে আসছে  ‘তৃতীয় বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ‘।

বিলেতবাংলা২৪.কম ধারাবাহিক প্রকাশ করছে বিলেতে বাঙালির প্রত্যয়দীপ্ত এই আগুনঝরা দিনের ইতিহাস। প্রতি সপ্তাহে  থাকছে ‘তৃতীয়বাংলায়  মুক্তিযুদ্ধ ‘।-নির্বাহী সম্পাদক।

 কিস্তি ২৩

রাজনৈতিক ততপরতা

২৪ শে এপ্রিল ১৯৭১ সালের কভেন্ট্রি  সম্মেলনের মাধ্যমে যখন ব্রিটেনের মুক্তিযুদ্ধের  পক্ষের সংগ্রামের নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ দৃষ্টিতে প্রায় অরাজনৈতিক ও অপেক্ষাকৃত অচেনা মুষ্ঠিমেয় কয়েকজনের হাতে চলে গেল, তখন রাজনৈতিকভাবে সোচ্চার বিশেষ করে  যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কার্যত হতাশ হয়ে কাজ করার ইচ্ছা হারাতে বসলো। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেলো এই সক্রিয় সংগঠনের কর্মীরা কাজ করার সুযোগ খুঁজলেও সব সময় তার আশানুরূপ ব্যবস্থা হচ্ছে না। দেশের মানুষের দূদর্শাগ্রস্ত অবস্থার অবসানের জন্য সকলে খুব আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে চায়। কিন্তু মনে হচ্ছিলো, সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

কর্মীদের মধ্যে এই রকম হতাশা এবং সুযোগের অভাবজনিত অবস্থার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৫/৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেল। এই ধরনের অচলাবস্থা রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে একটা অসহ্যকর অবস্থার সৃষ্টি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে,দেশের মুক্তাঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনঘন যোগাযোগ স্থাপনও শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শও আসা শুরু করেছে। ফলে প্রবাসেও রাজনৈতিক কর্মীদের সংঘবদ্ধ করে কাজ শুরু করার তাগিদ অনুভুত হলো। মুজিবনগর থেকেও রাজনৈতিক উতসাহ আসতে লাগলো। অন্যদিকে,মুক্তিযুদ্ধ আরো কতদিন চলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে হলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরে সাংগঠনিক ততপরতা এবং সংগঠনকে শক্তিশালি  করার প্রয়োজনীয়তার কোনো বিকল্প নেই। এই তাগিদ সকল নেতাকর্মী অনুভব করলো। ইতোমধ্যে, খবর পাওয়া গেল যে, বাংলাদেশ সরকারকে শক্তি যোগান দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের  পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি ৯  সেপ্টেম্বর গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন,আওয়ামী লীগ নেতা ও মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ১.তাজউদ্দিন আহমেদ,মুজিবনগর  সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ২.খন্দকার মুস্তাক আহমেদ,ন্যাপ( মোজাফফর)এর ৩.অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ৪.মনি সিংহ,ন্যাপ(ভাসানী)এর ৫.মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী,বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর ৬.মনোরঞ্জন ধর এবং আওয়ামী লীগ থেকে আরো দুজন সদস্য থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ উপদেষ্টা কমিটির কনভেনার নির্বাচিত হলেন।

২১ সেপ্টেম্বর  জানা গেল যে জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল জাতিসংঘে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রতিনিধি দলে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আবদুস সামাদ আজাদ ও ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ রয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক ততপরতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কারণ, এই দলীয় নেতারা জাতিসংঘে যাওয়ার আগে লন্ডনে যাত্রাবিরতি করবেন। এই সুযোগে দলীয় কর্মীদের সাথে মিলিত হবেন।

অক্টোবর মাসে জনাব আবদুস সামাদ আজাদ লন্ডনে আসেন জাতিসংঘে যাওয়ার পথে। এই সুযোগে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কাজে বিভিন্ন শহওে বেশ কয়েকটি সভায় মিলিত হন। সংগঠনকে শক্তিশালি করার উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী তাতক্ষণিকভাবে তাঁর উপস্থিতিতে লল্ডন আওয়ামী লীগের কমিটি নতুনভাবে গঠন করেন। সেই কমিটির প্রচারপত্রগুলো  কর্মকর্তা ও সদস্যদের নাম সম্বলিত ছিলো। চলবে