দাড়ি চেঁছে, নারী সেজে পালাচ্ছে আইএস জঙ্গিরা!

84

অনলাইন ডেস্ক,  ৯ জুলাই:  টুইটারে হালা জাবেরের পোস্ট করা জঙ্গিদের চেঁছে ফেলা দাড়ি ও ওয়ানটাইম শেভিং রেজরের ছবি। ছবি : টুইটার

রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলার পর এখন দাড়ি চেঁছে, বোরকা পরে নারী সেজে সিরিয়া থেকে পালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি মেইল এ খবর জানিয়েছে। ওই খবরে বলা হয়, রাশিয়ার বিমান হামলার চোটে তথাকথিত জিহাদিরা নারী সেজে পালাতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসও এ খবর নিশ্চিত করেছে।

গত সপ্তাহে আলেপ্পোতে জঙ্গিদের চেঁছে ফেলা দাড়ি ও ওয়ানটাইম শেভিং রেজরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করেন হালা জাবের নামে একজন। জাবের আবার যুক্তরাজ্যের দৈনিক সানডে টাইমসের সিরিয়া সংবাদদাতা। জঙ্গিরা আলেপ্পো থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী তুরস্কে প্রবেশ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হালা জাবের লিখেছেন, এতদিন ধরে যেসব আইএস জঙ্গি লম্বা লম্বা দাড়ি রেখে ইসলামের ‘বুজর্গ ও উদ্ধারকারী সেজেছিলেন’, তাঁরা এখন দাড়ি কেটে পালাচ্ছেন। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলা কতটা ফল বয়ে এনেছে। রাশিয়া ও সিরিয়ার যৌথ হামলায় হামলায় ছিন্ন-ভিন্ন হয়েছে জঙ্গিদের অবস্থান।

এদিকে ডেইলি মেইলের খবরে আরো বলা হয়, সিরিয়ায় জঙ্গিদের নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও ব্যাপকআকার ধারণ করেছে। অর্থ সংকট ও অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা পরস্পরের ওপর হামলায় মেতেছে। বিশেষ করে আইএস ও আল-কায়েদার শাখা জঙ্গিগোষ্ঠী আল নুসরা ফ্রন্টের জঙ্গিদের মধ্যে হামলা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে রাশিয়া হামলা চালানোর পর এরই মধ্যে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ জেনারেল আন্দ্রে কার্তাপোলোভ বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের বেশির ভাগ জঙ্গির মানসিক দৃঢ়তা ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া আইএসসহ অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে যোদ্ধা ও নেতাদের দূরত্ব বাড়ছে। আদেশ অমান্য করার অনেক ঘটনাও ঘটেছে।’

উল্লেখ্য, একটি দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তা রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা সংঘাতে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্বাস্তু হয়েছেন এক কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সুযোগে দেশটিতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে আইএস।

এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলা শুরু হয়েছে। এর পর থেকে সে হামলা কতটা তীব্র ও কার্যকরী তা জানার বিষয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে রাশিয়ার হামলার চিত্র কেমন, ‘পরাক্রমশালী’ সন্ত্রাসীদের পালানোর ঘটনার মধ্যদিয়ে তা অনেকটা পরিষ্কার হচ্ছে।