পিস টিভির বাংলাদেশি বক্তাদের গ্রেপ্তার দাবি ইমামদের

80

বিলেতবাংলা ডেস্ক,১৬ জুলাই : জঙ্গিবাদ ছড়ানোর অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া পিস টিভির বাংলাদেশি বক্তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ইমামরা।

শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইমাম সমাবেশে এ দাবি জানান নগরীর ১৬০টি মসজিদের খতিব ও ইমাম।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই ইমাম সমাবেশের আয়োজন করে।

পিস টিভির বক্তাদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পিস পাবলিকেশন, পিস স্কুল, পিস ক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধের আহ্বান জানান তারা।

ইমাম সমাবেশে অংশ নেওয়া কালুশাহ সিনিয়র আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আমেরি বলেন, পিস টিভিতে বাংলাদেশি যারা বক্তব্য দিতেন তারা আগে বক্তব্য রাখতেন জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইসলামী টিভিতে।

তিনি বলেন, সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা দিগন্ত টিভিতে অনুষ্ঠান করত। এটাও যখন বন্ধ হয়ে গেল তারা জায়গা করে নিল পিস টিভিতে।

“এখন পিস টিভি বন্ধ। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনলে শিগগির তারা এনটিভি ও আরটিভি’র চ্যানেলে গিয়ে ইসলামের নামে বক্তব্য রাখবে। তাই অতি সত্ত্বর তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি ইসলামী আইনে জঙ্গিদের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, কোরআনে দুনিয়াতে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির কথা আছে। জঙ্গিদের ইসলামের আলোকে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি দিলে তাদের অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

নগরীর কাটগড় ধানিপাড়া জামে মসজিদের খতিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ইসলামের অপব্যাখ্যা দেওয়ায় অনেক আগে আলেমরা জাকির নায়েকের পিস টিভি বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

দেরিতে হলেও সে দাবি পূরণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পিস টিভি বন্ধ করলে হবে না, পিস টিভির সাথে সংশ্লিষ্ট পিস পাবলিকেশন, পিস স্কুল ও পিস ক্লাবও বন্ধ করতে হবে।

পাশাপাশি জঙ্গিবাদ দমন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

নগরীর বন্দর এলাকার হাশেম সওঃ জামে মসজিদের খতিব জসিম উদ্দিন তৈয়বী বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন পিস টিভিও বন্ধ রাখতে হবে।

পিস টিভি ইসলামকে কলুষিত করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যাদের বক্তব্য পিস টিভিতে প্রচার করা হত তাদের নজরদারিতে রাখতে হবে। প্রয়োজনে রিমান্ডে নিতে হবে।

কোনো মসজিদে কেন্দ্রীয় অভিন্ন খুতবার বাইরে বক্তব্য রাখা হচ্ছে কিনা সেটাও নজরদারি করার জন্য তিনি সরকারকে পরামর্শ দেন।

ইমাম সমাবেশে নগরীর ১৬০টির বেশি মসজিদের খতিব অংশ নেন।

সমাবেশে আলেমরা ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা যাতে সবার কাছে পৌঁছুয় সেটা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “পিস টিভিতে কারা বক্তব্য রাখত সে ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নেব। ইমামদের সাজেশনগুলো আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”

ইসলামী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের পরিচালক আবুল খায়ের মো. তারেক শাহ বলেন, “চট্টগ্রামে নয় হাজার ১০টি মসজিদ রয়েছে। আমরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অভিন্ন খুতবা মসজিদে পৌঁছে দিতে সক্ষম হব।”

ইমাম সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনজিদ জমিয়তুল ফালাহ’র সিনিয়র ইমাম নুর মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ছোবহানিয়া আলীয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী ও কাতালগঞ্জ সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব আমির হোসেন বিলালী।